নিউজ ডেস্ক :
টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে রাজশাহীতে বৃদ্ধ বাবাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার বহরমপুর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত মোহাম্মদ আবদুল শেখ (৬৫) রাজশাহী মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। ঘটনার পর রাজপাড়া থানার পুলিশ নিহতের ছোট ছেলে শরিফুল ইসলাম শরিফ (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী হাবিবা আক্তার লাইজুকে (৩০) আটক করেছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, ঘটনার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের মেজো ছেলে আবু বাক্কার সিদ্দিক সুরুজ (৩৫) জানান, কিছুদিন আগে ছোট ভাই শরিফ তাঁর কাছ থেকে চার লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরে টাকা ফেরত চাইলেও নানা টালবাহানায় তিনি টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে সালিস ডাকা হয়। সেখানে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো মীমাংসা হয়নি।
আজ সকালে সুরুজ পাওনা টাকা চাইতে এলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বাবা আবদুল শেখ মেজো ছেলের পক্ষ নিয়ে শরিফের সঙ্গে রাগারাগি করেন। এ সময় বড় ভাই আবু তাহের সুজন (৪২) এসে ছোট ভাই শরিফের পক্ষ নেন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। আবদুল শেখ ঘরে গেলে তাহের ও শরিফ বাবার মুখে বালিশ চেপে ধরেন। এতে আবদুল শেখের শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে তাঁকে দ্রুত রামেক হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত আবদুল শেখের স্ত্রী আছিয়া শেখ জানান, তাঁর স্বামীর নামে দুটি ব্যাংকে ৪০ লাখ টাকা রয়েছে। একটিতে ৩৫ লাখ ও অপরটিতে পাঁচ লাখ। ওই টাকাসহ জমিজমা লিখে নেওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন থেকে শরিফ ও সুজন তাঁর বাবাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
মেজো ছেলে আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী রোজি সিদ্দিকী বলেন, বাবাকে হত্যার পর সুজন বাক্সের তালা ভেঙে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, ৩৫ লাখ টাকার চেক এবং জমিজমার দলিলপত্র ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, আবদুল শেখের দুজন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আছিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর পক্ষে তিন ছেলে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর এক মেয়ে। তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে শরিফ শুধু বাড়িতে থাকেন। বড় ছেলে সুজন ও মেজা ছেলে সুরুজ বাইরে ভাড়া বাসায় থাকেন।
বেশ কিছুদিন থেকে ব্যাংকে রাখা টাকা ও সম্পত্তি নিয়ে ছেলে শরিফ ও সুজনের সঙ্গে আবদুল শেখের বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে সোমবার সকালে ছোট ছেলের কাছে মেজো ছেলের পাওনা চার লাখ টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জের ধরে আবদুল শেখকে হত্যা করা হয়।
ওসি আরো জানান, ঘটনার পর ছোট ছেলে শরিফ ও তাঁর স্ত্রী লাইজুকে বহরমপুরের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বড় ভাই আবু তাহের ও তাঁর স্ত্রী পালিয়ে গেছেন। তাঁদের ধরার চেষ্টা চলছে।
সুত্র-কুইক নিউজ বিডি
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: ‘বালিশচাপা দিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে হত্যা’
Rating: 5
Reviewed By: Unknown