এ.এম হোবাইব সজীব, মহেশখালী থেকে ফিরে:
মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউপি নির্বাচন উৎসব মূখর পরিবেশে অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে। আর মাত্র ২ দিন পর ২৩ মে ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনকে টাগের্ট রেখে উক্ত ইউপি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ৪ কেন্দ্র চরম ঝুঁকিতে রয়েছে । এসব এলাকায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমেছে। তাদের কাছে রয়েছে দেশীয় অস্ত্র ছাড়া ও ভারী সব অস্ত্র। এ তথ্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছে। এ ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিকদল ও সন্ত্রাসী গ্রুফের কাছে থাকা ভারি অস্ত্র গত ৫ বছর ধরে অক্ষত রয়েছে। জানা গেছে, র্যাব-পুলিশের অভিযানে ক্ষুদ্র অস্ত্র গুলো উদ্ধার হলে ও ভারি অস্ত্র গুলো অধরাই রয়ে যাচ্ছে। আলোচিত এ নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে ৩ প্লাটুন বিজিবি, ২ প্লাটুন কোস্টগার্ড, ৬ প্লাটুন পুলিশ এবং ৪ প্লাটুন র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া ও স্টাইকিং ফোর্স ভোট কেন্দ্র এলাকায় টহলে থাকবে।
অপরদিকে ভারি অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যা খুবই নগন্য। কিন্ত এসব অস্ত্র কোথায় ? তার হদিস পাচ্ছে না কেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব সন্ত্রাসীরা মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, ইতোমধ্যে পাড়া-মহল্লা কেন্দ্রিক সন্ত্রাসীদের আনাগোনায় আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক এলাকার বাসিন্দ্রা ও সাধারণ ভোটাররা। ইউপি নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল নিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করতেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার সাধারণ ভোটার নাম প্রকাশ না করার সত্বে জানান, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পথ সভায় এসব সন্ত্রাসীদের ঝুকিপূর্ন ভোট কেন্দ্রের আশ-পাশের এলাকায় সক্রিয় অবস্থানে দেখা গেছে। কিন্তু তারা গ্রেফতার হচ্ছেনা। ২৩ মে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নিবাচনকে টাগের্ট রেখে তাদের দলীয় গড ফাদারদের পক্ষে সন্ত্রাসী ও মাস্তানদের দল বেধেঁ এলাকায় মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পেশাদার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এখন সক্রিয় ভাবে মাঠ দাপাচ্ছে। এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের গডফাদারদের পক্ষে হয়ে জীবন বাজি রেখে হলে ও ভোট কেন্দ্র দখল ব্যালট ব´ ছিনতাই করার গোপনে পরিক্লপনা করছে বলে এমন কথার উদয় হচ্ছে। কালারমারছড়া ইউনিয়নে ঝুকিপূর্ণ ৫/৬টি ভোট কেন্দ্রে এসব দাগী সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে আশংকা করেছেন সাধারণ লোকজন।
নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটার ও সাধারণ লোকজনের মাঝে বাড়ছে উৎসবের আমেজ অন্যদিকে বাড়ছে চরম শস্কা। কারন এ নির্বাচন আদৌ সুষ্ট ও শান্তিপ্রিয় হবে কিনা গোঁলক ধাঁধায় পড়েছে ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারা। অপরদিকে প্রার্থীদের জবাব দিতে ভোটাররা ও আরামের ঘুম হারাম করে ফেলেছে।
অপরদিকে গেলো কয়েক দফা উপজেলা, সিটি করপোরেশনে ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যালেট ছেঁড়াছেড়ি, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ থাকায় সন্দেহ ও আশঙ্কা ভর করছেন কালারমারছড়া ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের। তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কতটুকু ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। কালারমারছড়া ই্উনিয়নের ভোটার মানিক জানান, আসন্ন এ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে প্রার্থী হিসেবে ব্যক্তি প্রধান্য পাচ্ছেন। প্রধান্য পাচ্ছে ভদ্র ন¤্র লোক। ভোটাররা ভোট দেবেন প্রার্থী দেখে। আমরা মার্কা বুঝিনা, যাকে সুখে দুঃখে কাছে পাবে তাকে ভোটটা দেব।
জানা গেছে, মহেশখালীর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ইউনিয়ন কালারমারছড়া। নির্বাচন ছাড়াও নানা কারণে ইউনিয়ন সব সময় আলোচনায় থাকে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কালারমারছড়া নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম চৌধুরীর অভিযোগ করে জানিয়েছেন কালামারছড়া ৭ নং ওয়ার্ডের কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, মাদ্রাসা কেন্দ্র ও ৬ নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়া কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভয়ে এসব কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিতে যেতে ভয় পাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটর সাইকেল প্রর্তীকের প্রার্থী তারেক বিন ওসমান শরীফ দাবি করেন নোনাছড়ি কেন্দ্র ও আধাঁর ঘোনা কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে ধানের শীর্ষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব এখলাছুর রহমানের অভিযোগ কালারমারছড়া ৭ নং ওয়ার্ডের বাজার কেন্দ্র গুলি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি প্রশাসনের নিরাপত্তা চেয়েছেন এসব কেন্দ্রে। বর্তমান তিন প্রার্থী জয়ের লক্ষে বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে দেখা যাক কে হচ্ছেন কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের কান্ডারী। অপেক্ষা করতে হবে ২৩ মে রাত পর্যন্ত।
এ ব্যাপারে মহেশখালী ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ট নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠের লক্ষে প্রশাসনের পক্ষে থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে কালারমারছড়া বাজার এলাকায় অবৈধ অস্ত্র থাকলে ও ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না বলে জানান। আর যারা মাথা চড়া দিয়ে উঠতে চেষ্টা করবে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে ও হুঁশিয়ারী দেন তিনি। এমনি কি গুলি চালানোর নির্দেশ রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ভোট গ্রহণ কালে কোন ধরণের ন্যাক্কার জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তড়িৎ ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে গুলি চালানোর নির্দেশ রয়েছে।