স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট যে আচরণ করছে, তাতে চতুর্থ ইনিংসে ২৭৩ রান তাড়া করাও অনেক কঠিন হবে। ইংল্যান্ডের হাতে রয়েছে আরো দুই উইকেট। রান আরো বাড়লে সেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়াটা কঠিন হবে টাইগারদের।
বাংলাদেশের স্পিনাররা উইকেট থেকে যথেষ্ট সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন। ভুলে গেলে চলবে না, ইংল্যান্ডের মঈন আলী ও আদিল রশিদ আছেন। এই দুজন ছাড়াও ইংল্যান্ডের তো উইকেট তুলে নেওয়ার অনেকেই আছেন।
তবে সাকিব আল হাসানের বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারী ইংল্যান্ডকে অনেকটা চেপে ধরেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের ৫ম শিকার হয়েছেন আদিল রশিদ। এনিয়ে টেস্টে ১৫ বারের মতো ৫ উইকেট শিকার করলেন সাকিব।
সফরকারী ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম আর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিজাদুতে ৬২ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানকে।
ইনিংসের প্রথম আঘাত হানেন প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের ৬ জনকে তুলে নেয়ার নায়ক মিরাজ। দলীয় ২৬ রানে অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুককে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করান তিনি।
এরপর আঘাত সাকিবের। এক রান তোলার পরেই জো রুটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি।
মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে সাকিব ফের আঘাত হানেন। দলীয় ২৮ রানে ফিরিয়ে দেন ১৫ করা ওপেনার বেন ডাকেটকে। এরপর দলীয় ৪৬ রানে তাইজুল ইসলাম তুলে নেন গ্যারি ব্যালান্সের উইকেট। তার বলে ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি হন ব্যালান্স।
মঈন আলী ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেও সফল হননি। ব্যক্তিগত ১৪ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাকিবের শিকারে পরিণত হন তিনি। এসময় দলের রান ছিল ৬২।
বিপর্যয়ে পড়া ইংল্যান্ডের ইনিংসকে ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান জনি বেয়ারস্টো ও বেন স্টোকস। তাদের ১২৭ রানের জুটি ভাঙেন টাইগার বোলার কামরুল ইসলাম রাব্বি।
৪৭ রান করা ইংলিশদের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বেয়ারস্টো বোল্ড হন। অভিষেকে এটা কামরুলের প্রথম শিকার। ক্রিকেটে একটা কথা আছে, বড় জুটি গড়ার পর কোনো একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে অপরজনও দ্রুত আউট হন। ইংল্যান্ডের বেলায়ও তাই হলো। জনি বেয়ারস্টোর পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখা বেন স্টোকস।
সাকিবের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন স্টোকস। তিনি ৮৫ রান করেন। এরপর নিজের ৫ম উইকেট শিকার করেন সাকিব। ৯ রান করা আদিল রশিদকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি।
তবে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হন টাইগার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
এর আগে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের করা ২৯৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে টাইগারদের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৪ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২২১ রান। প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের থেকে ৭২ রান দূরে থেকে তৃতীয় দিন ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা। তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে ২৪৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ইংলিশদের থেকে ৪৫ রান পিছিয়ে থেকে শেষ হয় স্বাগতিকদের ইনিংস। তৃতীয় দিন এক ঘণ্টার একটু বেশি সময় ব্যাট করে ১২ ওভারে স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৭ রান যোগ করতে শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিন শেষে সাকিব আল হাসান ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন। অপর প্রান্তে ছিলেন শফিউল ইসলাম। শেষদিকের 'ছন্দপতন' আর বিপর্যয় এড়াতেই 'নাইট ওয়াচম্যান' হিসেবে শফিউলকে ব্যাটিংয়ে নামিয়ে দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। উইকেটে স্পিন বেশ কার্যকর হওয়ায় ইংলিশ দলপতি অ্যালিস্টার কুক চার স্পিনারকে দিয়ে বোলিং করান। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮২ সালে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ড টেস্টের এক ইনিংসে চারজন স্পিনার ব্যবহার করেছিল।
শেষের দিকে ব্যাটিংয়ের অপেক্ষায় থাকা টেস্টে 'অনভিজ্ঞ' সাব্বির আর মিরাজকে নিয়ে বড় লিডের জন্য সাকিবের দিকে তাকিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। অথচ দিনের শুরুতে প্রথম ওভারেই বিদায় নেন সাকিব। 'বিদায় নেন' লেখার থেকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন লেখাটাই স্বাভাবিক। মঈন আলীর করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। বলের লাইন মিস করে আর নিজের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই ফেরেন তিনি। বেয়ারস্টোর কাছে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায়ের আগে তার নামের পাশে যোগ হয় ৬২ বলে তিনটি চারে ৩১ রান।
সাকিবের বিদায়ের পর সাজঘরে ফেরেন শফিউল। আদিল রশিদের বলে বিগ শট নিতে গিয়ে স্টুয়ার্ট ব্রডের হাতে মিডঅনে ক্যাচ তুলে দেন ২৯ বলে ২ রান করা শফিউল। সাব্বির-মেহেদির দিকে বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকলেও শফিউলের বিদায়ের কিছু পরেই অভিষিক্ত মেহেদি মিরাজ স্টোকসের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে ব্যক্তিগত ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ২৩৯ রানের মাথায় স্বাগতিকদের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে।
এরপর সাব্বির-তাইজুল জুটি (৯ রান) গড়ার চেষ্টা করে খুব একটা সফল হননি। স্লিপে দাঁড়ানো অ্যালিস্টার কুকের দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফিরতে হয় সাব্বিরকে। স্টোকসের বলে আউট হওয়ার আগে সাব্বির ৩২ বল মোকাবেলা করে তিনটি বাউন্ডারিতে ১৯ রান করেন। একই ওভারে বিদায় নেন শূন্য রানে বোল্ড হওয়া আরেক অভিষিক্ত কামরুল ইসলাম রাব্বি। তাইজুল ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
ইংলিশ পেসার বেন স্টোকস ১০ ওভারে মাত্র ১০ রান খরচ করে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট দখল করেন। তিনটি উইকেট পান মঈন আলী আর দুটি উইকেট নেন আদিল রশিদ। একটি উইকেট নেন গ্যারেথ ব্যাটি।
এর আগে দ্বিতীয় দিন তামিম ইকবালের (৭৮) পর অর্ধশতকের কাছাকাছি গিয়েও সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক মুশফিক। ৭৭ বলে ৪৮ রান করে ৭২তম ওভারে বেন স্টোকসের বলে জনি বেয়ারস্টোর গ্লাভসে ধরা পড়েন। তার আগে ইনিংসের ১৪তম ও নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন মঈন আলী। ইমরুল কায়েসকে (২১) ক্লিন বোল্ড করার পর মুমিনুল হককে (০) বেন স্টোকসের ক্যাচে পরিণত করেন এ ডানহাতি অফস্পিনার। দলীয় ২৯ রানেই দুই উইকেট হারায় টাইগাররা।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯০ রান তুলে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন তামিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৪৪তম ওভারে ১১৯ রানের মাথায় আদিল রশিদের বলে জো রুটের হাতে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ (৩৮)। পরে মুশফিকের সঙ্গে ৪৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তামিম। কিন্তু টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন দেশসেরা এ ওপেনার। ১৬৩ রানের মাথায় শতক থেকে ২২ রান দূরে থাকতে আউট হন। অফস্পিনার গ্যারেথ ব্যাটিং করা ৫৫তম ওভারের চতুর্থ বলটি তার ব্যাট ছুঁয়ে জনি বেয়ারস্টোর গ্লাভসে আটকা পড়ে।
এর আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে সফরকারীরা। টেস্ট অভিষেকেই মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথমদিন শেষে ইংলিশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় সাত উইকেটে ২৫৮। দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯৩ রানে অলআউট হয় ইংলিশরা।
সাদা পোশাকে অভিষেকের প্রথমদিন পাঁচ উইকেটের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখানো মিরাজ নেন ইনিংস সর্বোচ্চ ছয়টি উইকেট। সাকিব নেন দুটি উইকেট আর বাকি দুটি তুলে নেন তাইজুল ইসলাম।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট যে আচরণ করছে, তাতে চতুর্থ ইনিংসে ২৭৩ রান তাড়া করাও অনেক কঠিন হবে। ইংল্যান্ডের হাতে রয়েছে আরো দুই উইকেট। রান আরো বাড়লে সেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়াটা কঠিন হবে টাইগারদের।
বাংলাদেশের স্পিনাররা উইকেট থেকে যথেষ্ট সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন। ভুলে গেলে চলবে না, ইংল্যান্ডের মঈন আলী ও আদিল রশিদ আছেন। এই দুজন ছাড়াও ইংল্যান্ডের তো উইকেট তুলে নেওয়ার অনেকেই আছেন।
তবে সাকিব আল হাসানের বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারী ইংল্যান্ডকে অনেকটা চেপে ধরেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের ৫ম শিকার হয়েছেন আদিল রশিদ। এনিয়ে টেস্টে ১৫ বারের মতো ৫ উইকেট শিকার করলেন সাকিব।
সফরকারী ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম আর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিজাদুতে ৬২ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানকে।
ইনিংসের প্রথম আঘাত হানেন প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের ৬ জনকে তুলে নেয়ার নায়ক মিরাজ। দলীয় ২৬ রানে অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুককে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করান তিনি।
এরপর আঘাত সাকিবের। এক রান তোলার পরেই জো রুটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি।
মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে সাকিব ফের আঘাত হানেন। দলীয় ২৮ রানে ফিরিয়ে দেন ১৫ করা ওপেনার বেন ডাকেটকে। এরপর দলীয় ৪৬ রানে তাইজুল ইসলাম তুলে নেন গ্যারি ব্যালান্সের উইকেট। তার বলে ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি হন ব্যালান্স।
মঈন আলী ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেও সফল হননি। ব্যক্তিগত ১৪ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাকিবের শিকারে পরিণত হন তিনি। এসময় দলের রান ছিল ৬২।
বিপর্যয়ে পড়া ইংল্যান্ডের ইনিংসকে ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান জনি বেয়ারস্টো ও বেন স্টোকস। তাদের ১২৭ রানের জুটি ভাঙেন টাইগার বোলার কামরুল ইসলাম রাব্বি।
৪৭ রান করা ইংলিশদের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বেয়ারস্টো বোল্ড হন। অভিষেকে এটা কামরুলের প্রথম শিকার। ক্রিকেটে একটা কথা আছে, বড় জুটি গড়ার পর কোনো একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে অপরজনও দ্রুত আউট হন। ইংল্যান্ডের বেলায়ও তাই হলো। জনি বেয়ারস্টোর পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখা বেন স্টোকস।
সাকিবের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন স্টোকস। তিনি ৮৫ রান করেন। এরপর নিজের ৫ম উইকেট শিকার করেন সাকিব। ৯ রান করা আদিল রশিদকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি।
তবে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হন টাইগার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
এর আগে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের করা ২৯৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে টাইগারদের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৪ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২২১ রান। প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের থেকে ৭২ রান দূরে থেকে তৃতীয় দিন ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা। তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে ২৪৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ইংলিশদের থেকে ৪৫ রান পিছিয়ে থেকে শেষ হয় স্বাগতিকদের ইনিংস। তৃতীয় দিন এক ঘণ্টার একটু বেশি সময় ব্যাট করে ১২ ওভারে স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৭ রান যোগ করতে শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিন শেষে সাকিব আল হাসান ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন। অপর প্রান্তে ছিলেন শফিউল ইসলাম। শেষদিকের 'ছন্দপতন' আর বিপর্যয় এড়াতেই 'নাইট ওয়াচম্যান' হিসেবে শফিউলকে ব্যাটিংয়ে নামিয়ে দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। উইকেটে স্পিন বেশ কার্যকর হওয়ায় ইংলিশ দলপতি অ্যালিস্টার কুক চার স্পিনারকে দিয়ে বোলিং করান। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮২ সালে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ড টেস্টের এক ইনিংসে চারজন স্পিনার ব্যবহার করেছিল।
শেষের দিকে ব্যাটিংয়ের অপেক্ষায় থাকা টেস্টে 'অনভিজ্ঞ' সাব্বির আর মিরাজকে নিয়ে বড় লিডের জন্য সাকিবের দিকে তাকিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। অথচ দিনের শুরুতে প্রথম ওভারেই বিদায় নেন সাকিব। 'বিদায় নেন' লেখার থেকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন লেখাটাই স্বাভাবিক। মঈন আলীর করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। বলের লাইন মিস করে আর নিজের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই ফেরেন তিনি। বেয়ারস্টোর কাছে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায়ের আগে তার নামের পাশে যোগ হয় ৬২ বলে তিনটি চারে ৩১ রান।
সাকিবের বিদায়ের পর সাজঘরে ফেরেন শফিউল। আদিল রশিদের বলে বিগ শট নিতে গিয়ে স্টুয়ার্ট ব্রডের হাতে মিডঅনে ক্যাচ তুলে দেন ২৯ বলে ২ রান করা শফিউল। সাব্বির-মেহেদির দিকে বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকলেও শফিউলের বিদায়ের কিছু পরেই অভিষিক্ত মেহেদি মিরাজ স্টোকসের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে ব্যক্তিগত ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ২৩৯ রানের মাথায় স্বাগতিকদের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে।
এরপর সাব্বির-তাইজুল জুটি (৯ রান) গড়ার চেষ্টা করে খুব একটা সফল হননি। স্লিপে দাঁড়ানো অ্যালিস্টার কুকের দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফিরতে হয় সাব্বিরকে। স্টোকসের বলে আউট হওয়ার আগে সাব্বির ৩২ বল মোকাবেলা করে তিনটি বাউন্ডারিতে ১৯ রান করেন। একই ওভারে বিদায় নেন শূন্য রানে বোল্ড হওয়া আরেক অভিষিক্ত কামরুল ইসলাম রাব্বি। তাইজুল ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
ইংলিশ পেসার বেন স্টোকস ১০ ওভারে মাত্র ১০ রান খরচ করে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট দখল করেন। তিনটি উইকেট পান মঈন আলী আর দুটি উইকেট নেন আদিল রশিদ। একটি উইকেট নেন গ্যারেথ ব্যাটি।
এর আগে দ্বিতীয় দিন তামিম ইকবালের (৭৮) পর অর্ধশতকের কাছাকাছি গিয়েও সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক মুশফিক। ৭৭ বলে ৪৮ রান করে ৭২তম ওভারে বেন স্টোকসের বলে জনি বেয়ারস্টোর গ্লাভসে ধরা পড়েন। তার আগে ইনিংসের ১৪তম ও নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন মঈন আলী। ইমরুল কায়েসকে (২১) ক্লিন বোল্ড করার পর মুমিনুল হককে (০) বেন স্টোকসের ক্যাচে পরিণত করেন এ ডানহাতি অফস্পিনার। দলীয় ২৯ রানেই দুই উইকেট হারায় টাইগাররা।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯০ রান তুলে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন তামিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৪৪তম ওভারে ১১৯ রানের মাথায় আদিল রশিদের বলে জো রুটের হাতে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ (৩৮)। পরে মুশফিকের সঙ্গে ৪৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তামিম। কিন্তু টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন দেশসেরা এ ওপেনার। ১৬৩ রানের মাথায় শতক থেকে ২২ রান দূরে থাকতে আউট হন। অফস্পিনার গ্যারেথ ব্যাটিং করা ৫৫তম ওভারের চতুর্থ বলটি তার ব্যাট ছুঁয়ে জনি বেয়ারস্টোর গ্লাভসে আটকা পড়ে।
এর আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে সফরকারীরা। টেস্ট অভিষেকেই মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথমদিন শেষে ইংলিশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় সাত উইকেটে ২৫৮। দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯৩ রানে অলআউট হয় ইংলিশরা।
সাদা পোশাকে অভিষেকের প্রথমদিন পাঁচ উইকেটের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখানো মিরাজ নেন ইনিংস সর্বোচ্চ ছয়টি উইকেট। সাকিব নেন দুটি উইকেট আর বাকি দুটি তুলে নেন তাইজুল ইসলাম।
