কক্সবাজার ডেস্ক :
শহরের কলাতলী এলাকার কটেজ জোনে বেপরোয়া ভাবে বেড়ে গেছে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো জঘন্যতম ঘটনা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই সিন্ডিকেট দুইটি অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে বারংবার অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করলেও এই সিন্ডিকেটের অন্যতম দুই অপহরণকারীকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ। এদিকে ৭ জুলাই বিকেলে মহেশখালীর ছাবের নামে এক যুবককে অপহরণ পূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে জয়নাল রিসোর্টে। পরে মুক্তিপন আদায় করেছে সিন্ডিকেটটি। কিন্তু ছাড়া পাইনি অপহরণের শিকার যুবক। তবে এই অপহরণের ঘটনা নিয়ে পুলিশের তোড়জুট শুরু হলেও ৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপহরণের শিকার যুবককে উদ্ধার ও অপহরণকারিকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে শহরের মধ্যম বাহারছড়ার পুতুর পুত্র গিয়াস (২৫) ও মাছ ব্যবসায়ী ছৈয়দ আহমদের পুত্র আছাদ (২৫) এর নেতৃত্বে একদল দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী ও অপহরণকারী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই দুজনের নেতৃত্বে রয়েছে ৭/৮ জনের মোটরসাইকেলবাহী একটি অপহরণকারী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা দিনে দুপুরে পর্যটন এলাকায় চালায় তাদের সন্ত্রাসী কর্মকা- ও রামরাজত্ব। এমনকি রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে তরুণ-তরুণীদের ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় কটেজগুলোতে। প্রতিবাদ করার সাহস করে না কেউ। যে কারণে প্রতিনিয়ত বেপরোয়াভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেটটি।
এদিকে অন্যান্য ঘটনার ন্যায় গত ৭ জুলাই বিকেলে মহেশখালীর ছাবের আহমদ নামে এক যুবক কঙ্বাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ঘুরে কঙ্বাজার শহরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে পেঁৗছলে বাজাজ ভি-১৫ সাদা ও নীল রংয়ের অবৈধ একটি (কাগজপত্র বিহীন) মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে হাজির হয় গিয়াস আর আছাদ। পরে ছাবেরে কোমরে ছুরি ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় জয়নাল রিসোর্টে। এ সময় সবার চোখ আড়াল করে কৌশলে ছাবেরের নামে বোকিং দেখিয়ে রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ছাবেরের মোবাইল থেকে ছাবেরের আত্মীয় স্বজনদের ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে ছাবেরকে মেধড়ক পিঠিয়ে তার ছোট ভাইসহ আত্মীয় স্বজনদের শুনানো হয় যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য। পরে আছাদের দেয়া বিকাশ নাম্বার (০১৭৫৫-৯৬০৮০২) এটিতে প্রথমে না পিঠানোর জন্য ৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয় ছাবেরের ছোট ভাই। এক পর্যায়ে ছাবেরকে উদ্ধারের জন্য আত্মীয় স্বজন জয়নাল কটেজে যাওয়ার কথা শুনে অপহরণকারী গিয়াস ও আছাদা বিকেল ৫টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে ছাবেরকে কটেজ থেকে সরিয়ে পেলে। পরে স্থানীয় লোকজনসহ অপহরণের শিকার ছাবেরের আত্মীয়-স্বজন কটেজে যায় এবং পাশবর্তী আল-হোছাইন কটেজের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে অপহরণকারি সিন্ডিকেটের সদস্যদের সনাক্ত করা হয় এবং বিষয়টি কঙ্বাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত বড়ুয়াকে অবগত করা হয়। পরে তিনিসহ ওসি তদন্ত কামরুল আজম, ওসি অপারেশন মাইন উদ্দিন এবং এস.আই আবুল কালাম যৌথভাবে অপহরণের শিকার যুবককে উদ্ধার ও অপহরণকারিদের ধরার জন্য কাজ শুরু করে। কিন্তু ৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে স্থানীয় লোকজন জানায়, গত ২৬ রমজান শহরতলীর লিংক রোড এলাকার এক গৃহবধূ ঈদ বাজারে কেনা-কাটা করতে যাওয়ার সময় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে থেকে সিএনজি থামিয়ে ধরে নিয়ে যায় জসিম আর আছাদ। পরে স্থানীয় সী-হোম কটেজে ডুকিয়ে বেধড়ক মারধর করে নগদে ১৮ হাজার টাকা ও সামসাং জে-৭ মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। এভাবেই প্রতিনিয়ত চলছে গিয়াস ও আছাদের নেতৃত্বে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো জঘন্যতম ঘটনা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শহরের বাহারছড়ার আছাদ ও গিয়াসের প্রতিবেশি মো. হোছন নামে এক ব্যবসায়ী ঘটনার মিমাংসা করার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মো. হোছনের কাছে আছাদ আর গিয়াস অপহৃত যুবককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও উক্ত যুবক ৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাড়ি ফিরেনি এবং কোন আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এই ঘটনার ব্যাপারে কঙ্বাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত বড়ুয়া বলেন, অপহরণকারীরা যেহেতু সনাক্ত হয়েছে সেহেতু কোন অবস্থাতেই রেহাই পারবে না। বেঁচে থাকলে আইনের আওতায় আসতে হবে। ইতি মধ্যে এই পুরো সিন্ডিকেটটিকে ধরার জন্য পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। cd
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: কক্সবাজারে বেপরোয়া অপহরণ সিন্ডিকেট
Rating: 5
Reviewed By: Unknown