• Latest News

    ছোটগজিরবিলে মাটির নিচ থেকে রোহিঙ্গাদের খুলি-হাড়গোড় বেরিয়ে আসছে

    অনলাইন ডেস্ক:
    মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডুর ছোটগজিরবিলে বিপুলসংখ্যক মানব খুলি ও হাড়গোড় বেরিয়ে আসছে। সেই সাথে এইসব অঞ্চলে গণকবরের সন্ধানও পাওয়া গেছে। এসব দেহাবশেষ রোহিঙ্গা মুসলিমদের বলে দাবি স্থানীয়দের।

    সূত্র জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি দুইটি গণকবর থেকে পাওয়া গেছে অন্তত ১২ জনের কঙ্কাল। এইসব গণকবর থেকে মিলেছে রোহিঙ্গাদের কঙ্কাল, মাথার খুলি, শরীরের হাড়গোড়। সেই মাথার খুলি ও কঙ্কালগুলো মংডুর ছোটগজিরবিলের হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    টেকনাফে লেদা অনিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরে সম্প্রতি আশ্রয় নেয়া উত্তর মংডুর ছোটগজিরবিলের আনোয়ারা বেগম জানান, গত ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর ছোটগজিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সীমান্তরী বাহিনী। সেই তিন দিনের অভিযানে ওই গ্রামে অন্তত ৩১ জন হতভাগ্য রোহিঙ্গা পুরুষকে প্রাণ হারাতে হয়। সম্ভ্রম হারান অগণিত নারী।

    সেই থেকে উত্তর মংডুতে চলে একের পর এক ভয়ঙ্কর নৃশংসতা। স্থানীয়দের ভাষ্য এবং বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী ছোটগজিরবিলে প্রথম অভিযানের তিন মাস পেরিয়েছে। সেই সময় যেসব রোহিঙ্গারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের একইসঙ্গে মাটিচাপা দিয়েছিল নিষ্ঠুর হামলাকারীরা। সেই রোহিঙ্গাদের কঙ্কালই এখন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

    উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়নি। ছবিতে দেখা যায়, মুখমণ্ডলের ভেতরে দাঁতগুলো এখনো অত। রঙে পরিবর্তনও আসেনি। শরীরের অনেক হাড় আলাদা হয়ে গেলেও মেরুদণ্ড থেকে পাঁজরের হাড়গুলো অবিচ্ছিন্ন।

    রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, গণকবর থেকে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধারই প্রমাণ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে কী পরিমাণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা স্মরণকালের বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    স্থানীয় রোহিঙ্গাদের আপে, জাতিসঙ্ঘ দূতকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোয় নেয়া হয়নি। ফলে তিনি নির্যাতনের সত্যিকারের মাত্রাটা বুঝতেও পারেননি। আবার জাতিসঙ্ঘের কোনো দূত রাখাইন পরিদর্শনে যেতে চাইলে তাদের উত্তর মংডুর ধ্বংসস্তূপ দেখে যাওয়ার আহ্বান জানান অসহায় রোহিঙ্গারা।

    রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে ধ্বংসযজ্ঞ দেখানো হয়নি। নামসর্বস্ব কয়েকটি এলাকা থেকে ঘুরিয়ে তাকে বোঝানো হয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো রকমের নিপীড়ন চলছে না।

    একইভাবে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংজি লিকেও বহু দূরে রাখা হয়েছে আক্রান্ত এলাকা থেকে।

    বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা নির্মূলের যুদ্ধই শুরু করেছে। তারা সেখানকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রত্যেক নাগরিকের হাতে হাতে তুলে দিয়েছে মারণাস্ত্র। প্রতিরোধে টিকতেই পারছে না নিরস্ত্র বেসামরিক রোহিঙ্গারা। ফলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা।

    যদিও মিয়ানমার সরকার রাখাইনে এ ধরনের পরিস্থিতির কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
    তবে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস হামলার চিত্র উঠে আসছে।

    রোহিঙ্গারা আরো জানিয়েছিলেন, সহিংসতার শুরুর প্রথম দিকে একজন বিশেষ প্রতিনিধিকে রাখাইনে পাঠান অং সান সু চি। ওই প্রতিনিধি স্থানীয় প্রশাসনিক বাহিনীকে জানিয়ে যায়, রাখাইনকে রোহিঙ্গামুক্ত করতে হবে। ওপর থেকে এটিকে 'সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান' দাবি করা হলেও ভেতরে এর নাম 'কিয়ারেন্স অপারেশন'। সেই অপারেশন এখনো অব্যাহত রয়েছে।


    উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্তরী বাহিনীর তিনটি ফাঁড়িতে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। সেই ঘটনার দায় চাপিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হামলা করে সশস্ত্রবাহিনী। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সে দেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের উগ্রপন্থীরাও।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ছোটগজিরবিলে মাটির নিচ থেকে রোহিঙ্গাদের খুলি-হাড়গোড় বেরিয়ে আসছে Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান