• Latest News

    সাফারি পার্কের জীববৈচিত্র হুমকির মুখে: পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় চলছেনা কোন অভিযান!



    কক্সবার্তা ডেস্ক :


    চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের জীববৈচিত্র এখন হুমকির মুখে। এই পার্ক লাগোয়া আবাদী জমির ফসলসহ বনাঞ্চলের বৃক্ষরাজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিপন্নের মুখে পরিবেশ। দেশের প্রথম সাফারী পার্কের নিকটবর্তী পার্বত্য উপজেলা লামা অংশে বনাঞ্চলের ভেতরেই অবৈধ পন্থায় পাশাপাশি ৫টি ইটভাটা গড়ে উঠায় এ অবস্থার সৃষ্টি।

    নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, ইটভাটার কারণে পার্কের জীববৈচিত্র ও পরিবেশ বিপন্ন হওয়া নিয়ে স্থানীয় ভাবে প্রতিবাদ উঠলে গত ১৪মার্চ একজন ইটভাটা মালিককে সাথে নিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা অভিযান চালায়। এ সময় ওই এলাকার দুটি ইটভাটার চিমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া ছাড়াও পানি ছিটিয়ে পাহাড়ের মাটি কেটে তৈরী করা বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইটের স্তুপ নষ্ট করে দেয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অপর ৩টি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়নি।


    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মিউনিসিপ্যাল এলাকা ব্যতিত অন্য এলাকায় ইটভাটা করতে হলে বনবিট ও বনাঞ্চলের ১০মাইল দুরে স্থান নির্ধারণ পুর্বক সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো থেকে অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এখানে গড়ে তোলা ৫টি ইটভাটার ক্ষেত্রেই কোন নিয়ম কানুন মানা হয়নি। শুধুমাত্র প্রশাসনের দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই ইট পুড়ানো হচ্ছে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে।
    ইটভাটা গুলো নিয়ে লেখালেখি হওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক সংলগ্ন বন্যপ্রাণী বিচরণ ক্ষেত্র এলাকা লামার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের বড় ছনখোলা গ্রামে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন এআরবি ও ইয়াংছা মৌজার কাঠালছড়া এলাকার এমবিসি ব্রিকস নামের দুটি অবৈধ ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। মুলত ইটভাটা দুটি স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা জেলা প্রশাসনের কোন ধরণের অনুমতি ছিলনা। তিনি বলেন, অভিযানের সময় তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন কুমারী পুলিশ ফাড়ির আইসি (ইনচার্জ) মো.বাদশা মিয়া, বনকর্মকর্তা তপন কান্তি দাস। অপর ৩টি বগাছড়ি এলাকায় স্থাপিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল বশর, আওয়ামীলীগ নেতা নুর হোসেন চৌধুরী, পিয়ারুল ইসলাম ও নজু মাষ্টারের মালিকানাধীন আরো তিনটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এ ৩টি ইটভাটায়ও পরে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।

    স্থানীয় সুত্র জানায়, চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক লাগোয়া বনাঞ্চলের ভেতরে গড়ে তোলা অবৈধ পাঁচটি ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ায় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিষিয়ে উঠে। বাতাসের সাথে নির্গত কালো ধোঁয়া মিশে গিয়ে হুমকির মুখে সাফারি পার্কের জীববৈচিত্র। এতে বিবর্ণ হচ্ছে পার্কের সবুজ গাছপালা। ইটভাটার ধোঁয়ায় কার্বন ধুলা পানিতে পড়ে পার্কের জলজপ্রাণির তি করছে। আইন উপেক্ষা করে ইটভাটা গুলো বনাঞ্চলের ভেতরে গড়ে তোলার কারনে পার্ক লাগোয়া বনাঞ্চলের মুল্যবান গাছপালা উজাড় হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া এসব ভাটায় ইট তৈরীর জন্য মাটি নেয়া হচ্ছে পাহাড় কেটে।
    চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কার্বণ ধুলা পানিতে ও বনসহ আবাদী জমিতে পড়ায় জলজ প্রাণি, বনের গাছপালাসহ ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক তি হচ্ছে। মাটি হারিয়ে ফেলছে উর্বরা শক্তি, কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৃষ্ট জৈবসার। এঅবস্থা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটি থেকে নতুন করে ঘাঁস, বাঁশের বীজ ও উদ্ভিদ জন্মায় না। এতে করে পশুপাখির সহজভাবে বেঁচে থাকার পথও বাঁধাগ্রস্থ হয়।
    সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বগাচত্বর এলাকায় ২০০০সালে বনাঞ্চলের ৯শত হেক্টর অরণ্যে ভরপুর পাহাড় নিয়ে তৎকালিন সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কটি প্রতিষ্টা করেন। লেকসহ বেষ্টনি নির্মাণ করা হয় ৬শত হেক্টর এলাকায়। পর্যায়ক্রমে আরো ৩শত হেক্টরে পশু-পাখির বিচরণ ক্ষেত্রের প্রসার ঘটানো হবে। প্রতিষ্টার পর থেকে সরকার পার্কের সৌন্দর্য্য বর্ধন ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে হরেক প্রজাতির জীব জন্তুর সংগ্রহ, এসবের আবাসস্থল সৃষ্টি, বাউন্ডারি, আলাদা আলাদা বেষ্টনী, রেষ্ট হাউস, বাংলো, মিউজিয়াম, ষ্টুডেন্ট ডরমেটরী, অর্কিড হাউজ, এনিমেল ফিডিং স্পট, পর্যবেণ টাওয়ার, বানায়ন, আভ্যন্তরিন সড়কসহ নানাস্থাপনা, পশুপাখির মোরাল নির্মাণ করে মনোরম ও দৃষ্টি নন্দন করে তুলেছে।

    বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের উধর্বতন মহলের সহায়তায় পার্ক কতৃর্পক্ষ ইতোমধ্যে এ পার্কে পৃথিবীর নানা দেশ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির জীব জন্তু, পশুপাখি সংগ্রহ করেন। বর্তমানে পার্কে হাতি, বাঘ, সিংহ, কুমির, ওয়ালবিষ্ট, কুদু, হরিণ, ভলুক, এশীয় ও আফ্রিকান তৃণভূজি প্রাণী থেকে শুরু করে শত শত প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে। রয়েছে পশু চারণ ভুমি। সাফারি পার্ক ছাড়াও বাইরের পশুপাখি যাতে আশ্রয় নিতে পারে সে জন্যে পার্কের বাউন্ডারির বাইরেও বনাঞ্চল সৃষ্টি করা হয়েছে।

    নিকটবর্তী বনাঞ্চলে গড়ে তোলা ইটভাটা গুলো বন্ধ না করলে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নজরকাড়া সাফারী পার্কটি হুমকির মুখে পড়বে। কেননা এসব ইটভাটা স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগ ও প্রশাসনের কোন অনুমতিপত্র নেয়া হয়নি। দুটি ড্রাম সিমনি ও তিনটি উচু চিমনি দিয়ে এসব ইট ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ইটভাটায় জালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ভাটা লাগোয়া সরকারী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মুল্যবান গাছপালা। ইটভাটা গুলো ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ককে তিন পয়েন্ট থেকে ঘেরাও করে রেখেছে। এসব ইটভাটার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার কার্বন ধুলা পড়ে সাফারি পার্ক ও পার্ক লাগোয়া বনাঞ্চলের গাছপালা বিবর্ণ হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে সাফারি পার্কের জীববৈচিত্র্য। সরকারী বনাঞ্চলের পাহাড় কেটে ভাটা গুলোতে ইট তৈরীর জন্য মাটিও নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও ইটভাটা গুলোর কারণে বনজ সম্পদ উজাড় হচ্ছে প্রতিনিয়ত।


    সংবাদপত্রে লেখালেখি হলে প্রশাসন ২/১দিন লোক দেখানো অভিযান চালায় মাত্র। ইটভাটা গুলো একেবারেই বন্ধ করে দেয়া না হলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামার বনাঞ্চলের বিশাল একটি অংশে পরিবেশ ধ্বস নামবে।
    //ডেইলি কক্সবাজার//
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: সাফারি পার্কের জীববৈচিত্র হুমকির মুখে: পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় চলছেনা কোন অভিযান! Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান