• Latest News

    ১৩ বছরেও শেষ হয়নি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার


    কক্সবার্তা ডেস্ক:
    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা ও দলটিকে নেতৃত্বশূন্য করতে দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম নৃশংস বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার বিচার ১৩ বছরেও শেষ হয়নি।
    বিচারকাজে বিভিন্ন আদালত পরিবর্তন, উচ্চ আদালতে আসামিদের বিভিন্ন আবেদনসহ নানা কারণে বিলম্ব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষগ্রহণ শেষ হওয়ায় চলতি বছরে এ মামলার বিচারকাজ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
    রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় প্রসিকিউশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। রয়েছেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলও।
    বিলম্ব হওয়ার কারণ সম্পর্কে আইনজীবীরা জানান, মামলাটি দুই দফা তদন্তে সময় লেগেছে ৬ বছর। তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন ছয়বার। আসামিপক্ষ বিভিন্ন সময় হাইকোর্টে যাওয়ায় ২৯২টি কার্যদিবস তথা প্রায় দু’বছর মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিলো। প্রায় ৮ মাস ধরে মামলাটির চার্জ শুনানির পর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে।
    এছাড়াও শুরুর দিকে মামলার তদন্তের নামে এর আলামত ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক আলামত ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। জজ মিয়া নাটক সৃষ্টি করে মূল আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও মামলাটিতে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।
    ২০০৮ সালের ১১ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে প্রথম চার্জশিট দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র সহকারী সুপারিন্টেনডেন্ট ফজলুল কবির।
    চার্জশিট দাখিলের পর মামলার বিচার শুরু হয় ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত মাত্র ৭ মাস ১২ দিনে ট্রাইব্যুনাল ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
    কিন্তু, ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনক্রমে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডের উৎস, এর মদদদাতা, সরবরাহকারী ও পরিকল্পনাকারীর নাম উল্লেখ না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের অধিকতর তদন্তের আবেদনক্রমে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
    এবার মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ। ১৩ আগস্ট থেকে তিনি মামলাটির অধিকতর তদন্ত শুরু করেন। ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্ত শুরু শেষ হয়। দুই দফায় তদন্তে সময় লাগে ৬ বছর।
    সম্পূরক চার্জশিটে আসামি হন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মন্ত্রী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরও ৩০ জন। এতে আগের ২২ জনসহ মোট আসামি দাঁড়ায় ৫২ জনে।
    ২০১২ সালের ১৮ মার্চ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগ গঠন করে ফের বিচার শুরু হয়।
    মামলার ৫২ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে আছেন।
    মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক মন্ত্রী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও জেএমবির সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের ফাঁসি ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।
    এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ কয়েকজন আসামি কারাগারে আটক আছেন।
    অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৮ জন আসামি পলাতক আছেন।
    মামলার আটজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- মুফতি হান্নান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ হাসান সুমন ও রফিকুল ইসলাম সবুজ।
    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী।
    এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।
    পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে স্থাপিত ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অস্থায়ী আদালতে মামলার বিচারকাজ চলছে।
    এ মামলায় ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে আসামিদের সাফাই সাক্ষ্য চলছে। এর মধ্যে ১১ জনের সাফাই সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। বর্তমানে আসামি মাওলানা শেখ আবদুস সালামের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য চলমান রয়েছে। ২২ ও ২৩ আগস্ট এ মামলায় পরবর্তী সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
    nb//ফাইল ছবি//

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ১৩ বছরেও শেষ হয়নি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান