মোঃ রফিকুল ইসলাম, লামা:
বান্দরবানের লামার ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষক কে জনসম্মূখে পিটালো ছাত্রের অভিভাবক। স্কুলের ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্র শাসন করাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার শিক্ষার্থীর চাচা আনোয়ার হোসেন প্রকাশ্যে শিক্ষককে মারধর করে। এদিকে ভয়ে ও লোকলজ্জায় নিরবে এমন অপমান সহ্য করে যাচ্ছে ইংরেজী বিষয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলাম।
শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলাম প্রতিবেধককে বলেন, আমি ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক ও একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার একটি পা নেই। ৭ম শ্রেণীর ছাত্র আবু নায়েম নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতনা। তার বাবা ডাক্তার শাকের তাকে শাসন করতে বলায় আমি নায়েম কে শাসন করি। ৭ জুন বুধবার বেলা ১২টায় স্কুল পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আলী আকবর আমাকে স্কুল থেকে ডেকে পাশের মোকারমের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে ছেলের চাচা আনোয়ার হোসেন প্রকাশ জর্দ্দা আনোয়ার ছাত্রের বাবা ডাক্তার শাকের এর নির্দেশে আমাকে প্রকাশ্যে জুতা পিটা করে। এসময় ওয়ার্ড মেম্বার শহীদুল ইসলাম মিন্টু সামনে থাকলেও বাধা দেয়নি। ভয়ে ও লোকলজ্জায় বিষয়টি আমি কাউকে বলিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, একজন শিক্ষক কে জনসম্মূখে জুতা দিয়ে মারধর করা গুরুতর অন্যায়। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা স্কুল ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়েছি।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথাবার্তা চলছে। ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা অন্যায় হয়েছে। ছাত্রের অভিভাবকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
লামা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাকে বিষয়টি কেউ জানায়নি। তবে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা ঠিক হয়নি। বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে।
অপরদিকে শিক্ষককে মারধর করার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলার সকল মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এবিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা লামার শীর্ষ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: লামায় প্রতিবন্ধী শিক্ষককে প্রকাশ্যে জুতা পিটা, সর্বমহলে নিন্দা ও ক্ষোভ
Rating: 5
Reviewed By: Unknown