• Latest News

    অধরা’ জয় ধরা দিল কুমিল্লাকে

    স্পোর্টস বার্তা:
    কক্সবার্তা ডট কম
    অবশেষে বিপিএলে জয়ের মুখ দেখলো শিরোপাধারী কুমিল্লা ভিক্টেরিয়ান্স। শুরু ও শেষে পাকিস্তানি পেসার সোহেল তানভিরের দুটি করে মোট চারটি উইকেট নেন। মূলত তার বিধ্বংসী স্পেলে রাজশাহী কিংসকে ১৯ ওভারে ১২০ রানে অলআউট করে মাশরাফির দল। আর ৩২ রানের জয়ে তাদের টানা হারের লজ্জা কাটাল তারা। ষষ্ঠ ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। 
    পঞ্চম ওভারের তৃতীয ও চতুর্থ বলে পরপর দুটি বলে জোড়া আঘাত হানেন পাকিস্তানি বাঁহাতি পেসার সোহেল তানভির। পুল করতে গিয়ে উইকেটে বল টেনে এনে প্লেইড অন হন ১০ রান করা জুনায়েদ সিদ্দিক। আর ঠিক পরের বলেই স্লিপে আহমেদ শেহজাদের হাতে বল জমা দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরের পথ ধরেন রাজশাহীর অন্যতম ভরসা সাব্বির রহমান। ২৭ রানের মাথায় দুটি উইকেট হারিয়ে তখন থেকেই বিপদ শুরু হয় রাজশাহীর।

    বিপদের মাত্রাটা আরও বাড়ান উমর আকমল। আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়ে ক্যাচে বিদায় নেওয়াটা তার জন্য স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর শনিবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। মো: সাইফুদ্দিনের বাড়তি বাউন্সের বলটি তিনি ফ্লাশ করেন আর সোজা ডিপ পয়েন্টে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েসের হাতে চলে যায় বল। তিন রান করতে পেরেছিলেন আকমল আর রাজশাহীর হয়ে ছয়টি ম্যাচে তার মোট রান ৫১।

    নুরুল হাসান আট রানে বিদায় নেওয়ার পর এক প্রান্ত ধরে রাখা  মমিনুল হকও ফেরেন সাজঘরে। রায়ান টেন ডোশাটের ফুলটসে পুল করে ডিপ মিড উইকেটে খালিদ লতিফের হাতে বল জমা দেওয়ার আগে ১টি ছয় ও ৫টি চারে ৪৩ বলে ৫৩ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। প্রথম জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যায় কুমিল্লা।

    রাজশাহীর শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ছিলেন ড্যারেন স্যামি। কিন্ত রানের খাতা খোলার আগেই তিনি হলেন রানআউট। জয়ের ঘ্রাণ নিতে শুরু করে কুমিল্লা। সামিত প্যাটেলকে আট রানে বিদায় দিয়ে মাশরাফি নিশ্চিত করে দেন এবার আর ম্যাচ হারছে না তার দল।

    শেষ তিন ওভারে ৪৮ রান প্রয়োজন ছিল রাজশাহীর। ১৮ ওভারের দ্বিতীয বলে সোহেল তানভিরের  আউট সুইংগারে ৫ রান করা মিরাজ হলেন কট বিহাইন্ড। পঞ্চম বলে ফরহাদ রেজা একই ধারায় বিদায় নেন। তার বিদায়ে নিজ ঝুলিতে চতুর্থ উইকেটটি রাখেন সোহেল তানভির। মো:সামিকে ৭ রানে বোল্ড করে জয় উদযাপন শুরু করেন পেসার মো:সাইফুদ্দিন। ২৭ রানে তিন উইকেট, তার অবদান তো কম নয়।

    এর আগে ছক্কাবিহীন এক ইনিংস খেলে কুমিল্লা। তারপরও দেড়শর ঘরের রানেই তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ঠ হলো। ব্যাটিং অর্ডারে নানা পরিবর্তন এনে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটে ১৫২ রান করে টানা পাঁচ ম্যাচ হারা কুমিল্লা। 

    ইমরুল কায়েসকে নিচে নামিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তকে দিয়ে ওপেন করানোর সিদ্ধান্তটা কুমিল্লার জন্য সুফল বয়ে আনে। ৪০ বলে চারটি চারে ৪১ রান করার পর থামেন শান্ত। ড্যারেন স্যামির শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। শান্তর দ্রুতগতির ইনিংসে কুমিল্লার রানের চাকা সচল থাকে। দুই  পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান খালিদ লতিফ ৬ ও  আহমেদ শেহজাদ ১১ রানে বিদায় নিলেও তার প্রভাব পড়েনি। ওপেনার ইমরুল কায়েস টু ডাউনে ব্যাট করতে নেমে মানিয়ে নেন তার নতুন ব্যাটিং অর্ডার। তবে ২৫ বলে পাঁচটি চারে ৩৪ রান করার পর রায়ান টেন ডোশাটের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে তিনি হন রানআউট। লেগ সাইডে পুশ করে তিনি আর নন স্ট্রাইকিং এন্ডে পৌঁছাতে পারেননি। বদলি ফিল্ডার সালমান হোসেনের থ্রো সরাসরি উইকেটে আঘাত হানে।

    অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা নিজেকে পাঁচ নম্বরে উঠিয়ে এনেছিলেন বিগ হিটের আশায়। ১০ বলে ১০ রান করা ইনিংসে তিনি মারেন একটি মাত্র চার। স্যামির আউট স্ইুংগারে কট বিহাইন্ড হন কুমিল্লার অধিনায়ক।

    ডোশাট ও সোহেল তানভিরের ৪১ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি কুমিল্লার সংগ্রহ ১৫২ রানে পৌঁছায়। ডোশাট ১৫ বলে ২১ ও সোহেল তানভির ১৫ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থেকে ফেরেন সাজঘরে।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: অধরা’ জয় ধরা দিল কুমিল্লাকে Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান