মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের বহলতলী চিংড়ীঘের থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে র্যাবের অভিযানে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন। এসময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা। পরে গ্রেপ্তার সেই তিনজনই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কিন্তু আটককালে নিজেদের খুটাখালী ইউনিয়নের বহলতলী এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিল অভিযান পরিচালনাকারী র্যাবকে। সেই পরিচয়েই তাদের বিরুদ্ধে র্যাব অস্ত্র আইনে মামলা রুজু এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তাদের চকরিয়া থানায় সোপর্দ করে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।
এদিকে সেই চিংড়িঘেরের মালিককে ধরার জন্য হন্য হয়ে খুঁজছে পুলিশ ও র্যাব। পুলিশ জানায়, র্যাব থানায় সোপর্দের পর আটককৃতদের পুলিশ প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে আসল পরিচয় দেয় তারা। শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে (১৯৪৬ সনের বৈদেশিক নাগরিক সম্পর্কিত আইনের ১৪ ধারা) আরেকটি মামলা রুজু করে র্যাব। গ্রেপ্তার তিন রোহিঙ্গা হলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু থানার চরপেংচাই গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে মোঃ আইয়ুব আলী (২১), একই এলাকার মোহাম্মদ হোছনের ছেলে মোঃ আয়াছ (২২) ও ইনসং গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আবদুল হামিদ (২৩)।
চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, র্যাবের অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র–গোলাবারুদের সঙ্গে ধৃত তিনজনই রোহিঙ্গা নাগরিক বলে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের আরো একটি মামলা নিই। এর আগে র্যাবের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়ার পর অস্ত্র মামলা নেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, র্যাবের পক্ষ থেকে থানায় করা অস্ত্র মামলায় একজন চিংড়ি ঘের মালিককেও আসামি করা হয়েছে। তার নাম আবদুল আউয়াল। তিনি খুটাখালী ইউনিয়নের বহলতলী এলাকার মৃত নুর আহমদের পুত্র।
আটক তিন ব্যক্তিকে থানায় সোপর্দের পর পুলিশকে জানায়, তাদেরকে ঘের মালিক আবদুল আউয়াল চিংড়ি ঘেরের পাহারায় নিয়োজিত রেখেছিল। সেই সাথে এসব অস্ত্রশস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। এসব অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তারা ঘের পাহারা দিতেন।