• Latest News

    ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ১০০০ টাকার নোট! চকরিয়ার রাজিব ধর সহ আটক-৪


    কক্সবার্তা ডেস্ক:
    এক হাজার টাকার নোট জাল করে বাজারে ছাড়ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এর মধ্যে পুরনো (লাল) এক হাজার টাকার নোট মিলছে মাত্র ২৫০ টাকায়। আর নতুন (কালো) এক হাজার টাকার নোট মিলছে মাত্র ৩০০ টাকায়। এসব জাল নোটের মূল ক্রেতা হচ্ছেন ইয়াবা গডফাদার ও খাবারের হোটেল ব্যবসায়ীরা।
    নগরীতে ৫২ হাজার টাকার জালনোট সহ আটক চারজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নগর গোয়েন্দা পুলিশকে এই তথ্য দিয়েছেন।
    নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি-পশ্চিম) এএ এম হুমায়ুন কবির বাংলানিউজকে বলেন, আমরা একটি চক্রের চারজন সদস্যকে ধরেছি। তারা ২৫০ টাকা ও ৩০০ টাকায় হাজার টাকার জালনোট বিক্রি করে।  তবে সাধারণত এক লাখ টাকার নিচে এবং এজেন্ট ছাড়া অন্য কারো কাছে তারা বিক্রি করে না। এক লাখ টাকা লাল নোট হলে ২৫ হাজার টাকা আর কালো নোট হলে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।
    শনিবার (০৮ জুলাই) রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জালনোট চক্রের চারজনকে আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।  এরা হলেন, মনিরুল ইসলাম (৫০), ফোরকান (৩২), রাজীব ধর (৪০) এবং সোহেল (৩৫)।
    চারজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এডিসি হুমায়ুন জানান, তিনভাবে এখন জালনোট তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে টাকা থেকে টাকা। এই পদ্ধতিটি হচ্ছে, কম দামের টাকার নোটকে বিদেশ থেকে আসা এক ধরনের কেমিক্যালের মাধ্যমে পরিস্কার করে বেশি দামের নোট বানানো।
    আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, কম্পিউটার প্রিন্টিং। এই নোট ছাপানোর কাগজ ও কালি আসে সাধারণত ভারত থেকে।
    এছাড়া স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে জালনোট। আটক চারজনের কাছ থেকে পাওয়া ৫২ হাজার টাকার জালনোটের সবগুলোই স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে তৈরি বলে জানিয়েছেন এডিসি হুমায়ুন।
    সূত্রমতে, ৫০০ টাকার জালনোটকে সাংকেতিক শব্দে ‘হাফ লিটার’ এবং ১০০০ টাকার জালনোটকে ‘এক লিটার’ উল্লেখ করে চক্রটি তাদের নির্দিষ্ট দালালদের কাছে জালনোট সরবরাহ করে।  প্রস্তুত করা জালনোটের বড় অংশ যাচ্ছে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও খুলনার পাঁচজন শীর্ষ ইয়াবা গডফাদারের নাম চক্রটির কাছ থেকে পেয়েছে পুলিশ। জালনোটের আরেকটি অংশ যাচ্ছে খাবার হোটেলে।
    এডিসি হুমায়ুন কবির বলেন, ইয়াবা সিন্ডিকেটের প্রধান যারা আছে তারা ১০ লাখ, ২০ লাখ কিংবা তার চেয়েও বেশি নগদ টাকার বিনিময়ে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে। টাকার বড় বান্ডিলের মধ্যে তারা জাল নোট ঢুকিয়ে দেয়।  আর সাধারণত খাবারের হোটেলে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে ভিড় বেশি থাকে। তখনও জাল নোট ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
    সূত্রমতে, আটক চক্রের মধ্যে আরও ৭-৮ জন আছে। তবে চারজনের মধ্যে মনিরুল ইসলাম দলনেতা। ঈদুল ফিতরের আগে মনিরুল নিজেই সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা এজেন্টদের মাধ্যমে বাজারে ছেড়েছে।
    মনিরুল সাংবাদিকদের সামনে পুলিশকে জানায়, ১৮ মাস জেল থেকে গত পাঁচ রোজায় সে ছাড়া পান। ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন।  মনিরুলের বাড়ি পিরোজপুর জেলায়।  তার আসল নাম রাজু সেন। স্নাতক পাস রাজু ধর্মান্তরিত হয়ে মনিরুল নাম ধারণ করেন।
    পিরোজপুর থেকে চট্টগ্রামে এসে রাউজানের মদের মহাল এলাকায় একটি ভাতের দোকান দেন।  সেই দোকানে জসিম নামে বোয়ালখালী উপজেলার একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জসিমের মাধ্যমে ভাতের দোকানেই জাল নোটের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন মনিরুল। মুসলিম ধর্মাবলম্বী একজনকে বিয়ে করে হাটহাজারীর লালিয়ারহাট এলাকায় থাকেন স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্কচ্যুত মনিরুল।
    মনিরুল জানান, জসিম জালনোট চক্রের মূল হোতা। মনিরুল মূলত জসিমের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। জালনোট কোথায় তৈরি হয় সেটা জসিম জানেন বলে জানান মনিরুল।
    ফোরকান আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর এলাকার বাসিন্দা।নগরীর অক্সিজেন এলাকায় মুদির দোকান ছিল ফোরকানের।সেখানেই ফোরকানের সঙ্গে জসিমের পরিচয় হয় এবং জালনোটের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
    মনিরুল পুলিশকে আরও জানান, ৫২ হাজার টাকার জালনোটগুলো জসিমের কাছ থেকে পাঁচদিন আগে জসিমের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন তিনি। মনিরুল কারাগার থেকে বের হওয়ার ২০ দিন পরে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে জসিমের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। এরপর আবারও জালনোটের ব্যবসা শুরু করেছেন।
    আটক হওয়া সোহেলের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। রাঙামাটিতে সোহেল রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। রাজীব ধরের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। মনিরুলের হাত ধরে দুজন জালনোটের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
    এডিসি হুমায়ুন কবির জানান, প্রোডাকশন-ডিস্ট্রিবিউশন এবং প্লেসমেনট- এই তিন ধাপে জালনোট বাজারে আসে।  প্রথমে প্রস্তুত হয়।  তারপর নির্দিষ্ট এজেন্টদের কাছে সরবরাহ। সর্বশেষ এজেন্টদের হাত দিয়ে বাজারে যায়।  রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে জালনোটের কারখানা আছে বলে জানতে পেরেছি। nb

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ১০০০ টাকার নোট! চকরিয়ার রাজিব ধর সহ আটক-৪ Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান