এ. এম হোবাইব সজীব, কালারমারছড়া থেকে ফিরে:
অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে দীর্ঘ ৯ বছর পর আগামী ২৮ জুলাই অনুষ্টিত হচ্ছে বহুল আলোচিত ইউনিয়ন মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল। এ নিয়ে কালারমারছড়া দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে এসেছে চাঙ্গাভাব।
তবে এ সম্মেলনকে ঘিরে একদিকে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা প্রচারনা চালালেও রয়েছে নানা রকম জল্পনা ও কল্পনা।
এনিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির তৃর্ণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও বাঁধভাঙ্গা আনন্দ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দল ক্ষমতা না থাকলে ও বহু বছর পর সম্মেলনকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে কালারমারছড়ার জননপদ।
তবে সবার দৃষ্টি কালারমারছড়া বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক পদের দিকে। এ দুই পদ নিয়ে কাউন্সিলার, ডেলিগেট ও নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা - কল্পনা। কে হচ্ছেন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে মাঠে নেমেছেন অর্ধ ডজন
প্রার্থী। এ অর্ধ ডজন খানেক প্রার্থীকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা। তবে এ দুই পদের পিছিয়ে নেয় কেউ। নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে কাউন্সিলদের ধারে ধারে সমান তালে চলছে জোর লবিং। তবে তৃর্ণমূলের নেতারা বলছেন, অতীত মনে রেখে দলকে সামনে অগ্রসর করতে যারা গত কমিটির শীর্ষ আসনে ছিল দলের কেন্দ্রীয় কমসূর্চিতে যাদের দেখা মিলেনি তাদেরকে যেন পুনরায় শীর্ষ দুই পদে স্থান দেওয়া না হয়। যদি তারা স্থান পায় কালারমারছড়া বিএনপির কমিটি ভাঙ্গনের সুর বইবে এটাই নিশ্চিত।
সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির ঘরনার অনেকে স্ট্যাটাট দিয়ে মন্তব্য করেছেন। এবং সোস্যল মিডিয়ায় প্রচারনা চলছে চোখে পড়ার মত।
বিএনপির পরিবারের কালারমারছড়ার শাহাজাহান তার পেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাপিয়ে দেওয়া কমিটি নয়, যোগ্য এবং যারা দলের দুঃ সময়ে এবং তৃর্ণমুলের সাথে যোগাযোগ রাখে এমন সভাপতি ও সম্পাদকের মনোনিত করতে হবে। দলকে বাঁচাতে আত্মীয় করনের প্রয়োজন নেই বলে তিনি দাবী করেন।
মহেশখালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শফিউল আলম শফি ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াদ মোঃ আরাফাত হোসাইন বলেন, কালারমারছড়া যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি যদি কালারমারছড়া বিএনপিতে প্রত্যেক ভোটে সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় তা হলে একটি শক্তিশালী কমিটি হবে।
সভাপতি ও সম্পাদক পদের প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নিজের আখের গোছানো ওয়ার্ড কমিটি দেওয়ার নামে পকেট কমিটি দেওয়া ও দলের শৃংঙলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এসব খতিয়ে দেখে সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে একটি সময় উপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ কমিটি অনুমোদন দেবেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট নুরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক আবুবক্কর ছিদ্দিক। এখন সবার দৃষ্টি তাদের দিকে।
সম্মেলনকে ঘিরে সভাপতি প্রার্থী হিসাবে মাঠে নেমেছেন, ২জন এরা হলেন, মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র- সহসভাপতি ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান আহবায়ক আবু তাহের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সহ- সভাপতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এখলাছুর রহমান।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন ৩ জন। এরা হলেন, কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জসিম উদ্দিন চৌধুরী,যুগ্ম আহবায়ক আব্দু শুক্রুর ও সদস্য আবুল কালাম। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নাম শোনা যাচ্ছে উপজেলা বিএনপির সদস্য এনামুল হকের। তবে সবার নাম এখনো স্পর্শ হয় নি। অনেকে গোপণে প্রচারনা চালাচ্ছেন এমন কথা ও শোনা যাচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৯ সালে কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কমিটি ঝিমিয়ে পড়ায় গত বছরে শেষের দিকে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুতাহের চৌধুরীকে আহবায়ক ও আলহাজ্ব এখলাছুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
এর পর থেকে গত ৭ বছর দেখা মিলেনি সম্মেলনের। দলে যথাযত মূল্যায়ন না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ে সিনিয়র নেতা কর্মীরা। যার ফলে
এসব নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যক্রম থেকে অনেকটাই দুরে সরে যান। দীর্ঘ ৭ বছর পর সম্মেলনের কথা শুনে ফের চাঙ্গা হয়েছে জড়ে পড়া এসব নেতাকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত কালারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সেই কাঙিখত দুইপদ সহ নতুন কমিটির প্রত্যাশা নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছে সম্মেলনের দিন পর্যন্ত। এ সম্মেলন ও কাউন্সিলকে সফল করতে কালারমারছড়া আসছেন অর্ধডজন জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০০৯ সালে গঠিত কমিটিতে কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের চৌধুরীকে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন মিটিং মিশিলেএ দেখা গেলে গত ৭ বছরে দেখা মেলেনি সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলমের। তিনি নিজেকে বিএনপি পরিবারের লোক দাবী করলে দলের কোন কমসূর্চীতে দেখা যায়নি বলে জানালেন উক্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া। তিনি আরোও বলেন, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও আমি সাংগঠনিক সম্পাদক কোন সময় এক টেবিলে বৈঠক হয়নি, যার কারণে অভিবাবক বিহীন ও দায়সারাভাবে চলছিল কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপি।
অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ২০০৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আলহাজ্ব এখলাছুর রহমান দুই বার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দায়িত্বরত থাকাকালীন তৃর্ণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখায় রাজ পথ ছিল সরগরম। তারা বিগত দিনের মত একটি কমিটি চায়।
এদিকে দুই জন হেভিওয়েট সভাপতি প্রার্থী থাকলে ও সম্পাদকের পদের ৩ জন হেভিওয়েট প্রার্থীরা নিজের অবস্থান জানান দিতে কৌশলে প্রচারনা চালাচ্ছেন। তবে সম্পাদক প্রার্থী জসিম উদ্দিন চৌধুরী তার আর্দশ সাবেক কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সফল সভাপতি বর্ষিয়ান রাজনৈতিকবিদ মোক্তার আহমদ চৌধুরী ও তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সম্পাদক পদে আসীন হতে পারেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে। তবে দেখা যাক কে হচ্ছেন সভাপতি ও সম্পাদক। অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুবক্কর ছিদ্দিক বলেন, আমরা ২৮ জুলাই সম্মেলন স্থলে গিয়ে সবার সাথে পরামর্শ করে সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচন করব। যদি পারা না যায় নতুন সিন্ধান্ত নিয়ে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার পরিক্লপনা রয়েছে।
মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট নুরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপি ঢেলে সাজাতে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করার পরিক্লপনা রয়েছে।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: কালারমারছড়ায় ঝিমিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের চাঙ্গাভাব, দীর্ঘ ৯ বছর পর সম্মেলন
Rating: 5
Reviewed By: Unknown