এ.এম হোবাইব সজীব, মহেশখালী থেকে ফিরে:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সিংহ ভাগ মানুষ বাস করে উত্তর মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়নে। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর মহেশখালীর মানুষ এলাকার আধিফত্য বিস্তারের কারনে নিরভয়ে কোন দিন রাত যাপন করতে পারেনি। প্রতিনিয়ত ওই স্থানে কোন না কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিত কিছু প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কারনে। বলতে গেলে উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত ইউনিয়ন কালারমারছড়া কম বেশী প্রতিটি ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসীদের উপ-গ্রুপ সৃষ্টি করেছে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বসবাস করা নেতারা।
বিগত ৫ বছর ধরে এ ইউনিয়নে জমি দখল, চিংড়ী ঘের দখল, লবণের মাঠ দখল, পান বরজ দখলসহ বিভিন্ন কাজে আধিপত্য বিস্তার ঘটনার ক্ষেত্রে মানুষ খুন হয়েছে এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছে সহায় সম্বল হারিয়ে মৃৃত্যু পুরির রূপ ধারণ করে অত্র ইউনিয়ন। প্রতিপক্ষ কমলাব’র ঘোষ্টির লোকজনের ভয়ে এলাকা ত্যাগ করেছে খসরু ঘোষ্টির লোকজন। তার পর এই এলাকায় শান্তি ফিরে আসেনি। গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বিশাল ভোট ব্যাংক থাকায় উক্ত সাধারণ মানুষ আঞ্চলিকতার টানে তারেক শরীফকে বিজয় করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে বলে জানা গেছে।
স্থানিয় লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এ বিজয় ধরে রাখতে হলে প্রথমে কালারমারছড়া ইউনিয়নে আধিফত্য বিস্তার বন্ধ করে সাধারন মানুষের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে। জানা গেছে, বিগত ১০ বছর পূর্বে কালারমারছড়ার ছিল মহেশখালীর শান্তির প্রিয় এলাকা। কালারমারছড়ার পাশ্বর্তী ধলঘাট, শাপলাপুর ও হোয়ানক ইউনিয়নের লোকজন সওদা করতে আসতেন। এখন তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে প্রায়। অত্র এলাকার প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বসবাস করে আসছে।
কালারমারছড়ার মানুষ কৃষি, লবণ,চিংড়ী চাষ ও পান বরজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বিগত ৬/৭ বছর পূর্বে লবনের মাঠ দখল ও বেদখল নিয়ে সংর্ঘষের মধ্য দিয়ে অত্র এলাকায় হানিহানির মাত্রা বেড়ে যায় সাধারন মানুষের মনে। অত্র ইউনিয়নের বেশি ভাগ মানুষ দরিদ্র। শিক্ষায় পিছিয়ে অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ে বিগত সময়ে রাজনৈতিক পালা বদন হলে ও অত্র ইউনিয়ন থেকে তেমন কোন নেতা নেতৃত্ব দেওয়ার মত স্থানে পৌছাতে পারেনি । যার ফলে সঠিক নিদের্শনা ও উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ার ফলে সাধারন মানুষের কাছে রাজনৈতিক নেতাদের কদর খুব বেশী কম। প্রতি হিংসার রাজনৈতির শিকার হয়ে বিগত ১০ বছরে কালারমারছড়ার অসংখ্য মানুষ অকালে প্রাণ হারিয়েছে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের কোন্দলের কারনে।
বিগত ৫ বছর ধরে অত্র এলাকার মানুষ শান্তিতে একদিন ঘুমাতে পারেনি।
সরকারী আইন থাকলে ও সঠিক ভাবে প্রয়োগ নেই বললেই চলে কে শুনে কার কথা। একেক টি রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র ছায়ায় ৫ থেকে ৭টি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার কাজে নিয়োজিত করে রেখেছে। সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলি প্রতিশোধ পরায়ন হওয়ার কারনে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা সাবেক মেম্বার জবল চৌধুরী ও সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান গণির মত লোক খুন হলে মামলা জড়িয়ে পড়ছে নিরহ মানুষ। এত কিছুর পর সাধারন মানুষ চাই একটু শান্তি অবশেষে ঘুম ভাঙ্গল অত্র এলাকার মানুষের এবারের তরুণ রাজনৈতিক বিদ তারেক বিন ওসমান শরীফকে বিজয় করেছে তারা। যার সুফল পাবে কি তারা?
জানা গেছে, গত ২০১২ সালের পর থেকে একটি হত্যাকান্ডকে পুঁজি করে কালারমারছড়া প্রতিপক্ষ কমলা’বর গ্রুফের ভয়ে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে পালিয়ে থাকা খসরু গ্রুফের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ গত রবিবার সকালে নিজ বাড়ি ঘরে ফিরতে চাইলে কালামারছড়া বাজারের স্থানিয় চেয়ারম্যান তারেক শরীফ তাদেরকে বাড়ি ঘরে ফিরতে বাঁধা দেয় বলে জানিয়েছেন গৃহহারা শামসুনাহার, বানু বেগম হামিদ উল্লাহ, বদিউল আলম, সবুজ,কাইয়মন,হুমায়ুন কবির’সহ অনেকে।
তারা আরোও বলেন, তখন কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি রাজু দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তারা প্রশাসনের দারস্থ হলে প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পারছেনা বলেও জানান। অপরদিকে স্থানিয় চেয়ারম্যান তারেক আইনশৃংখলা অবনতি হওয়ার আশংকায় মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে খসরু ঘোষ্টির লোকজন নিজ ঘরে ফিরতে চাইলে বাঁধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন এমন কথার উদয় হচ্ছে সচেতন লোকজনের মাঝে। এটা কি সত্য কথা নাকি উড়ে কথা! তবে অনেকে মনে করছেন হত্যার মত ঘটনা যেন খসরু ঘোষ্টি জন্ম দিতে না পারে সে জন্য স্থানিয় চেয়ারম্যান তারেক জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নিবার্হী অফিসারের অনুমতি নিয়ে আসতে পারলে বাড়ি ঘরে ফিরতে বাঁধা দেওয়া হবে বলে যদি সুদুর উত্তর দিয়ে থাকেন তা হলে ভাল করছেন বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শান্তি শৃংঙখলা বজায় রেখে বাড়ি ঘরে ফিরতে চাই বলে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে খসরু গ্রুফের মহিদুল ইসলাম, তারেক আজিজ ও সরয়ার আজমের পেইজে। স্ট্যাটাসের মন্তব্য সত্যি কথা নাকি উড়ে কথা এমন কথার উদয় হচ্ছে সচেতন এলাকাবাসীর মাঝে।
তবে স্থানিয় একাধিক সূত্রে দাবী পুলিশ, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন ইব্রাহিম, বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক শরীপ, আওয়ামীলীগ নেতা সেলিম চৌধুরী, জিয়াউর রহমান ও সাধারণ জনগণ আন্তরিক হয়ে কালারমারছড়ার মোহাম্মদ শাহঘোনা গ্রামের খসরু ও কমলা’বর এ দুইটি গোষ্ঠির মধ্যে আপোষের ব্যবস্থা করে খসরু ঘোষ্টির লোকজনকে অতীতের দ্বিধা দ্ধন্ধ ভূলে গিয়ে তাদের বাড়ি ঘরে ফিরতে দিলে তাহলে এ দাঙ্গা-হাঙ্গামা সামাল দেয়া সম্ভাব হবে। কিন্তু আপোষ হচ্ছে না! আপোষের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছেনা উপজেলা ও জেলার শীর্ষ স্থানি নেতা ও প্রশাসনের কর্মকতারা।
তবে এ সন্ত্রাসের ব্যাপকতার পেছনে রাজনৈতিক নেতা ও স্থানিয় রাজনৈতিক দলের সুবিধাবাদি (দালাল) গডফাদারদের অবস্থান কে দায়ী করেছেন অনেকেই। তবে দাঙ্গা হাঙ্গামা ছাড়া নিজ ঘরে ফিরতে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের হস্তেক্ষেপ কামনা করেছেন দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকা খসরু ঘোষ্টির লোকজন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে দুই গ্রুফের শত শত লোকজন অত্র ইউনিয়নের মুখামুখি অবস্থান নেওয়া যে কোন মুর্হুতে রক্তক্ষয়ীর সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ছাড় দিতে নারাজ হওয়ার কারনে সাধারণ লোকজন আতংকে রয়েছে বলে এলাকার অনেকে জানিয়েছেন।
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ( পিপিএম বার) বলেন, পুলিশের চলতি অভিযান জোরদার রয়েছে, সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মামলার আসামী ছাড়া পালিয়ে থাকা সাধারণ লোকজন নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে করা হবে।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: মহেশখালী কালারমারছড়ায় দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা
Rating: 5
Reviewed By: Unknown