• Latest News

    পেকুয়ায় চুরির অভিযোগে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন


    মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া:
    পেকুয়া উপজেলায় কথিত চুরির অভিযোগে নিরীহ এক যুবককে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। একটি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অভিনব কায়দায় ওই যুবককে নির্যাতন করে পরে তাকে পুলিশেও সোপর্দ করেন।
    চুরির অভিযোগে নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম মো. আবচার (২২)। তিনি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা গ্রামের হতদরিদ্র নুরুল আলমের ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে কক্সাবজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরানামা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে। শত শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সামনেই যুবকের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও ওই বিদ্যালয়ের প্রভাবশালী সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
    জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে একটি সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি চুরি হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই যুবকের কাছ থেকে চুরিকৃত বিদ্যালয়ের সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে দাবি করে তাকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে আটকে রেখে বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহ আলমের কাছে খবর পাঠান প্রধান শিক্ষক মাস্টার শামসুদ্দোহা।
    দুপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম এসে ওই যুবককে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলার নির্দেশ দেন।
    তার নির্দেশে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী জাকেরসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক ওই যুবকের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে একটি লাঠি দিয়ে দুই টেবিলের মাঝখানে ঝুলিয়ে রাখে। এরপর শুরু হয় নির্যাতন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম নিজেই লাঠি নিয়ে ওই যুববকে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই যুবক জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পেটানো বন্ধ করেন তিনি।
    এদিকে, চুরির অভিযোগে যুবককে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কর্তৃক নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন উপস্থিত কয়েকজন যুবক।
    যুবককে ধরে এনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে নির্যাতনের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ওই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের সৌর বিদ্যুৎ চুরি করেছিল ওই যুবক। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মালামালসহ ওই চোরকে আটক করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসলে সামান্য উত্তম মাধ্যম দিয়েছি মাত্র। “
    শাহ আলম আরও বলেন, “চোরদের এভাবে শায়েস্তা না করলে চুরি আরও বেড়ে যাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সোপর্দ করার পূর্বে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যুবককে এভাবে পেটানোর কোনও নিয়ম না থাকলেও কেন পেটালেন জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।
    নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের পিতা হতদরিদ্র নূরুল আলম অভিযোগ করেন, তার ছেলে ওই বিদ্যালয়ের সৌর বিদ্যুৎ চুরি করেনি। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের ইন্ধনে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক মিলে নিরীহ ছেলেকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার প্রতিকার দাবি করেছেন।
    এ ব্যাপারে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার শামসুদ্দোহার কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের সৌর বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে ওই যুবককে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।”

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: পেকুয়ায় চুরির অভিযোগে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান