এম.জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে শুরু করেছে। গত তিন দিনে দু’উপজেলায় অন্তত তিন হাজার ৩শত রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা পুরনো ১০ হাজার রোহিঙ্গার সাথে মিশে গেছে। তাদের বেশিরভাগ আশ্রয় নিয়েছে পাহাড়ী এলাকায়। রোহিঙ্গা বাড়ার সাথে সাথে চুরি-ছিনতাইসহ অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়েছে দু’উপজেলায়। নবাগত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আহত ৮জন বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের জরিপ মতে চকরিয়ায় পুরনো রোহিঙ্গা রয়েছে ৭হাজার। নতুন রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে কিনা জানা নেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, চকরিয়ায় পুরনো রোহিঙ্গা রয়েছে ১০ হাজারের বেশী। গত তিন দিনে আরো তিন হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। নতুন রোহিঙ্গারা পুরনো রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
সরেজমিন ঘুরেও জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, চকরিয়ার খুটাখালী, ডুলাহাজারা, ফাঁশিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল ও সুরাজপুর- মানিকপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি বনভূমিতে বসতি তুলে আশ্রয় নেয়া পুরনো রোহিঙ্গাদের বাড়িতে নতুন রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে। এছাড়া চকরিয়া পৌরসভার মাতামুহুরী সেতু সংলগ্ন স্টেশন পাড়ার পুরনো রোহিঙ্গার ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক রোহিঙ্গা। বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া গ্রামেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা।
অপরদিকে পেকুয়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ইমরান হোসাইন বলেন, এ উপজেলায় তিন শতাধিক রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। তারা রাজাখালী, টৈটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নের বিভিন্নজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে রোহিঙ্গা প্রবেশের সাথে সাথে চকরিয়া-পেকুয়ায় অস্থিরতা রেড়ে গেছে। বেড়েছে চুরি-ছিনতাইসহ অসামাজিক কর্মকান্ড।
কাকারার চেয়ারম্যান শওকত ওসমান বলেন, নতুন-পুরাতন রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া না হলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবউল করিম অভিন্ন বক্তব্যে বলেন, পুরনো রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে জরিপ চালিয়ে উর্ধবতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা আছে। নতুন রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে কিনা তা খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে নবাগত রোহিঙ্গা সালমা খাতুন ও কাইছার জানায় বাংলাদেশে আসার পথে তাদের আটজন আত্মিয় উগ্র জিহাদী রোহিঙ্গাদের রামদার কোপে আহত হয়। তারা চকরিয়ায় দুটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। অভিন্ন বক্তব্যে তারা বলেন, মায়ানমার সেনারা আমাদের পাশ্ববর্তী গ্রামের বেশ ক’জন যুবককে ধরে নিয়ে যায়।
আমাদের গ্রামে উগ্র বৌদ্ধ মৌলবাদীরা দফায় দফায় হামলা করে। এসময় প্রতিটি ঘরের পুরুষ সদস্যকে জিহাদে অংশ নিতে বাধ্য করে রোহিঙ্গাদের একটি সংঘটন। যেতে রাজি না হওয়ায় বেশক’টি বসতি পুড়িয়ে দেয় তারা। এতে আমারা জীবন বাচাঁতে দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। পরে আত্মিয়দের খোঁজ নিয়ে চকরিয়ায় আশ্রয় নিই।
//ফাইল ছবি//
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: চকরিয়া-পেকুয়ায় পুরনো ১০হাজার রোহিঙ্গার কাছে আশ্রয় নতুন ৩৩শ
Rating: 5
Reviewed By: Unknown