কক্সবার্তা ডেস্ক : প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন প্রসূতি মা। কিন্তু ঘুমের কারণে পাশের কোয়ার্টার থেকে হাসপাতাল থেকে আসেননি চিকিৎসক। ফলে নার্সদের হাতে সন্তান প্রসব করেন ওই নারী।এমনটি করতে গিয়ে জন্মের পরপরই মৃত্যু হয়েছে নবজাতকের।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার শান্তিপুরের স্টেট জেনারেল হাসপাতালে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।এতে বলা হয়েছে, সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক সুরঙ্গমা শুকুল হাসপাতালে আসেন। ততক্ষণে নবজাতকটি মারা যাওয়ায় প্রসূতি মাকে লেবার রুমে রক্তাক্ত অবস্থা ফেলে রেখেই পালিয়ে যান তিনি।হাসপাতাল ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে প্রসব যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় শান্তিপুরের নিকুঞ্জনগর এলাকার বাসিন্দা পার্বতী বারুইয়ের। পরে তাকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।পার্বতীর স্বামী আনন্দ বারুইয়ের অভিযোগ, 'তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসি, তখন চিকিৎসক ছিলেন না। তিনি আসেন বেশ কিছুক্ষণ পরে। স্ত্রীকে দেখে বলেন, কোনও সমস্যা নেই। নর্মাল বাচ্চা হবে। বলেই তিনি চলে যান। রাতে আর দেখা মেলেনি।'আনন্দ বলেন, 'কিন্তু সময় যত বাড়তে থাকে, ততই আমার স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রনা বাড়তে থাকে। কিন্তু তার সেই যন্ত্রণাকে গুরুত্ব দেয়নি কেউ।'রাতে হাসপাতালে পার্বতীদেবীর কাছে ছিলেন আনন্দর ফুপু অঞ্জু মজুমদার। তিনি বলেন, 'রাত যত বাড়ে, বৌমার যন্ত্রণা তত বাড়তে থাকে। নার্সরা শুনে বলে চিন্তার কোনও কারণ নেই, ঠিক সময়ে বাচ্চা হবে।'তিনি জানান, প্রচণ্ড প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে রাত তিনটা নাগাদ নার্সরা পার্বতীকে নিয়ে যায় লেবার রুমে। সেখানে শুইয়ে রাখা হয়। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে ওদের দেখছিলাম। নার্সরা নানাভাবে চেষ্টা করতে থাকে। ওরা আলোচনাও করছিল যে মাথাটা প্রায় বেরিয়ে এসেছে। আমিও যেন বাচ্চাটার চুল দেখতে পেলাম।অঞ্জুদেবীর দাবি, এভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা কেটে যায়। প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছিলেন পার্বতী। সকাল হলে অভিযুক্ত মহিলা চিকিৎসক হন্তদন্ত হয়ে আসেন। এরপর বাচ্চাটিকে বের করা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই নার্সরা এসে অঞ্জুদেবীকে জানান, শিশুটি মারা গিয়েছে। 'ওরা আমাকে একটা সাদা কাগজে সই করতে বলে। কিন্তু আমি করিনি', বলেন তিনি।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাতে ওই চিকিৎসক হাসপাতালে ছিলেন না। তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন তার কোয়ার্টারে। নার্সদের দাবি, বিপদ বুঝে তারা ওই চিকিৎসককে ডেকে পাঠান। কিন্তু তিনি আসেননি। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।ঠিক কী সমস্যা হয়েছিল জানতে চাইলে নার্সরা বলেন, কোনভাবেই বাচ্চাটিকে প্রসব করানো যাচ্ছিল না। শিশুটির মাথাটা বের হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ফরসেপ ব্যবহার করে প্রসব করানো হয়। ততক্ষণে শিশুটির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এরপরে মৃত্যু হয় শিশুটির।অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হলে সমস্যা হতে পারে বুঝতে পেরে পার্বতীকে ওই অবস্থায় ফেলে রেখেই পালিয়ে যান চিকিৎসক সুরঙ্গমা শুকুল।অঞ্জুদেবীর থেকে খবর পেয়ে ছুটে আসেন পরিবারের লোকজন। তারা দেখেন, লেবার রুমের টেবিলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন পার্বতী।খবর পেয়ে ছুটে আসেন সুপার জয়ন্ত বিশ্বাস। ডাকা হয় অভিযুক্ত চিকিৎসক সুরঙ্গমা শুকুলকে। বেলা সাড়ে নয়টা নাগাদ এসে তিনি প্রসূতির জননাঙ্গের ক্ষত সেলাই করেন।অভিযুক্ত চিকিৎসক সুরঙ্গমা শুকুল বলেন, 'আমার দিক থেকে কোনও গাফিলতি নেই। মনে হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।'
ju
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: ডাক্তার ঘুমে, বাঁচানো গেল না নবজাতককে
Rating: 5
Reviewed By: Unknown