তামিরুল ইসলাম মিল্লাত::
বিশেষ প্রতিবেদন।।
" এমন এক রোড, যাবেনা তাকে কখনো ভূলা!
আদর করে খাওয়ায় মোদের বালি আর ধুলা!!"
আদর করে খাওয়ায় মোদের বালি আর ধুলা!!"
আপাত দৃষ্টিতে এটা স্লোগান জাতীয় কিছু মনে হলেও আসলে এই স্লোকটা ডুলাহারার একটা রোডের উদ্দেশ্যে বলা!
বলছি ডুলাহাজারা মারকাজ রোডের কথা!!
প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচরণে মুখর এই রাস্তার অবস্থা খুবই শোচনীয়।
সাধারণ জনগণের চলার পথে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে বালু এবং পাথর ব্যবসায় ব্যবহৃত বিশাল আকারের ট্রাক গাড়ির প্রতিনিয়ত চলাচলে দুর্বিষহ জনজীবন।
বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণামতে, পাথর ও নদী কাটা ব্যবসা অবৈধ হলেও কয়েক ব্যক্তি দাপটের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কতিপয় এই ব্যবসায়ীরা বেশ প্রভাবশালি হওয়ায় জনগণ মুখ ফুটে তাদের কিছু বলতে পারছেনা!
ফলে দ্বিগুণ উৎসাহে তা অব্যাহত রেখেছে এবং প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানিয়েছেন, "দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা দিয়ে ইট, বালি, পাথর সাপ্লাইয়ে ব্যবহৃত বড় বড় ট্রাক চলাচলের ফলে জনগণের যাতায়াতে বেশ সমস্যা হচ্ছে।
এ ছাড়া বাতাশে বালি উড়ে মানুষের শারীরিক নানান সমস্যা তৈরিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এখনো কেন নিরব তা বোধগাম্য নয়।"
এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক রহিম জানান," প্রতিদিন তাকে এই এলাকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। তীব্র যানজটের কারণে ৫ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে কখনো কখনো আধাঘন্টাও লেগে যায়।"
ট্রাক ভর্তি করে বালি ও পাথর নেয়ার সময় সেই বালু ও পাথরের গুড়া উড়ে এসে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের চোখে পড়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে।
পার্বত্য জেলা বান্দারবানের অধীনস্থ হারগাজা,বগাছড়ি,সাপের গারা এলাকার পরিবহনের জিপ স্ট্যান্ড এই রোডে হওয়ায় যানজট তৈরী হতে সময় লাগেনা।প্রায় রোডসম এক একটা ট্রাক আসলেই লেগে যায় তীব্র যানজট।
ডুলাহাজারার প্রায় সব বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটা হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মাঝে এক প্রকার ভীতির সঞ্চার হয়েছে।
উদয়ন আদর্শ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আরফাত কক্সবার্তা ডট কম কে বলেন," প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই রোড দিয়ে চলতে চলতে ক্লান্ত।হাটলেই মনে হয় এই বুঝি ট্রাক এসে চাপা দিল।ভয় নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে ইচ্ছা করেনা।"
এভাবে হাজার আরফাতের প্রশ্ন এখন একটাই- "এর প্রতিকার কি??"
এ বিষয়ে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের জন্য ফোন করে নাম্বার বিজি পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

