কক্সবার্তা ডেস্ক:
বগুড়ার ধুনটে ছেলে সন্তান না হওয়ায় চামেলী খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধুর শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, প্রথমে কন্যা সন্তান হওয়ায় এবং পরবর্তীতে আর সন্তান না হওয়ায় ওই গৃহবধুর শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করেন শাশুড়ি জায়দা বেগম। ফলে গৃহবধূর কোমর থেকে পা পর্যন্ত পুড়ে গেছে। গত রবিবার সকালে ধুনটের বিলকাজুলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কোনও মামলা হয়নি।
জানা গেছে, ধুনট উপজেলার বিলকাজুলী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে আবু হোসেন বিটু প্রায় ১১ বছর আগে একই গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে চামেলী বেগমকে বিয়ে করেন। ৬ বছর আগে চামেলী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এতে তিনি (গৃহবধু) স্বামী ও শাশুড়ির কাছে ‘অপয়া’ হয়ে যান। কারণে অকারণে তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। চেষ্টা করেও তাকে তাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে কয়েকদফা শালিস হলেও কোনও লাভ হয়নি। চামেলীর ওপর নির্যাতন অব্যাহত থাকে। গত রবিবার সকাল ৯টার দিকে স্বামী আবু হোসেন বিটু কাজে যান। এ সময় বউ শাশুড়ি এক সঙ্গে রান্না করছিলেন। কন্যা জন্ম দেওয়া ও নতুন করে কোনও সন্তান না হওয়ায় শাশুড়ি জায়দা বেগম কটুক্তি করেন। গৃহবধু চামেলী প্রতিবাদ করলে শাশুড়ি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তিনি চুলায় থাকা ডিম সিদ্ধ করা গরম পানি তার শরীরে ঢেলে দেন। এতে চামেলীর ডান পাশে কোমর থেকে পা পর্যন্ত পুড়ে যায়।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন জানান, ‘গরম পানিতে গৃহবধুর শরীরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে।’
ধুনট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লাল মিয়া এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কয়েকদফা সালিশ বৈঠক করলেও সমঝোতা হয়নি।’
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সোমবার দুপুর পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
