• Latest News

    ফের অশান্ত মহেশখালীর কালারমারছড়া চলছে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়া

    এ.এম হোবাইব সজীব :
    একটি হত্যা কান্ডকে পুঁজি করে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া। যার ফলে কালারমারছড়ায় বাড়ছে সন্ত্রাস, খুন ও অস্ত্রের ব্যবহার। এতে কালারমারছড়ায় দীর্ঘ ১৮ বছরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা ও পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছে ৩৫ জন অধিক লোক। চোখ হারিয়েছেন ৪ জন ও পঙ্গুত্ব হয়েছেন প্রায় দুই ডজন । সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে কেউ হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান কেউ হয়েছেন কোটিপতি। এ ঘটনার সাথে প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসি দায়ী হলেও এতে মামলায় জড়ানো হয়েছে প্রায় ৭/৮ হাজার সাধারণ মানুষকে। যার ফলে কালারমারছড়ায় ৮০ ভাগ পরিবার মিথ্যা মামলার বোঝা টানাছেন দীর্ঘদিন থেকে। এর নেপথ্যে কারা সুবিধাভোগী, এ দ্বন্ধ সংঘাতের কারণে কারা লাভবান হয়েছেন এ নিয়ে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ করছেন স্থানিয় লোকজন। মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী।
    প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় ১৯৯৭ সালের ইউপি নির্বাচনের পর থেকে কালারমারছড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্ধ ও সংঘাত শুরু হয়। এর আগে কালারমারছড়ায় কোন সন্ত্রাসি বাহিনীর অস্থিত্ব না থাকলেও এ সময়েই গড়ে উঠে একাধীক সন্ত্রাসি বাহিনী। এ সব বাহিনী বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রভাব বিস্তার করলেও খুনের মত কোন ঘটনা ঘটেনি।
    ওই সময় তৎকালীন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ওসমান গণির পরিবারের সাথে পরবর্তিতে সৃষ্ট যুবদল নেতা জিয়াউর রহমানের ঘোষ্টির সাথে কালারমারছড়ার ৭ নং ওয়ার্ডে বিছিন্ন কোন ঘটনা ছাড়া তেমন বড় ধরণের ঘটনা ঘটেনি। তবে এলাকায় জনশ্রুতি আছে ২০০৭ সালে ক্রসফায়ারে নিহত সৈয়দ নুরের সাথে একটি বলি খেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সুচনা হয়। তা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। এ সব ঘটনায় ধীরে ধীরে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন প্রতিপক্ষ লোকজন। তবে নিহত সৈয়দ নূর বাঙ্গালী ও কারান্তরীণ জিয়াউর রহমানের নাম ব্যবহার করে সুবিধা ভোগ করেছেন তাদের আত্মীয় স্বজন এমন অহরহ কথার উদয় হচ্ছে স্থানিয় লোকজনের মাঝে। তাই নিহত সৈয়দ নূর বাঙ্গালী ও কক্সবাজার জেলা কারাগারে থাকা জিয়াউর রহমানের ভূইষীঁ প্রশংসা করেছেন স্থানিয় লোকজন।
    অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বেগম খালেদা জিয়া শপথ নেওয়ার পর থেকে শুরু হয় তান্ডব। বিএনপি জামায়াতের লোকজন হামলা চালায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজনের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। লুটপাট করা হয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার ফলে এলাকা ছেড়ে পালাতে হয় দুই শতাধিক আওয়ামী লীগ সমর্থিত পরিবারকে। এমনই সময়ে তৎকালীন সাংসদ কালারমারছড়া বাজারে এক জনসভায় ঘোষণা দেন কালারমারছড়ার জিয়ার নেতৃত্বেই পরিচালিত হবে কালারমারছড়া ইউনিয়ন।জিয়াউর রহমান প্রতিপক্ষের লোকজনের উপর তেমন তান্ডবে উপস্থিত না থাকলে তার আত্মীয় স্বজন এ থেকেই জিয়ার নাম ব্যবহার করে শুরু করে তান্ডব। যার একটি জলন্ত প্রমান জিয়াউর রহমান কারাগারে বন্দি অবস্থায় তার সুবিধাভোগি আত্মীয় স্বজনের একাংশ ২০১২ সালে নির্মম ভাবে খুন করে ওসমান চেয়ারম্যানকে। আওয়ামী লীগের লোক যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকে ধরে চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। সাধারণ মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে এমন কোন অপকর্ম নেই যা কালারমারছড়ায় সংগঠিত হয়নি। শুরু হয় বিভিন্ন লোকজনকে হয়রানি মুলক আসামি করার প্রক্রিয়া
    আ.লীগ নেতা জাকারিয়া জানিয়েছেন, নির্বাচন আসলেই কালারমারছড়ায় রহস্যজনক হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটে। গত উপজেলা নির্বাচনের ঠিক আগমুহুর্তে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় যুবলীগ নেতা মুজিব উল্লাহ বাদলকে। এলাকায় তার গ্রহনযোগ্যতা বাড়ায় তাকে হত্যা করা হয় এমন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনের প্রেক্ষাকালে হত্যা করা হয় রিদুওয়ান নামের এক যুবককে। তিনি আরো জানান, সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান গণীকে প্রকাশ্যে কালারমারছড়া বাজারে হত্যা করার পর সৃষ্টি হয় বিভিন্ন উপ-দল। যার ফলে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে কালারমারছড়ার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৬৩ জনকে। এ ছাড়া বিতর্কিত বেলাল হত্যাকান্ডেও জড়ানো হয় নিরাপরাধ লোকজনকে। ঠিক একই কায়দায় রিদুওয়ান হত্যাকান্ডেও জড়ানো হয় সাধারণ লোকজনকে। কোন ঘটনা ঘটলে চাহিদামত টাকা না দিলেই জড়িয়ে দেওয়া হয় মামলায়। যার ফলে এলাকা ছেড়েছেন অসংখ্য মানুষ। বর্তমানে কালারমারছড়ায় কারো জীবন এবং সম্পদ নিরাপদ নয়। ব্যবসা করতে হলে স্থানিয় প্রভাবশালীকে টাকা দিতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করলেই জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মিথ্যা মামলায়।
    অপরদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গনি গত ২৯ মার্চ ২০১২ ইংরেজী একদল বিপদগামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসমান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত তথ্য কালিন যুবদলের নেতা বর্তমানে কারান্তরীণ জিয়াউর রহমানের বসত বাড়ি সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক বসত বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে বসতবিটা দোসর মরভূমি করেছে বলে ক্ষতি গ্রস্ত লোকজন জানান। তবে একটি সূত্র দাবি করেছেন ওসমান চেয়ারম্যান এলাকায় শান্তি প্রতিষ্টা করতে যখন সামনে অগ্রসর হচ্ছেন ঠিক সে সময়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। তিনি থাকলে হয়তো এসব দাঙ্গা-হাঙ্গামা হত না সচেতন মহলের ধারনা।
    তবে স্থানিয় একাধিক সূত্রে দাবী পুলিশ, সাধারণ জনগণ আন্তরিক হয়ে কালারমারছড়ার মোহাম্মদ শাহঘোনা গ্রামের খসরু,কমলাবর এ দুইটি গোষ্ঠির মধ্যে আপোষের ব্যবস্থা করে তাহলে এ দাঙ্গা- হাঙ্গামা সামাল দেয়া সম্ভাব হবে। কিন্তু আপোষ হচ্ছে না! তবে এ সন্ত্রাসের ব্যাপকতার পেছনে দক্ষিন মহেশখালীর রাজনৈতিক নেতা ও স্থানিয় অফিস পাড়া-ফকিরজুম পাড়ার রাজনৈতিক দলের সুবিধাবাদি (দালাল) গডফাদারদের অবস্থান কে দায়ী করেছেন অনেকেই।
    অপরদিকে অনেকের পরনে হাফ প্যান্ট আবার অনেকের পরনে পুল প্যান্ট, কেউ গেঞ্জি গায়ে, কারো পরনে শার্ট, আবার অনেকের পরনে র্যাবের মতো কালো পোশাক। সবার মাথায় টুপি। এ রকম পোশাক-আষাক পরে প্রায় অর্ধ শতাধিক বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী সবার হাতে, কাঁধে লম্বা, ছোট থ্রি-কোয়ার্টার বন্দুক। এখানে শার্টার গান থেকে শুরু করে অবৈধ ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধারঘোনা, নোনাছড়ি, ২/৩ টি গ্রামের অলি-গলি হয়ে প্রধান সড়কের অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলারসহ ডজন মামলার পলাতক আসামী থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ আলী ও নিহত খলিল বাহিনীর দুধর্ষ সন্ত্রাসীরা।
    এ দুই বাহিনী নিয়মিত প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার কারণে এলাকার নারী-পুরুষেরা রয়েছে চরম আতংকে। বলতে গেলে মহেশখালীর উত্তরাঞ্চলের ৩/৪ গ্রামের ২০/২৫ হাজার মানুষ এ বাহিনীর হাতে জিম্মি। স্থানীয়দের মতে, কালারমারছড়া পুলিশ বিটের আইসি এস.আই বোরহান এদের ধরতে দুঃসাহসিক অভিযান চালালেও পাহাড় থাকায় তাদেরকে ধৃত করতে পারতেছেনা। তাদের মতে, র্যাব-পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এখানে অভিযান চালালে বিপুল সংখ্যক ভারী অস্ত্র উদ্ধারসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা যাবে। তাই তারা এ বাহিনীর বিরুদ্ধে র্যাব-পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
    যার কারনে কালারমারছড়া ইউনিয়নে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ায় এলাকায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে এ দুই বাহিনী অপ্রতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। টানা সপ্তাহ ধরে এ দুই বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হয়ে দিনদুপুরে ও রাতে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঝে মধ্যে ভূরি ভোজ করে পাহাড়ে রাতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। উক্ত সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে মদের মহাল, অস্ত্রপাচার, মানবপাচার সহ নানান অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার নিরীহ জনসাধারণ সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলতে পাচ্ছেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোক্তভোগী জানান, আমরা মুখ খুলতে পাচ্ছিনা। যদি মুখ খুলি সন্ত্রাসীরা আমাদের স্ব-পরিবারে খুন করবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। এদিকে সংঘর্ষ এড়াতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে র্যাব-পুলিশের অভিযান কামনা করেছেন সচেতন মহল।
    মহেশখালী থানার ওসি বাবুল চন্দ্র বণিক দৈনিক আমাদের কক্সবাজারকে বলেন, সন্ত্রাসীরা কোথাও মাথাচড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য পুলিশি টহল জোরদার রাখা হয়েছে। তিনি আরো ও জানান, অস্ত্র নিয়ে মহড়ার কথা আমি শুনি নাই তবে সন্ত্রাসীদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। #
    নোট : একটি নিরপেক্ষ নিউজ করতে গ্রাহকরা প্রতিদিন আমাকে ফোন করতেছে। তাই তাদের অনুরুধে নিউজটি করতে হল। কারোও গাঁয়ে লাগলে কিছু করার নেই। কলম তার নিজস্ব গতিতে চলে।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ফের অশান্ত মহেশখালীর কালারমারছড়া চলছে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়া Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান