• Latest News

    মহেশখালী সোনাদিয়ায় দেড় হাজার একর প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণ


    সংবাদদাতা :
    মহেশখালীর সোনাদিয়ায় প্যারাবন কেটে চিংড়িঘের নির্মাণের মহোৎসব চলছে। সরকারী বনজ সম্পদ জবর দখল করতে ওখানে শক্তির মহড়া ও অস্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত না মেনে দখলবাজরা প্রকাশ্যে অসংখ্য শ্রমিক দিয়ে প্রায় দেড় হাজার একর প্যারাবন কেটে ফেলেছে।
    সরকারী সম্পদ দখল করতে একাট্টা হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঘরানার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। সরেজমিনে বাঁধা দিতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে বনকর্মকর্তারা ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
    সূত্র জানায়, মাস খানেক ধরে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলের ঘটিভাঙ্গার হারা বাইন্ন্যার চর এলাকায় ন্যাচারাল ও সৃজিত বন ও খাস জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে চিহ্নিত তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
    মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকছুদ মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার পাশার পুত্র মোস্তফা আনোয়ার এবং বিএনপির সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদের ভাতিজা বিএনপি নেতা হাবিল্লাহ ওসব প্যারাবন কেটে সাবাড় করছে বলে জানা গেছে।
    অবৈধ দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি যেন না হয়, এ জন্য স্বশস্ত্র শক্তির মহড়া দিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা। বন বিভাগ জানায়, মোস্তফা আনোয়ারের চিংড়ি ঘের নির্মাণে বাধা প্রদান করলেও তারা মাটি এবং সৃজিত গাছ কাটা বন্ধ করছে না। এ বিষয়ে মহেশখালী থানায় মামলা করতে গেলে মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। এ কারণে বন কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় হাজার একর জমি তিন প্রভাবশালী দখলে নিয়ে গেছে। এরমধ্যে প্রায় ৫’শ একর জমির অবৈধ দখল করে চিংঘি ঘের চাষের জন্য প্রস্তুত করেছে মোস্তফা আনোয়ার। আরও প্রায় ১ হাজার একরের মত জমি দখল করে মেয়র মকছুদ মিয়া এবং হাবিব উল্লাহ স্কেভেটর ও শ্রমিক দিয়ে জোরেসুরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
    মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদে আমি পুলিশ নিয়ে ৫ বার অভিযানে গিয়েছি। থানায় অভিযোগও করেছি। ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার পুলিশ নিয়ে অভিযানে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে ৫রাউন্ড গুলিও চালাতে হয়েছে। প্যারাবন দখলে মেয়র মকছুদ মিয়া ও হাবিব উল্লাহর নাম স্বীকার করে তিনি বলেন, চিংড়ি ঘের নির্মাণের আগে মেয়র মকছুদ মিয়া আমার সহযোগিতা দরকার দাবী করে বলেছিলেন, তার কতগুলো লিজ জায়গা আছে, সেখানে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। তখন আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সার্ভে করার পরামর্শ দিই। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শীঘ্রই ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। মহেশখালীর পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া প্যারাবন দখল সত্য নয় দাবী করে বলেন, আগের জায়গাটি রোয়ানুতে ভেসে যাওয়ায় তা পুন:নির্মাণ করা হচ্ছে।dc

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: মহেশখালী সোনাদিয়ায় দেড় হাজার একর প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণ Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান