• Latest News

    ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গ্রাহকরা : টেকনাফে রবি নেটওয়ার্ক ভোগান্তি, ক্ষুদ্ধ মুঠোফোন সেবী

    মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
    টেকনাফ শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিন দিন রবি নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে রবি গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। একদিকে রবি নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে মুঠোফোন ব্যাবহারকারীদের মধ্যে ৮৫ ভাগ নেটওয়ার্ক সেবীরা পড়েছে বিপাকে, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থও হচ্ছে তারা। রবির কলড্রপ, সংযোগ স্থাপন, কল গ্রহণ করতে না করতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন ইত্যাদি রবি কোম্পানীর জগাখিচুর কারণে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় বিভিন্ন এলাকায় রবি টাওয়ারে হামলার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমন মুখরোচক আলাপ আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
    জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারী থেকে নেটওয়ার্কের প্রতারণার কবলে পড়ে রবি গ্রাহকরা। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে রবি সেবীরা। মাস ব্যাপী নেটওয়ার্ক কোম্পানী রবি থেকে রবি বা রবি থেকে যে কোন নেটওয়ার্ক কোম্পানীতে সংযোগ দিতে চাইলে বারবার ব্যর্থ হয়। একাধিকবার সংযোগের চেষ্টা করে সাময়িকের জন্য রিসিভ হলেও সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু ঠিকই তারা গ্রাহকদের টাকা কেটে নিচ্ছে। হোয়াইক্যং তানিয়া কুলিং কর্ণার সত্বাধিকারী মোঃ ইসহাক রবি নেটওয়ার্ক কোম্পানীর প্রতি ক্ষুব্দ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কোম্পানীর সংশ্লিষ্টরা টাকা কেটে নিলেও বারবার কলড্রপের মাধ্যমে গ্রাহকদের রীতিমত হয়রানী করছে।
    হ্নীলার দমদমিয়া এলাকার হাজী সামশুল আলম বলেন, রবি নেটওয়ার্কে অতিষ্ট হয়ে বাংলালিংক সীম ক্রয় করেছি। রবি কোম্পানী গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে। এভাবে অনেক রবি ব্যবহারকারী গ্রাহকরা বিভিন্ন অপারেটরের সীম ক্রয় করতে দেখা গেছে।
    রবি নেটওয়ার্ক কোম্পানী সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলায় মুঠোফোন ব্যাবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৮৫ ভাগ লোক রবি সংযোগ ব্যবহারকারী। সিংহভাগ এ কোম্পানির হওয়া সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রমে ঢিলেঢালা হওয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন গ্রাহকরা।
    টেকনাফের সাবারং ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়ন, সদর ইউনিয়ন, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন, হ্নীলা ইউনিয়ন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে রয়েছে ৩ শতের অধিক বিকাশের এজেন্ট ও ইজিলোডকারী প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান মালিকেরা পড়েছে বিপাকে। পাশাপাশি লোকশান গুনতে হচ্ছে দোকানগুলোর। এছাড়া রয়েছে, বিভিন্ন পেশাজীবি শ্রেণী তারা তাদের নিত্যনৈমিত্তিক তথ্যের আদান প্রদান করতে পারছেন না বলে একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। একটি ইউনিয়নে ৫ টির অধিক করে রবি টাওয়ার সত্বেও নেটওয়ার্কের দৈন্যদশা এলাকার লোকজন মেনে নিতে পারছেনা। রবি নেটওয়ার্কের অতিষ্ঠ হয়ে হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা চালক লালু তার ব্যবহৃত সিম্পনী ব্রান্ডের মুঠোফোনটি ছুঁেড় ভেঙ্গে ফেলেন। হোয়াইক্যংয়ের যুবলীগ নেতা তোফাইল আহমেদ রবি নেটওয়ার্ক কোম্পানীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি স্বনামধন্য নেটওয়ার্ক কোম্পানী হয়ে গ্রাহক সেবার বেহাল অবস্থা হওয়ায় নিন্দা জানান। পাশাপাশি তাদের কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
    হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ এসআই মো ঃ জামাল হোসেন রবি নেটওয়ার্কের বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, প্রায় একমাস যাবত রবি নেটওয়ার্কের জ্বালাতনে রয়েছি। বিভিন্ন জায়গা ফোন করলেও লাইন পাওয়া যায়না, আবার লাইন পেলেও ১ মিনিট হওয়ার পূর্বে যোগাযোগটি বিচ্ছন্ন হয়ে য়ায়।
    রসিদ মাইক সার্ভিসের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ রসিদ বলেন, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কাস্টমারের সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি ছুঁড়ে মারে।
    খোদ রবি নেটওয়ার্কের বিরক্তি প্রকাশ করেন রবি রিটেইলার। তিনি শুধুমাত্র নাম না প্রকাশ করার শর্তে এ কথা বলেন।
    দৈংগ্যকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাও শুকতারা রবি নেটওয়ার্কের ব্যাপক অবনতির কথা জানিয়ে বলেন, তিনি শিগগিরই রবি সীম পরিবর্তন করে গ্রামীণ সীম ব্যাবহার করবে।
    এদিকে, সীমান্ত ও পর্যটন এলাকায় হঠাৎ কেন নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটছে সকলের মুখে মুখে প্রশ্ন। যেহেতু এই শহর হতে সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করছে। ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবসায়ীক লেনদেন সহ নানাবিধ কর্মকান্ড করে থাকে। দীর্ঘ দু’মাস পর্যন্ত নেটওয়ার্ক না থাকায় ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে বলে জানায়। এদিকে টেকনাফে কর্মরত বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর এজেন্ট অফিসদেরকে অবহিত করার পরও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে বন্দরের লোকজন জানায়। টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে আমদানী-রপ্তানী, ইমিগ্রেশন, কোয়ারেন্টাইন ও শ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়ে দৈনিক কর্মকান্ড হয়। এখানে লেনদেনের জন্য কোন ব্যাংক শাখা না থাকায় টেকনাফে চলে আসতে হয়। ব্যবসায়ীরা আমদানী-রপ্তানীর মালামাল লোড-আনলোড ও গোদামজাত করতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বন্দরে কাটাতে হয়। টেকনাফে এসে ব্যাংকিং লেনদেন করা সম্ভব হয় না। মোবাইলের মাধ্যমে কাজ সমাধা করতে হয়। অপরদিকে করিডোরের গবাদি পশুর রাজস্ব প্রদানে মোবাইলের মাধ্যমে করতে হয়। এছাড়া সমস্ত ব্যবসায়িক কর্মকান্ড অনলাইনের মাধ্যমে সমাধান করতে হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় বন্দরে নিয়োজিত সকল শ্রেণীর লোকজনের নাভিশ্বাস উঠছে।
    এ ব্যাপারে রবি নেটওয়ার্ক কোম্পানীর কক্সবাজার দক্ষিণ এরিয়া ম্যানেজার আল আমিন জানান, রবি নেটওয়ার্ক সচল করতে কাজ করা হয়েছে। সমস্যার বিষয়টি তিনি জানাতে পারেন নি। তবে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও অন্য নেটওয়ার্ক অপারেটরের।
    আলো নিউজ//ফাইল ছবি

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গ্রাহকরা : টেকনাফে রবি নেটওয়ার্ক ভোগান্তি, ক্ষুদ্ধ মুঠোফোন সেবী Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান