২০১৪ সালের মাঝামাঝির কথা। একটা পানকৌড়ির বাচ্চা গাছ থেকে পড়ে গিয়েছিল ঝড়ে। সেটা এলাকার লোকজন আমাদের কাছে দিয়ে যায়। উল্লেখ্য, আমার এলাকায় পাখি শিকার প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় কিছু প্রকৃতিপ্রেমী তরুণের ‘বিহঙ্গ’ নামে একটি সংগঠন আছে। এরপর পানকৌড়িটি উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ মাস খানেক ভরণপোষণ করেছিলাম আমরা।
মাস দুই পরে মোটামুটি সুস্থ হয়ে গেছে পানকৌড়িটি। পাখাগুলোও বেশ বড় হয়েছে। ওড়ার জন্য প্রস্তুত। সেটা নিয়ে বিকেলে সবাই বের হলাম মুক্ত করার উদ্দেশে্য। তখন ছিল চারদিকে বন্যার পানি। একটা ভালো জায়গা দেখে পাখিটি ছাড়া হলো। কিন্তু ছাড়ার পরও হাত থেকে উড়তে চাইছিল না (কিছু ফটোসেশনের সুযোগ দিচ্ছিল হয়তো)।
ফটোসেশন শেষে পানকৌড়িকে পানিতে ছাড়া হলো। পানিতে ছাড়ার পর কিছুক্ষণ গোসল করল। তারপর আশপাশে ঘোরাঘুরি করে আমাদের পায়ের কাছে চলে এল। অন্য কোথাও যাওয়ার কোনোরকম ভাবনা লক্ষ করলাম না আমরা। পুনরায় অপর পাশে পানিতে ছেড়ে দেওয়া হলো। কিন্তু আগের মতোই কিছুক্ষণ ডুবসাঁতার দিয়ে পাশের বাড়িতে গিয়ে উঠল। আকাশে ওড়ার কোনো লক্ষণ নেই। দুই মাস মানুষের সংস্পর্শে থেকে উড়তে ভুলে গেছে পানকৌড়িটি। এখন মানুষ দেখলেও কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে না। উপায় না দেখে পুনরায় আমাদের সঙ্গে নিয়ে চলে আসতে হলো।
কয়েক দিন একই অবস্থায় ছিল। সারা দিন পুকুরে ডুব দিয়ে মাছ ধরত আবার সন্ধ্যায় বাসায় চলে আসত। এর কিছুদিন পর পানকৌড়ির একটা বড় দলের সন্ধান পেয়ে সেই দলে আমাদের পানকৌড়িটাকে ছেড়ে দেওয়া হেলা।
