• Latest News

    চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ: পুলিশসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ, আহত অর্ধ শতাধিক


    কক্সবার্তা ডেস্ক :
    চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুলের নির্মাণকাজ বন্ধ করার দাবিতে ঘেরাও কর্মসূচি পালনের সময় ভাঙচুরের পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এরপর সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এর মধ্যে এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়।
    গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের পাশের আউটার স্টেডিয়াম ও কাজীর দেউড়ি এলকায় এ সংঘর্ষ হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নগরের অন্তত ১০টি এলাকায় বিক্ষোভ হয়। এ সময় ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
    আহতদের মধ্যে ১৮ জন পুলিশ, দুজন সাংবাদিক ও ২৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রয়েছে। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কোতোয়ালি থানার কনস্টেবল পিকলুকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ১৭ জনকে দামপাড়া পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি ও অমিতাভ চৌধুরী বাবু, মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক রিংকু চৌধুরী, মোস্তফা হাকিম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুল্লাহ। তাঁদের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, রিংকুর গলায় গুলি লেগেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
    ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।
    রাত সাড়ে ৯টায় ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) সালেহ মোহাম্মদ তানভির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ হয়েছিল। এখনো কেউ আটক নেই। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ’ নগরের আউটার স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সুইমিং পুল নির্মাণ করছে। সেখানে সুইমিং পুল নির্মাণ না করার জন্য গত রবিবার ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। ওই দিন তারা সিজেকেএসের সভাপতি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এর আগে গত ১০ এপ্রিল লালদীঘির মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিনও আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল না করার জন্য ঘোষণা দেন। ১৫ দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ বন্ধ করে অস্থায়ী স্থাপনাগুলো সরিয়ে ফেলার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তিনি। সিজেকেএসের সাধারণ সম্পাদক হলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে কাজীর দেউড়ি এলাকায় জড়ো হতে থাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করার সময় যুবলীগের নেতাকর্মীরাও তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে। এ সময় নূর আহমেদ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আউটার স্টেডিয়ামে ঢুকতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা নির্মাণাধীন সুইমিং পুলের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও গুলি ছোড়ে বলে পুলিশ দাবি করেছে। এ সময় কাজীর দেউড়ি, লাভ লেনসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাজীর দেউড়ি বাজার এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। প্রায় এক ঘণ্টা চলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। আতঙ্কে আশপাশের এলাকার দোকানপাটসহ সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগকর্মীরা রাস্তায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
    পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নগরের ষোলশহর, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, মুরাদপুর, ওয়াসা মোড়, হালিশহর, এ কে খানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করে। এ সময় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
    জানা যায়, বিক্ষোভকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সবাই নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। লালখান বাজার এলাকায় মহিউদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগের সঙ্গে যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। মাসুম সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের অনুসারী। বিকেল ৫টার দিকে ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের শ’খানেক নেতাকর্মী কাজীর দেউড়ি থেকে ওয়াসার মোড় দিয়ে জিইসি মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। ওয়াসার মোড়ে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
    ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জিইসি মোড়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের আবারও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে একাংশ ষোলশহরের দিকে এবং আরেকটি অংশ গোলপাহাড়ের দিকে চলে যায়।
    ষোলশহরের দিকে যাওয়ার পথে হোটেল লর্ডস ইনের সামনে আবারও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পুলিশও তাদের ধাওয়া দিয়ে সিঅ্যান্ডবি কলোনির গলিতে (মামুন কমিশনারের গলি হিসেবে পরিচিত) ঢুকিয়ে দেয়। প্রায় আধাঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।
    ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কয়েক শ নেতাকর্মী কাজীর দেউড়ি এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের নাম করে অবস্থান নেয়। সুইমিং পুল নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন শেষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আকস্মিকভাবে আউটার স্টেডিয়ামে গিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে গুলিবর্ষণ শুরু করে। তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে লাঠিপেটা এবং পরে ৭০-৮০ রাউন্ড বারার বুলেট ছোড়ে।
    ওসি বলেন, ছাত্রলীগের গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল পিকলু গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলমসহ মোট ১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
    নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের হামলা ও গুলিবর্ষণে আমাদের ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালে নিয়ে গেলে সেখানে পুলিশ ঘেরাও করে। তাই আহতদের সেখান থেকে এনে বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিংকুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। আপন নামের আমাদের এক কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। ’ তিনি বলেন, ‘পুলিশ গুলি করেছে আমাদের ওপর। আমরা নিরস্ত্র ছিলাম। যে পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর শরীরে রাবার বুলেট লেগেছে। এই বুলেট তো পুলিশের কাছে থাকে। ’
    নগর পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার এ এস এম মোবাশ্বের হোসাইন বলেন, ‘ওয়াসার মোড়ে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের ওপর হামলা হয়েছে। এরপর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা হয়েছে। তবে আমাদের সামনে কোনো গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখিনি। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।'
    কালের কন্ঠ অনলাইন//

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ: পুলিশসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ, আহত অর্ধ শতাধিক Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান