• Latest News

    চকরিয়ায় আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে ছাত্রদলের সময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর অত্যাচার


    চকরিয়া প্রতিনিধি :
    চকরিয়ায় উপকূলীয় পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশ কাটা এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যূ টাইগার সালাহ উদ্দিন বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। তার নিজস্ব গড়ে তোলা বাহিনীর কাছে এলাকার ৪ হাজার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, চিংড়ী চাষী থেকে শুরু করে গরীব অসহায় দিনাতিপাত মানুষ গুলি সালাহউদ্দিনের অত্যাচার চাঁদাবাজির কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে। গতকাল ১৯ এপ্রিল বিকালে ওই এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে টাইগার বাহিনীর প্রধান সালাহউদ্দিনের কুকীর্তিতে অতিষ্ঠ স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য দেন।
    স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভোক্তভোগীরা জানায়, বিএনপি রাজনীতি থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারী সালাহউদ্দিন পশ্চিম বড় ভেওলার দরবেশকাটা এলাকার মৃত বশির আহমদের পুত্র।তার পিতার মৃত্যেুর পর থেকে সে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
    ছাত্র রাজনীতির শুরুতে ছাত্রদলের হাতে খড়ি দিয়ে সালাহউদ্দিনের রাজনীতির পথচলা শুরু। সে ছাত্র থাকাবস্থায় দরবেশ কাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরে একাধারে পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এবং বিগত ইউনিয়ন যুবদলের বেলাল-জকরিয়ার কমিটিতে সিনিয়র সদস্য পদেও অধিষ্টিত ছিলেন। ২০১৩ সালে ঘোষিত মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা যুবদলের দায়িত্ব থাকা কালীন টাইগার সালাহউদ্দিন ২০দলীয় জোটের ডাকা জ্বালা-পোড়াও আন্দোলন সংগ্রামে উপকূলীয় এলাকায় বদরখালী -মহেশখালীর সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে হরতাল, অবরোধ ও বিস্ফোরকের মতো নানা বড় ধরণের ঘটনার বিএনপির শীর্ষ ক্যাডার হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়াও সে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালীন ২০০৯সালে ৪আগষ্ট এলাকায় ত্যাগী এক আওয়ামীলীগ পরিবারের জমি জবর-দখল করতে গিয়ে শত শত জনতার সামনে অবৈধ লম্বা বন্দুক ও ধারালো কিরিচ দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি করে এবং কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। ওই ঘটনায় সালাহউদ্দিন গুলি করার সময় স্কুলে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীর গায়ে লেগে গেলেও সে কোনমতে প্রাণে বেচেঁ যায়। যার মামলা নং-২৫৬/০০৯। এ ছাড়া যুবদলের নেতৃত্বে থাকাকালীন দরবেশ কাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদকে তুচ্চ বিষয় নিয়ে জনসম্মুখে মারধর এবং টেনে হিছড়ে লাঞ্ছিত করেন। একের পর এক নানা ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে টাইগার সালাহউদ্দিন নিজেকে এলাকায় শীর্ষ ক্যাডার হিসেবে চিহ্নত করেন। তার বিরুদ্ধে চাদাঁদাবী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ভুমিদস্যুতার অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকার সচেতন মহল জানান। বিএনপির রাজনীতিতে থাকাকালীন সালাহউদ্দিন ২০১৫সালে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালা পোড়াও আন্দোলনে নলবিলা চেক পোষ্ট এলাকার চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিস্ফোরকের ঘটনায় জড়িত থাকায় বিস্ফোরক দ্রব্য (বিশেষ ক্ষমতা আইন) পুলিশের মামলায় এজাহার নামীয় তালিকাভুক্ত ১৯নম্বর আসামী হিসেবে অন্তভূক্ত রয়েছে। সে আজ সরকার দলীয় বাস্তুহারা লীগের মাতামুহরী উপজেলা কমিটির নাকি সভাপতিও বটে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন আসলে তার ক্ষমতার খুটির জোর কোথায়? হঠাৎ বিএনপি রাজনীতি থেকে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামীলীগে স্থান নিয়ে দলীয় নাম ভেঙ্গে প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই সন্ত্রাসী টাইগার সালাহউদ্দিন অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
    কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, বিএনপি-ছাত্রদলের এক সময়ের দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী টাইগার সালাহউদ্দিন এলাকায় আমার ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের নাম বিক্রি করে নিরীহ লোকজনকে হয়রাণীসহ নানা অপকর্ম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ওই সন্ত্রাসী আওয়ামী পরিচয় দেওয়ার কেউ নয়। তাকে পেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তোলে দেওয়ার আহবান করেন।
    চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, টাইগার সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজী ও প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ ইতিপূর্বে একাধিকবার অভিযানও চালিয়েছে। এলাকার কোন নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: চকরিয়ায় আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে ছাত্রদলের সময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর অত্যাচার Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান