• Latest News

    বাঘ খাওয়াতেই তাদের আনন্দ!

    বাঘও ভয় পায় এদের৷ আক্রমণ করবে কি, বাগে পেলে বাঘকেই ঘায়েল করে তারা৷ তারপর উল্লাসে মেতে ওঠার পালা৷

    জমিয়ে শুরু হয় রান্না৷ শেষ সবাই মিলে নিজস্ব রীতিতে বাঁশ থেকে তৈরি মদ দিয়ে বাঘের মাংস গপ গপ করে খেয়ে নেন মুরংরা৷

    দক্ষিণ রায় বলুন বা বড় মিঞা- বাঘের এসব ভারী নাম পাত্তাই পায় না মুরংদের কাছে৷ তাদের কাছে বাঘ মেরে খাওয়াই হল জমজমাট ব্যাপার৷

    মুরং জাতি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার অন্যতম আদিম বিলুপ্তপ্রায় জনগোষ্ঠী৷ 'ম্রো' নামেও তারা পরিচিত৷ পার্বত্য চট্টগ্রামের চোমিয়াপাড়া গ্রামে এদের দেখা যায়৷ এছাডা় লামা, আলিকদম, থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকাতেও তারা থাকেন৷

    পাহাড়ের উপর বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে তৈরি বাড়িতে থাকে তারা৷ যেগুলি 'মাচাং' নামে খ্যাত৷ প্রতিদিন সকালে ঘন জঙ্গলে গিয়ে বাঘ, হরিণ, শূকর, ছাগল শিকার করে মুরং বা ম্রো-রা৷ তাদের অপর প্রধান জীবিকা হচ্ছে কৃষিকাজ৷

    একদিকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অন্যদিকে মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) প্রদেশ৷ মুরংদের আদি নিবাস মায়ানমারের সেই আরাকান রাজ্য। অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতি ও দুর্দান্ত সাহসে ভর করেই বাঘ শিকারে যান মুরংরা৷ মানুষ খেকো বাঘ এদের দেখে ভয় পায়৷

    কঠিন তাদের জীবনযাত্রা৷ কিন্তু আনন্দে আহ্লাদে জীবন কাটানো তাদের রীতি৷ মুরং বা ম্রোদের বিখ্যাত অনুষ্ঠান কুমলাং৷ অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের আশায় তাঁরা এই উৎসব পালন করেন৷

    পুরুষতান্ত্রিক নিয়মে পরিচালিত হয় ম্রো সমাজ৷ তবে মহিলারাও কম পরিশ্রম করেন না৷ প্রতিদিন সকালে তারা পায়ে হেঁটে যান দূর দূরান্তে পানীয় জল সংগ্রহে৷ ঘরের সমস্ত কাজ করার দায়িত্ব থাকে তাদের উপর৷

    মুরং জাতি তাদের খাদ্যাভ্যাস ও রীতির কারণে নৃতাত্ত্বিকদের কাছে বিশেষ পরিচিত৷ তাদের নিয়ে চলছে গবেষণা!
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: বাঘ খাওয়াতেই তাদের আনন্দ! Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান