সংবাদদাতা:
মহেশখালীতে সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসি গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সন্তোষ প্রকাশ করলেও কোন ভাবেই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আসছে না মহেশখালীর বিভিন্ন পাহাড়ে স্থাপিত অস্ত্রের কারখানাগুলো। প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও স্থান পরিবর্তনের কারণে ধরা যাচ্ছেনা অস্ত্রের কারিগরদের। গত ৪ মাসে অন্তত ১৫০টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ। এ ছাড়াও র্যাব উদ্ধার করেছে ১৩টি অস্ত্র। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অন্তত ৩৫ জন শীর্ষ সন্ত্রাসি।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কক্সবাজার সফরকালে মহেশখালী উপজেলার অস্ত্র উদ্ধারের একটি ছবি সংযুক্ত ফাইল খতিয়ে দেখেন। এ সময় তিনি বলেন অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসি, জলদস্যুদের যেভাবেই হউক গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সাথে তাদের হাতে থাকা অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। প্রশাসন কোন অপরাধীকে ছাড় দেবে না। এ সময় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি উপস্থিত ছিলেন।
কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না মহেশখালীর পাহাড়ের অস্ত্র কারখানাগুলো। পুলিশ নিয়মিতভাবে অস্ত্র উদ্ধার করলেও মুল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পারছে না প্রশাসন। গত ৪মাসের অস্ত্র উদ্ধার দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিও গত ৪ মাসে মহেশখালী উপজেলার অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নজরে আনেন।
ইতিমধ্যে একজন অস্ত্র কারিগর পুলিশের হাতে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। পাহাড়ের গভীর অরণ্যে অভিযান চালিয়ে খুইল্যা মিয়ার কারখানা থেকে ১২টি অস্ত্র উদ্ধার করে। এতে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হয় খুইল্যা মিয়া। এখনো অন্তত ৩০/৪০ জন অস্ত্র কারিগর সক্রিয় রয়েছে ভ্রাম্যমান অস্ত্র কারখানাগুলোতে। যে চাইবে তার কাছে গিয়েই অস্ত্র তৈরী করে দেয় কারিগররা।
শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সম্প্রতি শাপলাপুরে ১৭টি অস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার হয়েছে ৮ জন। তৎমধ্যে একজন র্যাবের সোর্স রয়েছে। ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে। এই ইউনিয়নে আরো বিপুল সংখ্যক অস্ত্র আছে বিভিন্ন সন্ত্রাসিদের কাছে। তাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে কালারমারছড়ার সন্ত্রাসিদের। কালারমারছড়া ও শাপলাপুরের মধ্যবর্তি পাহাড়ে তারা নিয়মিত অস্ত্র তৈরী করে থাকে। এতে কালারমারছড়ার বিভিন্ন ওয়ার্কসপে ঝালাইয়ের কাজ করে থাকে। বিগত সময়ে এমন অভিযোগে দুইজন ওয়ার্কসপ মালিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
কালারমারছড়ার উত্তর নলবিলার মোঃ ছৈয়দ জানিয়েছেন, বর্তমানে মহেশখালীতে অস্ত্রবাজি অনেক কমে এসেছে, তবে অস্ত্র তৈরী বন্ধ হয়নি। মহেশখালীর বিভিন্ন অস্ত্র পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ অস্ত্র কারখানাগুলো পরিচালনা করে কয়েকটি সন্ত্রাসি বাহিনী। এরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করে না।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন, উপজেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছে প্রশাসন। স্থানীয় লোকজন সহযোগীতা করেছে বিধায় দুইটি অস্ত্রের কারখানা গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছি। আগামিতে প্রশাসন আরো কঠোর হবে অপরাধ দমনে।
cd-(ফাইল থেকে নেয়া ছবি)
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: মহেশখালীর অস্ত্র কারখানা এখনো নিয়ন্ত্রণহীন!
Rating: 5
Reviewed By: Unknown