• Latest News

    বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে কোটি টাকার উন্নয়ন কাজে অনিয়ম, তদন্তে নামছে দূদক


    ডুলাহাজারা প্রতিনিধি:
    কোন ধরণের সরকারি সংস্থার তদারকি ছাড়াই পাচঁ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের নামে লুটপাট চলছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। এই কাজের দরপত্র আহবানে মানা হয়নি সরকারি নিয়মনীতি এবং পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়নি। গত বছরের ২০ অক্টোবর গোপনীয়ভাবে ঠিকাদার নামদারী পাঁচ ব্যাক্তির একটি সিন্ডিকেটের নামে টেন্ডার দেখিয়ে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। চট্রগ্রাম বন্যপ্রাণী অভয়রারণ্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম মওলা ও অফিস সহকারী মোঃ আরিফ সরকারের রাজস্ব বিভাগের বরাদ্দকৃত অর্থে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের উন্নয়নের নামে ডিএফও এবং ঠিকাদারের পকেট ভারি করাতে সচেতনমহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মোটা অংকের টাকা লুটপাট হওয়ার আশংকায় সাফারি পার্কের উন্নয়ন নিয়ে বর্তমান সরকারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ও মহতি উদ্যোগ ভেস্তে যেতে চলছে।
    স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে গত বছরের ২০অক্টোবর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্রগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম মওলা পত্রিকায় কোন ধরণের দরপত্র আহবান না করে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সাড়ে ৩কোটি টাকার ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ঠিকাদার নামদারী জামায়াতি কিছু ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ওই কাজ তড়িগড়ি করে লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ৫ ব্যক্তির মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই কাজ গুলোর টেন্ডার নাম্বার ৯নং থেকে ১৩নং পর্যন্ত বন্যপ্রাণী ২০১৬-১৭ অর্থ বছর (উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ শীর্ষক) প্রথম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় আরসিসি পরিখা খনন ৫টি, (কোড নং ৭০৮) এবং টেন্ডার নং ১৪ রাস্তা ও কালর্ভাট নির্মাণ কোড নং ৪৯৪১)। নামে মাত্র ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হল, মাজেদুল ইসলামী উজ্জলের মাজেদ কনস্ট্রাকশন, নাজমুল হক পিয়ারুর রিজবি কনস্ট্রাকশন, লিটনের তালহা এন্টার প্রাইজ, শরাফত উল্লাহ বাবুল, রোমেন ও নুর হোসেন সাফারী পার্কের সহকারী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম সহ ৫জনের একটি সিন্ডিকেট। ইতোমধ্যে তারা ডিএফও গোলাম মওলা ও সহকারী মোঃ আরিফের যোগসাজসে ৫০ভাগ কাজ শেষ না করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা বিল উত্তোলন করে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে ঠিকাদারী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটটি বিগত ১৫ বছর ধরে সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে উন্নয়ন কাজের সিংহভাগ টাকা লুঠপাট করেছেন।
    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , সাফারি পার্কের বাউন্ডারী ওয়ালের লাগোয়া আরসিসি পরিখা খনন, রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণে ওই ঠিকাদারী সিন্ডিকেট নিন্মমানের ইট, বালি, পাথর, লোহার রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করে সম্পূর্ণ দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আরসিসি পরিখা খননে লোহার রড ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সেক্ষেত্রে ইটের সুরকির সাথে বালি ও সিমেন্ট মিশ্রিত করে মাটির উপর হাল্কা প্রলেপ দিয়ে যেনতেন ভাবে কাজ চালিয়ে যচ্ছে। এতে করে পরিখা খনন কাজ শেষ হতে না হতে তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। একইভাবে রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণেও নিন্মমানের ইট ও বালি এবং সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।
    নেই সরকারি কোন তদারকি, নেই ঠিকাদারের উপস্থিতি। নেই সাফারি পার্কের কর্তৃপক্ষের নজরদারী। কাজ চালাচ্ছেন মেস্ত্রী আর শ্রমিক দিয়ে। পরিখা নির্মাণে দেখা গেছে মাটির ড্রেইন করে কোথাও পলিথিন দিয়ে কোথাও আবার পলিথিন ছাড়াই ঢালাই করছেন। কোথাও কোথাও ঢালাই কাজ ভেসে গেছে অল্প কয়েকদিনের বৃষ্টিতে। তাছাড়া চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারীতে বিজ্ঞপ্তি নং- ১৬ থেকে ১৭, কোটেশন বিজ্ঞপ্তি সূত্র ২০ থেকে ২৫ এবং ১/২০ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য অব ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে টেন্ডার আহŸান করে ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোড নং-৪৯২৬ মূলে ডরমেটরি ও ব্যারাক রোমত, কোড নং-৪৯৯১মূলে রক্ষনাবেক্ষন ও পূর্ণবাসন, কোড নং-৭০০১ মূলে ভূমি উন্নয়ন, কোড নং-৭০১৬মূলে প্রাণীদের জন্য খাবার জায়গা তৈরী, অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, সাইন বোর্ড তৈরী, ভাল্লুকের জন্য রান্না ঘর নির্মাণ, কোড নং-৭০৫৩ মূলে সাব-ষ্টেশন,জেনারেটর কানেকশনের নামে মাত্র কাজ অত্যান্ত গোপনে দায়সারা ভাবে করে যাচ্ছে ঠিকাদার নামের সিন্ডিকেটটি। এছাড়াও গত ২০ ফেব্রুয়ারিতে ২০১৬-২০১৭অর্থবছরে সূত্র : ২৬-২৮/ বন্যপ্রানী, আহবানকৃত টেন্ডার মূলে বেশ কিছু কাজ গোপনে করা হচ্ছে সাফারি পার্কে। একাধিক সূত্র জানা গেছে, সাফারি পার্কের কাজের অঘোষিত ঠিকাদার ও প্রকৌশলী হল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম মওলা। ঠিকাদার আছে নামে মাত্র তার ইশারায় চলছে কোটি কোটি টাকার লুটপাট ।
    সাফারি পার্কের উন্নয়নের নামে ইতিপূর্বে শেষ হওয়া প্রায় বিশ কোটি টাকার কাজের বর্তমানে কোন অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। উপরোক্ত কাজ চলাকালিন সময়ে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় প্রকল্পের মেরামত কাজ আবার কিছু চলতি কাজের অংশে ঢুকিয়ে পুনরায় নির্মাণ চলছে। সর্বোপরি আবারো ও চলছে হরিলুট।
    জানতে চাইলে চট্রগ্রাম বন্যাপ্রাণী অভয়ারণ্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা গোলাম মওলার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। সেটি অফিসের ফাইলে থাকবে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন সিডিউল মতো কাজ করা হচ্ছে কোন অনিয়ম হচ্ছেনা। এদিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষক জাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ,যদি ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দরপত্র বিহীন উন্নয়ন কাজ হয় এবং সেখানে কোন ধরনের অনিয়মও দুর্নীতি হয় তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাফারি পার্কে এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান,পার্কের উন্নয়নের নামে সরকারের বিশাল অংকের টাকা কয়েক ব্যক্তি আত্মসাৎ করবে তা মেনে নেয়া যায় না। তারা অতিসত্বর দুদকের তদন্ত দাবী করেছেন।
    এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত কার্যালয়ে চট্রগ্রামের পরিচালক মোঃ আবু সাঈদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান সরকারের রাজস্ব তহবিলের বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়ে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের উন্নয়নে যদি কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয় তাহলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে কোটি টাকার উন্নয়ন কাজে অনিয়ম, তদন্তে নামছে দূদক Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান