• Latest News

    পেকুয়ায় তরুণ আলো প্রকল্পের নামে বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থ হরিলুট চলছে!


    মোঃ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া:
    কক্সবাজারের উপকূলীয় পেকুয়া উপজেলায় এনজিও কমিউনিটি ভেলেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) এর বিরুদ্ধে ‘তরুণ আলো’ প্রকল্পের নামে নানান ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতিসহ বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত তিন মাস ধরে যেনতেন ভাবে নির্বাচিত ১০টি স্কুল/কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থায়নে বাস্তবায়িত উক্ত প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা পেকুয়ায় অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। পেকুয়ার সচেতন মহল অবিলম্বে কোডেকের ‘তরুণ আলো’ নামের প্রকল্প থেকে দাতা সংস্থার কর্তৃক অর্থায়ন বন্ধসহ অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিষয়টি তদন্তের জন্য সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার ১০টি স্কুল/কলেজ ও মাদ্রাসায় গত মে মাস থেকে এনজিও কোডেক ‘তরুণ আলো’ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। পেকুয়ায় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য এনজিও কোডেক দুইজন মাঠ কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক নিয়োগ করে পেকুয়া সদরের মিয়া পাড়া গ্রামে একটি কার্যালয়ও ভাড়া নিয়েছেন। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক একটি দাতা সংস্থা সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের নামকরা এনজিও রাজধানী ঢাকার অভিজাত গুলশান এলাকায় অবস্থিত ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সাথে চুক্তি করেছেন। আর মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন তিন বছর মেয়াদী তরুণ আলো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য উপ দায়িত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের খুলশী থানার অন্তর্গত ফয়েস লেক এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) কে। এনজিও কোডেক মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অধিভূক্তি সিরিয়াল নম্বর হচ্ছে ৫৩। আর তরুণ আলো প্রকল্পটি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় বাস্তবায়ন করছেন কোডেক। এ সুযাগে পেকুয়ায় প্রকল্পের নামে তারা দাতা সংস্থার অর্থ লুটপাঠে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগও রয়েছে।
    জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক দাতা সংস্থা জিসিইআরএফ ফান্ডের অধীনে ‘তরুণ আলো’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর এসাইনমেন্ট অফিসার সিরাজুল ইসলাম খান গত ২২/০৯/১৬ইংরেজী তারিখে ৮১২ নং স্মারকমূলে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালককে পত্র দিয়ে ‘তরুণ আলো’ প্রকল্পটির ১ম বর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেন। এরপর মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন পেকুয়ায় তরুন আলো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোডেককে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগীতায় এনজিও কোডেক তিন বছর মেয়াদী ওই প্রকল্পের কাজ যথাসময়েও শুরু করেনি। আর ২০১৬ এর ১ অক্ট্বোর থেকে কাজ শুরু করে কমূসূচী বাস্তবায়ন করেছে মর্মে বিভিন্ন ভূঁয়া কাগজপত্র তৈরী করে বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থ লুট করে নিচ্ছে প্রকল্পের কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, কায়দে আজম ও নাছির উদ্দিন সিন্ডিকেট। কায়দে আজমের বিরুদ্ধে নানান ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগও তুলেছেন স্থাণীয়রা।
    অরো জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলায় ২০১৬ ইংরেজী ১ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হলেও সরেজমিনে পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য। এনজিও কোডেকের তরুণ আলো প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. হেলাল উদ্দিন, পেকুয়ায় কর্মরত তরুণ আলো প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা এম কায়দে আজম ও নাছির উদ্দিন যোগসাজশ করে ভূঁয়া কাগজপত্র তৈরী করে ওই ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে কর্মসূচী বাস্তবায়নের নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে পেকুয়া উপজেলার দুইটি কলেজ, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি মাদ্রাসার নির্বাচিত তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, তাদের সম্মিলনের মাধ্যমে য়ৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্র তৈরী করা এবং সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবি ও অন্যরা এক সাথে হয়ে সকল ধর্মের উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে একটি সহিঞ্চু সমাজ গঠন প্রক্রিয়াই ওই তরুণ আলো প্রকল্পের লক্ষ্য। কিন্তু কোডেকের অধিনে নিয়োগকৃত দূর্নীতিবাজ ও অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে পেকুয়ায় বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত তরুণ আলো প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল অভিমত প্রকাশ করেছেন।
    সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে গড়ে ২ জন করে ২০ জন শিক্ষার্থীকে আইসিটি বিষয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও কোডেক দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। কম্পিউটার প্রশিক্ষককে প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী সম্মানীও প্রদান করা হচ্ছেনা বলে জানা গেছে।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেকুয়া কলেজ ও কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একধিক শিক্ষার্থীরা এ প্রতিনিধিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দায়সারাভারে বিতর্ক প্রতিযোগীতার আয়োজন করে বিজয়ীদের নি¤œমানের পুরস্কার প্রদান করে। আর কোডেকের তরুণ আলো প্রকল্পের পেকুয়ার মাঠ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের ৪-৫ ঘন্টা বসিয়ে রেখে নি¤œমানের কিছু নাস্তা দিয়েও আপ্যায়ন করানো হয়। এ নিয়ে প্রকল্পভূক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
    তরুণ আলো প্রকল্পের পেকুয়ার মাঠ কর্মকর্তা কায়দে আজমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পেকুয়ার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে যথাযথভাবে কর্মসূচী বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখানে কোন ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছেনা বলে তিনি দাবী করেছেন্
    এনজিও কোডের তরুণ আলো প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. হেলাল উদ্দিনের সাথে এ বিষয়ে জানতে গত ১৪ আগষ্ট মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ডিসেম্বর থেকে পেকুয়ায় তরুন আলো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে হেলাল উদ্দিন কোন ধরনের সদুত্তর না দিয়ে আর কথা বলতে রাজি হননি।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: পেকুয়ায় তরুণ আলো প্রকল্পের নামে বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থ হরিলুট চলছে! Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান