• Latest News

    কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডে ময়লা-দূর্গন্ধে রোগির স্বজনরাও অসুস্থ

    বার্তা পরিবেশক :
    কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগির স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ওয়ার্ডের ভেতরে প্রচন্ড দূর্গন্ধ, বাথরুম অপরিস্কার, রাস্তাতে পায়খানা প্রস্রাব, আর ভিজা স্যাতস্যাতে পরিবেশের কারণে সেবা দিতে আসা রোগির স্বজনরা পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে দাবী করছেন তারা। আর রোগির অবস্থা আরো শোচনীয়। তারা চিকিৎসা নিতে এসে আরো নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা লোকজনের দাবী কর্মচারীরা নামে পরিস্কার করলেও বাস্তবে সেটা নয়। সকালে একবার এসে পরিস্কার করে এর পরে সারাদিন আর দেখা নেই। আবার মল-মূত্র পড়ে থাকলেও তারা আর আসে না। অনেক সময় বলে রোগিদের পরিস্কার করতে হবে। আর নার্সরা এ বিষয়ে কোন কথা বলতেও নারাজ। সচেতন মহলের দাবী চিকিৎসার প্রধান শর্ত হচ্ছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা। সেখানে শুধু সেবা দিলে হবে না, তাদের বাইরের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাও কর্তৃপক্ষকে ঠিকমত দেখাশুনা করা দরকার।
    ২০ জানুয়ারি বিকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় পুরু ওয়ার্ডে একটি বিদঘুটে গন্ধ বিরাজ করছে। রোগিরা যে যার বিছানায় বসে নাকে কাপড় দিয়ে আছেন আর তাদের স্বজনরা কেউ বমি ভাব দিয়ে হাটছেন আবার কেউ দূর্গন্ধে বাইরে হাটা চলা করছেন। বিশেষ করে বাথরুমের পাশের সিটের রোগিদের খুবই করুন অবস্থা। জানতে চাইলে এক ভর্তি রোগির স্বজন ইসমত আরা বলেন, আমার পিতা অস্স্থু তাই উনার সেবা দিতে এসেছি, এখন আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আজ সারা দিনে ২ বার বমি হয়েছে আর প্রচন্ড পেট ব্যাথা করছে। তিনি বলেন বাথরুমের পাশে প্রচন্ড দূর্গন্ধ নিয়ে সারাদিন আছি। অনেকবার বলেছি কেউ পরিস্কার করতে আসেনি। অথচ সেই ব্রাদার নার্স রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে। পরে বাথরুমে গিয়ে দেখা যায় যেন এক ময়লার ভাগাড়। আর বাথরুমে যাওয়ার রাস্তাতেই পড়ে আছে পায়খানার ময়লা। আর পুরু বাথরুম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। এতে ঐ রাস্তা দিয়ে কেউ হাটাচলাও করতে পারছে না। আর দূর্গন্ধ যেন পুরু ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়েছে। আর আশপাশের বেশিরভাগ বাথরুম এত বেশি ময়লা যে ব্যবহার করা কঠিন। এ সময় ভর্তি রোগি আসলাম আলী বলেন আমি সকালে বাথরুম গিয়ে বাথরুম করার পর দেখি নলে পানি আসছে না, তখন যে কি পরিমাণ কষ্টে পড়ে গেছি সেটা বলে বুঝানো যাবে না। পরে ছেলেকে দিয়ে বাইর থেকে বোতলে পানি কিনে এনে পরিস্কার হয়েছি। আর যেখানে গেলে প্রাণ বের হয়ে আসতে চায় আমার দেখা মতে তারা সকালে একবার পরিস্কার করে আর সারা দিন আসে না। এতে রোগি সারা দিন যে ময়লা করে সেটা কি তাহলে সারা দিন রাত বসে থাকবে ? আপনি দেখুন এই বাথরুমের ময়লা গুলো আছে দুপুর থেকে আমরা কয়েকবার বলেছি তবুও কেউ আসছে না। বলেছে রোগিদেরকেই পরিস্কার করতে হবে।
    পরে মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় আরো করুন চিত্র বাথরুমের ময়লা। ভারী হয়ে আছে পুরু ওয়ার্ডের পরিবেশ। একটি বিকট দূর্গন্ধ সেখানেও আছে। এ সময় ভর্তি রোগি সাজেদা খানম বলেন হাসপাতালের সেবার মান যাই হওক তবে এখানকার গন্ধ আর সহ্য হচ্ছে না। ইচ্ছা করছে এখনি বাড়িতে চলে যাই কিন্তু কি করবো আমরা গরিব মানুষ বাইরে চিকিৎসা করানোর মত টাকা নেই। আর এখানে সকাল ৮ টার আগে পাইপে পানি আসে না, এখন বাথরুমতো আর সময় ধরে আসে না। কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় দেখে কিনা আমি জানিনা। আর গতকাল আমার বোন এখানে এসে অসুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছে। সে কাল থেকে দূর্গন্ধে বমি করছে কয়েক বার আর এখন শুনেছি পেট ব্যাথা হয়ে জ্বর আসছে মোট কথা এখানে রোগির স্বজনরা উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আর আমরা রোগিদের কথা আরো করুন। আসছি একটি রোগের চিকিৎসা করতে সেখানে আরো নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। আর নার্সদের এ বিষয়ে বললে তারা প্রচন্ড রাগারাগি করেন যেন আমরা কোন অপরাধ করে ফেলেছি। পরে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ড, গাইনী ওয়ার্ড, সার্জারি ওয়ার্ডসহ কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায় বেশির ভাগ স্থানে ময়লা দূর্গন্ধে ভরা। আর ভেজা স্যাতস্যাতে পরিবেশ।
    এব্যাপারে নাম প্রাকশে অনিচ্ছুক এক মহিলা ইন্টার্ন ডাক্তার বলেন দূর্গন্ধ নিয়ে রোগিদের নয় আমরা ও খুব বিব্রত। মাঝে মধ্যে এত বেশি দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে তাতে ওয়ার্ডে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে। একদিন আমি নিজেই দূর্গন্ধ সইতে না পেরে বমি করেছি। আসলে দিনের শুধু নয় ২৪ ঘন্টা পরিস্কার রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর রোগিদের সেবা দিলে হবে না তাদের একটি ভাল সুন্দর পরিবেশও দিতে হবে। আর আমার জানা মতে এখানে কর্মচারীর সংখ্যা এতবেশি কম নয়।
    এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সোলতান আহামদ সিরাজী বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের কাজ। আসলে অনেক সময় রোগির চাপ বেশি থাকলে তারা অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। তবে নিয়মিত পরিস্কার করা হয় বলে দাবী করেন তিনি।
    এ ব্যাপারে জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার হিসাবে হয়তো পরিচ্ছন্ন কর্মীদের আসতে দেরি হচ্ছে। আর এমনিতেই নিয়মিত পরিস্কার করানো হয়। তবে রোগিদের একটু সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। c

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডে ময়লা-দূর্গন্ধে রোগির স্বজনরাও অসুস্থ Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান