• Latest News

    পূজার এ বেলা-সে বেলা



    ছেলেবেলায় প্রকৃতি পূজার বার্তা জানান দিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের মাঝে বেজে উঠত ঢাকের বাদ্যি, শুরু হয়ে যেত দিন গোনার পালা । মা, বাবা, আত্মীয়স্বজন—সবার কাছ থেকে কত ভাগে যে কতগুলো জামা পেতাম তার সব পূজার মধ্যে পরা যেন ছিল এক গুরুদায়িত্ব।
    মহালয়ার দিন ভোরবেলায় ঘুম ঘুম চোখে সবাই একসঙ্গে রেডিওতে মহালয়া শোনা থেকে শুরু করে মায়ের সঙ্গে নাড়ু বানানো, ঠাকুর গোনা, পূজার স্টলগুলো থেকে খেলনা হাঁড়ি-পাতিল কেনা, বিজয়াতে প্রণাম করে বড়দের কাছ থেকে পাওয়া চকচকে নোটের আনন্দটা ছিল ভীষণ ।
    শহুরে প্রকৃতি একটু অন্য রকম। হুট করে বোঝা যায় না তার রূপ। দূর থেকে ভেসে আসে না ঢাকের বাদ্যি। মহালয়াটাও মিস হয়ে যায় মাঝেসাঝে। পূজার আগের দিন গোনার সুযোগ আর থাকে না। আমার সঙ্গে সঙ্গে আমার সেই খেলনা হাঁড়ি-পাতিলগুলোর আকৃতিও বড় হয়েছে এখন। সেগুলো দিয়ে আর মিছি মিছি রান্না-রান্না খেলা হয় না। সত্যি সত্যিই রান্না হয় তাতে। চকচকে নোটগুলো পাওয়ার জন্য এখনো মনটা ছটফট করে।
    বাস্তবতার সঙ্গে দায়িত্ব যোগ হয়ে আনন্দটায় ভাটা পড়েছে অনেকখানি। তবু আজও পূজার মণ্ডপগুলোতে গেলে ঢাকের বাদ্যি, ধূপ ধুনোর মাঝে প্রতিমা দর্শন, মিলন মেলা ভুলিয়ে দেয় সব বেদনা।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: পূজার এ বেলা-সে বেলা Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান