ঠিকাদারের গাফেলতির কারণে খুরুশকুল-চৌফলদন্ডী সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশ অনুসারে সড়কটির ঈদগাঁও থেকে চৌফলদন্ডী পর্যন্ত অংশে এখনো পর্যন্ত কোন কাজই হয়নি। খোদ জেলা প্রশাসকও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, খুরুশকুলের বেইলী সেতু থেকে চৌফলদন্ডী পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘উদয়ন-আব্দুল হাকিম এন্টারপ্রাইজ’। প্রকল্পের আওতায় সড়কটির ১৮ ফুট প্রশস্ত এবং সড়কে ৩টি কালভার্ট নির্মাণ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। আগামী মে মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে সময়সীমা বেঁেধ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, কার্যাদেশ অনুসারে গত বছরের জুলাই মাসে সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কিছু কাজ হয়েছে খুরুশকুল বেইলী সেতু থেকে ঈদগাঁও পর্যন্ত অংশে। ঈদগাঁও থেকে চৌফলন্ডী পর্যন্ত অংশে কোন কাজই করেননি ঠিকাদার। ওই অংশটি এখনো ক্ষত-বিক্ষত, খানা-খন্দকে পূর্ণ হয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। জরুরী মুহুর্তে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বেশি। অথচ নির্মাণাধীন এই সড়কের পাশেই বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে: কর্ণেল (অব:) ফোরকান আহমদের বাড়ি। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ নানা কাজে যাতায়াত করেন। স্থানীয়ভাবে নিত্যপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সড়কটির ঈদগাঁও অংশের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন। এসময় তিনি নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততার সাথে সড়কটির কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষনিক নির্দেশনা দেন।
নির্মাণ কাজে ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উদয়ন-আব্দুল হাকিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘নির্মাণ সামগ্রীর অভাবের কারণে নির্মাণ কাজ কিছুদিন থমকে ছিল। তাছাড়া ঘুর্ণিঝড়ের কারনে কিছুদিন সড়কটির কাজ করা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে পাশ্ববর্তী জেলা বান্দরবান থেকে নির্মাণ সামগ্রী, বিশেষ করে পাথর আনার অনুমতি পাওয়া যায়নি। এখন পাথর আনার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে। সেখান থেকে পাথর এনে সড়কে ব্যবহার করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়–য়া আমাকে নির্মাণ কাজের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামীকাল (আজ) থেকে পুরোদমে কাজ করা হবে। লোকবল বাড়িয়ে দিয়ে কাজ এগিয়ে নেবো। আশা করছি, কার্যাদেশে বেঁধে দেওয়া সময় সীমার আগেই কাজ শেষ করতে পারবো।’ ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া বলেন, ‘নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য সড়কের কাছে গড়ে উঠা অবৈধ ৩টি বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছে। বেশকিছু গাছপালাও কাটতে হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের বাঁধার মুখেও পড়তে হয়। ইতোমধ্যে সড়কটির প্রথম অংশের কাজ শেষ হয়েছে। কাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। দ্বিতীয় অংশের কাজও দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে বাকি সময়ের মধ্যে আরও প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে হবে ঠিকাদারকে।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, ‘এই সড়কের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হয়নি। সড়কটি পরিদর্শন করার পর অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ঠ সকলের সাথে কথা বলেছি। জানতে চাওয়া হয়েছে, এতোদিন পর্যন্ত কেন নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়া গেলো না। ঠিকাদারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। অন্যথায় বিষয়টি আমি দেখবো।’
-দৈনিক কক্সবাজার।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: খুরুশকুল-চৌফলদন্ডী সড়ক নির্মাণ কাজে ধীরগতি
Rating: 5
Reviewed By: Unknown