• Latest News

    চকরিয়ায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সময় কাটে নিজেদের পকেট সরগরমে!


    মোঃ নাজমুল সাঈদ সোহেল, চকরিয়া:
    কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরের কক্সবাজার -চট্টগ্রাম মহাসড়কের সৃষ্ট যানজটের কারণে জনদূর্ভোগের যেন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। চলাচলরত পথচারীর মুখে একটাই প্রশ্ন আমরা জামযটের থেকে কখন মুক্তি পাব? সরকারি ব্যাবস্থাপনায় পৌর শহরকে যানযটমুক্ত রাখতে নির্দিষ্ট ট্রাপিক পুলিশ থাকলেও যানজট নিরসনে যেন নির্বিকার।
    চকরিয়ায় পৌরসভার গ্রেড উন্নিতকরণের পর থেকে নিয়মতান্ত্রিক সকল ব্যাবস্থাপনা থাকার পরও এর সুফল থেকে বঞ্চিত কিছু অসাধু শ্রেণীর কর্মকর্তার কারনে। ইতোমধ্যে চকরিয়া পৌর মেয়র মোঃ আলমগীর চৌধুরী ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম যানযট নিরসনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।যানযট নিরসনের ভিত্তিতে বেশ কয়েকবার মোবাইলে কোর্ট পরিচালনা করেন ইউএনও সাহেদুল ইসলাম। কিন্তু তার পরের দিনই পরীলক্ষিত হয় সেই আগের চিত্র বিরাজমান। কারণ নিয়মিত দ্বায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সদস্যের অবজ্ঞা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই নেই।
    স্থানীয়রা জানান, শহীদ আব্দুল হামিদ বাসটার্মিনাল চত্বরে ট্রাপিক পুলিশ ডিউটি করতে কখনো দেখিনি, প্রতিনিয়ত দেখা মিলে ঢাকা ব্যাংকের নীচে একটি গাড়ির কাউন্টারস্থ একটি দোকানে আড্ডারত অবস্থায় সার্জেন্ট নিজামসহ তার সহযোগীদের। তাদের অধীনস্থ বেশ কয়েকজন দালাল রয়েছেন এদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল যাত্রী উঠানামার স্থান থাকলেও যাত্রী উঠানোর জন্য পুরাতন বাস ষ্টেশন চত্তরে এলোপাথারী গাড়ি ট্রাফিকদের সামনেই দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, বিনিময় গাড়িপ্রতি ৫০টাকা করে নেয়। এর প্রেক্ষিতে যানজট লেগেই থাকে।
    চকরিয়া পৌরশহরের বক্স রোডে ছারপোকা ও ম্যাজিক গাড়ি ইচ্ছেমত দাড়িয়ে যাত্রী উঠানোর মাধ্যমে সৃষ্ট যানযটের আরেকটি কারণ। তাদের কাছ থেকে নেন মাসিক মাসোয়ারা। বক্স রোডের পশ্চিম পাশ থেকে বদরখালি, মানিকপুর, পূর্ব পাশ থেকে কৈয়ারবিল, ডুলহাজারা তিন চাকার সিএনজি ও টমটমে ছাড়ার নির্দিষ্ট জায়গা ব্যাবহৃত হওয়ায় সৃষ্ট যানযটের আরেকটি কারণ। এসব লাইন পরিচালনার অফিস থেকে আসে মোটা অংকের মাসিক মাসোয়ারা সার্জেন্ট নিজামের পকেটে। তিন চাকাবিশিষ্ট কোন যানবাহন মেইন রোডে আসার অনুমতি না থাকলে ও মাসিক বিনিময়ের কারণে আইনের তোয়াক্কা করেনা কোন গাড়ির চালক।
    নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জানান, টমটমের কারনে সৃষ্টি হচ্ছে দূর্ঘটনা। অনেকাংশ গাড়ি কন্ডিশন ভাল নেই মঙ্গলবার সকালে একটি টমটম গাড়ির চাকা খুলে গিয়ে একটি দেওয়ালের সাথে ধাক্কা দেয়। চিরিংগা বানিজ্যিক এলকায় ওয়ান ওয়ে চলাচলের কথা থাকলেও চলছে একমূখি ফলে সৃষ্টি হয় যানজট।'
    প্রত্যক্ষদর্শী তুহিন বলেন, এমনিতেই চকরিয়াতে প্রচুর বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে। টমটম গুলা তো আর তেল দিয়ে চলে না। আমি মনে করি পিডিবির কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারনে আজকে হাজার গাড়ি কোনো নিয়ম ছাড়া চলছে। চট্রগ্রাম ও ঢাকা শহরের মতো অটোরিক্সার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করলে হয়ত দেখা যাবে পুরো ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। আমাদের চকরিয়াতে আনুমানিক তিনশত টমটম গাড়ি চলছে। তবে বর্তমানে চকরিয়াতে তিন হাজারেরও অধিক গাড়ি পিপড়ার মত রাস্তায় খিলখিল করছে।
    ভুক্তোভোগী কয়েকজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, সার্জেন্ট নিজামের একমাত্র ডিউটি হল সকাল থেকে লেটেষ্ট বাইক (মোটরসাইকেল) কোনটা যাচ্ছে সেদিকে নজর বেশি তার, কারণ একটাই একটি বাইক যদি ভিড়ানো যাই নিমিষেই চলে আসে পকেট ৩-৪হাজার টাকা। কোনদিকে যানযট লেগে থাকল এতে কোন খবর নেই। ঘুষ নেওয়ার সময়ে নাকি সে নিজেকে ধার্মীক ও দাবী করেন এবং দাম্ভিকবতার বলে বেড়ান তিনি দীর্ঘ ৬-৭বছর যাবৎ চকরিয়ায় আছি কেউ দুর্নাম করতে পারবে না,সবাই আমাকে ভাল জানে। সবার সাথে ভাল ব্যাবহার করে বন্ধুত্বের সাথে চলি। আসলে কি তাই সেই প্রশ্নটি ছুড়ে দেয় সংস্লিস্টতা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগী জনসাধারণের? তার বিরুদ্ধে মুখ না খোলার জন্য সে জায়গামত মেনেজ করে নেন।
    সাধারণ জনসাধারণ মনে করেন অচিরেই অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন একই জায়গায় বহালতবিয়তে দায়িত্বে থাকলে এমনই চিত্র পুনরাবৃতি ঘটতে থাকবে। তাই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে চকরিয়ায় জনসাধারণ দূর্ভোগের ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: চকরিয়ায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সময় কাটে নিজেদের পকেট সরগরমে! Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান