কক্সবার্তা ডেস্ক :
পেকুয়ায় জায়গার বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় একপক্ষের ভাড়াটে অস্ত্রধারীরা পুলিশের উপস্থিতিতে অন্তত ৫০-৬০রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। ফসলি জমিতে মৎস্য ঘের তৈরিতে লবন পানি প্রবেশ নিয়ে কৃষকদের সাথে প্রভাবশালী চক্রের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী চক্রের লেলিয়ে দেয়া ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে দিন দুপুরে প্রকাশ্যে গুলি ছোঁড়ে। গুলির বিকট শব্দে এলাকায় জনমনে ব্যপক উদ্বেগ তৈরি হয়। আতংকিত মানুষগুলো ভয়ে দিগবিদিগ ছুটা ছুটি করেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। পেকুয়া থানা পুলিশ তিন দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গোঁয়াখালী বকসুচৌকিদার পাড়া এলাকায় গুলি বর্ষনের এ ঘটনাটি ঘটে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের উত্তেজনা বিরাজ করছে। হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জমির মালিকরা তিন ফসলি আবাদি জমি লবনাক্ততার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে গনস্বাক্ষর যুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে সদর ইউনিয়নের বকসুচৌকিদার পাড়া এলাকায় মৃত.ফুরুখ আহমদের ছেলে ফরহাদুল ইসলাম ছুট্টু, ফখরুল ইসলাম মানিক গং প্রায় ৪০একর জমিতে চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য লোনা পানি প্রবেশ করায়। এতে করে পশ্চিম গোঁয়াখালী, দক্ষিন বটতলীয়া পাড়া, জালিয়াখালী, ফুরুকের দ্বিয়াসহ আশ পাশের বিপুল জমি লবনাক্ততায় গ্রাস করে ফেলে। গত দু’বছর ধরে লবনাক্তা ছড়িয়ে পড়ায় এসব এলাকার বিপুল কৃষি জমি অনাবাদি থেকে যায়। বর্তমান শুস্ক মৌসুমেও ওই ব্যক্তিরা এসব জমিতে লবন পানি প্রবেশ বিপুল এলাকা একাকার করে। ওইদিন এলাকাবাসিরা জড়ো হয়ে জালিয়াখালী-রাবার ড্যাম সড়কের রুকুর খালের উপর নির্মিত কালর্ভাট এর মুখ খোলে দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ছুট্টু, মৌলভী আব্দু রহিম, মানিকের লেলিয়ে দেয়া ভাড়াটে ১০-১৫জনের অস্ত্রধারীরা লম্বা বন্ধুক নিয়ে ওই স্থানে গিয়ে ব্যাপক গুলি চালায়। এ সময় জমির মালিকরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মাহবুব আলম ফকির, শাহাব উদ্দিন, আরমানুল ওসমান চৌধুরী, নুর মুহাম্মদসহ শতশত এলাকাবাসিরা জানায় ছুট্টু গং সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের নিয়ে তিন ফসলি জমিতে লবন পানি ঢুকিয়েছে। আমরা এলাকাবাসিরা কালভার্টের মুখ খুলতে গেলে আমাদের উপর গুলি চালায়। জমির মালিক আবু তালেব, কামাল উদ্দিন, আরমান, জামাল হোসেন, আবুল শামা, শাহনেওয়াজ চৌধুরী বিটু, খালেদ নেওয়াজ, জাহাঙ্গীর, শফিউল আজম, শওকত ওসমান, বুলবুলি, আব্দুল করিম, আনোয়ারা বেগম, ছিদ্দিক আহমদ, আতিকুর রহমান জানায় ওইবিলে আমাদের বিপুল জমি আছে। ছুট্টু গংদের আছে মাত্র ২১কানি। কিন্তু তারা সমস্ত জায়গায় লোনা পানি ঢুকিয়ে জবর-দখল করার চেষ্টা করছে। জমি থেকে লোনা পানি বের করার জন্য কালভার্টের মুখ খোলে দেয়ার চেষ্টা করলে বিলহাসুরা এলাকার হামিদ, শাহাব উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, সাক্কু, আজম, জালিয়াখালী এলাকার বশির আহমদ, জাহেদ, ফারুকসহ ১০-১৫জনের ভাড়াটে অস্ত্রধারীরা আমাদের লক্ষ্য করে অন্তত ৫০-৬০রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। পুলিশ ছুট্টুর বাড়িতে অবস্থান নেয়। আমাদেরকে হঠাতে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা এক সাথে ছুট্টুর বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে তারা গুলি চালায়। পুলিশ মুলত অস্ত্রধারীদের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। সেটি শতশত লোকজন প্রত্যক্ষ করেছে। এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ফরিদুল আলম জানায় দিন দুপুরে পুলিশের সামনে এ ভাবে গুলাগুলি মেনে নেয়া যায়না। পুলিশ সরাসরি একটি পক্ষের অনুচর হয়েছে। উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেম জানায় এখানে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তি মালিকানা জমি রয়েছে। তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে সব জমি জবর দখল করে লোনা পানি ঢুকিয়ে দিয়েছে। লোকজন আমাকে বলেছে পুলিশের সামনে গুলি করেছে। উপজেলা আ’লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরী বিটু মিয়া জানায় এ বিলে আমার ও আমার ভাইদের বিপুল জমি আছে। ছুট্টু গং এ জমিও গায়ের জোরে দখল করে রেখেছে। পুরো এলাকা লবন পানিতে ছেয়ে গেছে। লোকজন কালভার্টের মুখ খোলতে গেলে ছুট্টুর ভাড়াটে অস্ত্রধারীরা গুলি করে। পুলিশ সরাসরি তাদের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। না হলে পুলিশের সামনে কিভাবে এত গুলি ছোঁড়ে। পেকুয়া থানার এস.আই কামরুল ইসলাম জানায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ পৌঁছার আগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। তবে পুলিশের সামনে গুলি বর্ষনের কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিনি। nc// ফাইল ছবি//
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: পেকুয়ায় জায়গা-জমির বিরোধ নিয়ে অর্ধ শতাধিক গুলি বর্ষন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
Rating: 5
Reviewed By: Unknown