মোঃ রফিক উদ্দিন লিটন, ঈদগাঁও:
কক্সবার্তা ডটকম
কক্সবাজার সদরে বৃহত্তম ঈদগাঁও প্রত্যন্ত গ্রামান্ঞলে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা।তারা বিভিন্ন এলাকায় পূর্ব পরিচিত বা নিকট আত্মীয় স্বজনের কাছে স্থান নিয়ে অবস্হান করছে বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি যে হারে রাত-দিনে গাড়ি করে রোহিঙ্গারা আসছে। এটা কোন ভাবে থামানো যাচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে বৃহত্তর এই এলাকায় আইন শৃঙ্খলা চরম অবনতি হবে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা কৌশলে অবস্হান করে সুযোগ পেলে অপরাধ অপকর্ম সংগঠিত করে নীরবে সে দেশে পালিয়ে যাবে বলে মনে করেন অনেকে।
তাই সচেতন মহলের জোর দাবি দ্রুত এসব রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নিয়ে এক জায়গায় রাখা হোক। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ককসবাজার সদর উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁওর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় নানা ভাবে আশ্রয় নিয়েছে ওপার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। তবে পূর্বে চলে এসে এলাকায় ছড়িয়ে ছিড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের বাড়ীঘরে সাম্প্রতিক সময়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা হরেক রকম কৌশল অবলম্বন করে অবস্হান করছে। অন্যদিকে এরা বাজার, ষ্টেশন সহ পাশ্ববর্তী উপ বাজারের যত্রতত্র এলাকায় বাসা ভাড়ায় অবস্হান করছে বলে জানা যায়। এদিকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভাদিতলায় সাম্প্রতিক সময়ে আসা প্রায় চার শতাধিক রোহিঙ্গা স্হান নিয়েছে বলে জানান এলাকার কয়েক ব্যক্তি। পাশাপাশি শিয়াপাড়া, দরগাহ পাড়া, হাসিনা পাহাড়,মেহেরঘোনা,নতুন অফিস সহ নানা পাড়া গাঁয়ে অবস্হান নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ। পাহাড়ী এলাকায় রোহিঙ্গাদের অবস্হানের ফলে মাদকের ছড়াছড়ি, আইন শৃংখলার চরম অবনতি হওয়ার শংকা প্রকাশ করেন এলাকার সাধারন লোকজন। তবে, গ্রামাঞ্চলে ওদেরকে সনাক্তকরণ পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়ে পড়েছে । দেখা যায়, রোহিঙ্গারা পাহাড়ী এলাকায় স্হান নিলেও দিনের বেলায় ভিক্ষা করে পরিবার পরিজনের ভরন পোশণ চালাচ্ছে। পাড়া গাঁয়ে রোহিঙ্গারা নানা ভাবে ছড়িয়ে ছিড়িয়ে যাচ্ছে। ওপার থেকে পালিয়ে আসা নর-নারীরা এখানে এসে দেশীয়দের সাথে মিশে গিয়ে বিভিন্ন রকম কাজ কর্মে সুযোগ করে নিচ্ছে। ফলে দেশীয় শ্রমবাজারে খেঠে খাওয়া শ্রমিকরা বেকায়দায় পড়েছে। ঈদগাঁও ইউনিয়নের এমইউপি কামাল উদ্দিন জানান, তার ওয়ার্ডে হাসিনা পাড়ায় শতকরা ১০ ভাগ রোহিঙ্গায় ছেঁয়ে গেছে। পূর্বে আসা রোহিঙ্গাদের বসতবাড়িতে সম্প্রতি মায়ানমারে সহিংসতার ভয়ে পালিয়ে আসা নতুনেরা ও নয়া কৌশলে অবস্হান করছে, সে সাথে এলাকায় বহু পূর্বে অনেক রোহিঙ্গা ভোটার ও হয়েছিল বলে জানান।
এদিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নুরুল আজিম কক্সবার্তাকে জানান, নতুন অফিস বাজারের পাহাড়ে, ফুটবল খেলার মাঠের পূর্বে সরকারী সামাজিক বনায়নের পাহাড়ে পূর্বে আবস্হান রত রোহিঙ্গাদের সাথে নতুন ভাবে মিশে গেছে শতাধিক পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা। এদিকে ঈদগাঁও মেহেরঘোনা ও চান্দেঁর ঘোনা এলাকায় শতকরা ২০ ভাগ রোহিঙ্গা অবস্হান করছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের পূর্ব নাপিতখালী মেম্বার সাহাব উদ্দিন জানান, কিছু নতুন – পুরাতন রোহিঙ্গা রয়েছে। জুম নগর শতকরা ২/৩ ভাগ রোহিঙ্গাদেরকে দেখা যাচ্ছে বলে জানান মেম্বার আবদু শুক্কুর। আলাপকালে কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, তারা আর কখনো মায়ানমারে ফিরে যেতে চায় না। এখানেই স্থায়ীভাবে থাকতে চায়। এ ব্যাপারে স্হানীয়রা জানান, এখন রোহিঙ্গাদের পদচারনা অনেক বেড়ে গেছে আগে কেউ আসলে গোপনে থাকে, কিছুদিন পরে ঘর থেকে বের হতো কিন্তু এখন বীর দর্পে সবাই হাটাচলা করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে হবে। তাই দ্রুত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ করা দরকার।
তবে বৃহত্তর ঈদগাঁওর এলাকাবাসীর মতে, ওপার থেকে আসা রোহিঙ্গারা আসলেই ঈদগাঁও এলাকার প্রায় গ্রামান্ঞে প্রবেশ করছে কৌশলে। তাদের কারণে এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চুরি , ডাকাতি বৃদ্ধি পাবে। স্ব স্ব এলাকার সচেতন এলাকাবাসী আর জনপ্রতিনিধি মিলে যদি এলাকায় অবস্হান করা রোহিঙ্গাদেরকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে শরনার্থী ক্যাম্পে প্রেরণ করা হলে ভাল হয়। অন্যদিকে সচেতন মহলের মতে, স্হানীয় প্রশাসন যদি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্বে কঠোর অবস্হান নেন, তাহলে এলাকা থেকে এদের সরানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন। এই বিষয়ে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খায়রুজ্জামান জানান, ঈদগাঁওতে বহিরাগত রোহিঙ্গাদের কোন ভাবেই ঠাঁই দেওয়া হবেনা। অভিযান হবেই। রোহিঙ্গা সমস্যা পুলিশের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না, এ ব্যাপারে বৃহত্তর ঈদগাঁওর সকল শ্রেনীর পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
//ফাইল ছবি//
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: বৃহত্তর ঈদগাঁওর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে রোহিঙ্গারা
Rating: 5
Reviewed By: Unknown