• Latest News

    গণ-সংবর্ধনা আমি পছন্দ করি না - ওবায়দুল কাদের


    কক্সবার্তা ডেস্ক :
    গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিয়েই সংবর্ধনার কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘গণ-সংবর্ধনা বিষয়টিকে আমি একদম পছন্দ করি না। কারণ আমি সবেমাত্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। এখন পর্যন্ত এমন কোনও কর্মকাণ্ড করেনি, যাতে আমাকে গণ-সংবর্ধনা দিতে হবে।’ শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নোয়াখালী জেলা সমিতি আয়োজিত তাকে দেওয়া গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে  তিনি এসব কথা বলেন।
    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জেলা সমিতির সভাপতি শাহাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক আমাকে এ ধরনের আয়োজন (গণ সংবর্ধনা) সম্পর্কে জানান। আমি তাদের স্পষ্টতভাবে বলে দিয়েছিলাম, আমি কোনও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাব না। নোয়াখালীর মানুষের সঙ্গে মত-বিনিময় করব, যা অনেক শোভন।’ তিনি বলেন, ‘তারপরও আমি তাদের দেওয়া কথা রেখে এখানে এসেছি কিন্তু তারা আমাকে দেওয়া কথা রাখেননি।’
    সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সম্মেলন গত ২২-২৩ অক্টোবর হয়েছে। আমি সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু এতদিন ধরে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে অভিনন্দন স্লোগান চলছে। এসব অভিনন্দনে সিক্ত হয়ে আমার মধ্যে অহং বোধ তৈরি হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমার অনেক ভালো লাগছে। কারণ এখানে বিকল্পধারা মহাসচিব মান্নান ভাই, বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ হাসেমসহ জেলার অনেক ব্যক্তি উপস্থিত আছেন। যারা আমার দল করেন না। হয়তো তারা আমাকে, আমার কর্মকাণ্ডকে পছন্দ করে এখানে এসেছেন।’
    নিজের জন্মস্থানে নির্বাচনের অংশ নেওয়ার স্মৃতিচারণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের পূর্বাঞ্চলের একটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচন করেছি। বারবার আমি হেরেও যেতাম। তখন আমার মা বলতেন, লোকে বলে তুমি আর এখানে জিততে পারবে না। এতে তোমার পরিবার কষ্ট পায়। তোমার কর্মীরা কষ্ট পায়, নির্যাতিত হয়। তোমার নির্বাচন করার দরকার নেই। তখন আমি মাকে বলতাম, জীবনে পিছিয়ে গিয়ে তো এগোতে পারব না। একবার মা আমাকে বললেন, এই বনে একটাই বাঘ আছে, সেটা হলো ‘মওদুদ সাহেব’ (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ)। তখন আমি মাকে বললাম, আপনি দোয়া করেন, আমি পারব। এরপর আমি ১৯৯৬ সালে জয়ী হয়ে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছি।’’
    সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি নোয়াখালীর উন্নয়নের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব। নোয়াখালী আমার জন্যভূমি, আমার নির্বাচনি আসন কিন্তু আমি বাংলাদেশের মন্ত্রী। এটা আপনাদের মাথায় রাখতে হবে। নোয়খালীর যা পাওনা, তা আমি দিতে চেষ্টা করব। কিন্তু দেশের অন্য জেলাকে বঞ্চিত করে করব না।’
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নোয়াখালী এখন আওয়ামী লীগের দুর্গ নয়। এক সময় ছিল। এখন আবার হচ্ছে। সেখানে আমাকে শেখ হাসিনা স্বীকৃতি দিয়ে নোয়াখালীকে সম্মানিত করেছেন। সেনাবাহিনীর প্রধান নোয়াখালীর, ডিজিএফআইয়ের প্রধান নোয়াখালীর। তাদের মুখ দেখে করেননি, কাজের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই আমি বলব কোনও স্বার্থে আঘাত লাগলে আমাকে ভুল বুঝে নেত্রীকে বিব্রত করবেন না। নেত্রীর পছন্দ-অপছন্দকে বিব্রত করবেন না।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ ফুল দেখলে খুশি হয়, আর আমি ভয় পাই। আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি এখানে ভালোবাসার ফুল নাকি স্বার্থের ফুল। ফুল দেওয়ার আগে কিছু বলে না। কিন্তু দেওয়ার পরে বলে, ভাই একটু কথা ছিল। আজ এখানে কত ফুল, তার পেছনে কত স্বার্থ আছে, তা হয়তো আগামীকালই বুঝতে পারব।’
    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। এর বিড়ম্বনাও কম নয়। আমি খুব ভালো করেই জানি, আমাকে ঘিরে ক্ষমতা পাওয়ার আগে কত ভালোবাসা, কত শ্রোতা। ক্ষমতা পাওয়ার পর অনেক চেনা মানুষ অচেনা হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাকে অনেক ভালোবাসেন কিন্তু তা আস্তে আস্তে কমে যাবে হয়তো। আমি নিয়মশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোন আপস করি না। অনেকই খুশি মনে এসে দুঃখ ভারক্রান্ত হৃদয়ে ফিরে যান। আর যেতে-যেতে হয়তো বলেন, তার জন্য এত কিছু করলাম, আর ছেলেটার চাকরির জন্য বললাম, তখন তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে তার পর। পরীক্ষায় পাসের পর এলে মন্ত্রীর কাছে কেন আসব? যারা এ ধরনের আশা করেন, তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আমি নিয়মনীতির বাইরে কোনও কাজ করতে পারব না।’
    আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য এম এ হাসেম, সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ, আয়েশা ফেরদৌসী, শিল্পপতি জসিম উদ্দিন, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক প্রমুখ।
    tb

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: গণ-সংবর্ধনা আমি পছন্দ করি না - ওবায়দুল কাদের Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান