• Latest News

    চাল পড়া দিয়ে চোর শনাক্ত, অপবাদে যুবকের আত্মহত্যা

    কক্সবার্তা ডেস্ক : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটে চাল পড়া দিয়ে চোর শনাক্ত করার ঘটনায় অপবাদ সইতে না পেরে এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।বুধবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সে মৃত্যুবরণ করে।নিহত ওই যুবকের নাম মানিক মিয়া (২০)। সে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় বাজারের পান দোকানদার।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাটে মেইনরোডে দিঘিরপাড় গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে সুতা ও মসলা ব্যবসায়ী শফিকুলের দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙে একদল চোর মঙ্গলবার রাতে ৭০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।এ ঘটনায় শফিকুল তার অপর সহযোগী মোল্লাপাড়া গ্রামের জুবায়েরের সহযোগীতায় বুধবার রাতে চোর শনাক্ত করার জন্য কথিত এক নারী কবিরাজের নিকট থেকে চাল পড়া নিয়ে আসে।এরপর চোর সন্দেহে রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার ভেতর শফিকুলের দোকানের সামনে পান দোকান নিয়ে বসা হতদরিদ্র পরিবারের মানিক, গাড়ি চালক, হোটেল কর্মচারী ও তার নিজের দোকানের কর্মচারীকে চাল মুখে দিয়ে ভাঙতে দেয়।তবে মানিক চাল পড়া ভাঙতে না পারায় শফিকুল ও তার সহযোগীরা বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে তাকে চোর বলে চিহ্নিত করেন।এরপর সালিশ বৈঠকে বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া ও তার লোকজন এসে মানিককে চুরির টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেন। এছাড়া টাকা উদ্ধারের জন্য মাসুক ও তার লোকজন মানিককে বণিক সমিতির কার্যালয়ে নির্যাতনও করে।নাম প্রকশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বণিক সমিতির অফিসে দরজা বন্ধ করে ওই সময় মানিকের নিকট থেকে টাকা উদ্ধারে মানসিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি তাকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে চোর অপবাদ দিয়ে মানিকের পান দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়।এদিকে চুরির অপবাদ সইতে না পেরে রাতেই মানিক বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।  বিষপানের পর মানিককে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১টার দিকে মানিককে মৃত ঘোষণা করেন।মানিককে চুরির অপবাদ দেয়া ব্যবসায়ী শফিকুল বুধবার রাত সোয়া ২টার দিকে যুগান্তরকে জানান, মানিক সহ কয়েকজনকে চোর সন্দেহে চাল পড়া খাওয়ানো হলে মানিক চাল ভাঙতে না পারায় তাকে টাকা চোর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সে আরো জানায় সালিশের এক পর্যায়ে বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন টাকা উদ্ধারের জন্য মানিকের সাথে আলাপ করলে একদিন পর মানিক তা জানানোর কথা বলে বাড়ি চলে যায়।নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে উপজেলার বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া যুগান্তরকে জানান, আমি সালিশের শেষ পর্যায়ে লোকজনের ভীড় দেখে ওখানে গিয়ে লোকজনকে সরিয়ে দিয়েছি। আমি মানিককে টাকার জন্য কোনো চাপও দেইনি।এদিকে অন্যায়ভাবে ছেলেকে চোর অপবাদ দিয়ে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন নিহত মানিকের পিতা ছাত্তার মিয়া।তিনি বলেন, আমার ছেলে নিরপরাধ। তাকে মাসুক, শফিুকল ও তাদের লোকজন জোর করেই চোর বানিয়েছে। আর আমার ছেলে এ অপমান সইতে না পেরে বিষপানে মারা গেছে। আমি এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।চাল পড়া দিয়ে চোর চিহ্নিত করার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর।তিনি বলেন, লোকমুখে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। চাল পড়া দিয়ে এমন চোর শনাক্ত করা আইনের পরিপন্থি কাজ। এ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে এসে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। 
    jo

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: চাল পড়া দিয়ে চোর শনাক্ত, অপবাদে যুবকের আত্মহত্যা Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান