• Latest News

    তোড়জোড় নেই নারায়নগজ্ঞ সিটি নির্বাচনে

     

    ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ছয় জন। এর মধ্যে সেলিনা হায়াত আইভী যিনি বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি এক লাখেরও বেশি ভোটে ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে পরাজিত করে মেয়র হন। শামীম ওসমান এখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি।
    ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জেলা কমিটির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারকে ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে বসিয়ে দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী প্রার্থী হয়েছিলেন।
    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষে কিংবা নভেম্বরের একেবারেই শুরুতেই তফসিল ঘোষণা করা হবে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের। আর তফসিল অনুযায়ী ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে দুটি নির্বাচন। এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকেই লড়তে পারবেন মেয়র প্রার্থীরা।স্বতন্ত্র হিসেবেও নির্বাচন করা যাবে।
    আসন্ন নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা.সেলিনা হায়াত আইভী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি আবুল কালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে এখন পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনকে গত ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেন। এমপি শামীম ওসমান সভায় উপস্থিত থেকে সেই সমর্থন আরও দৃঢ় করেন।
    এরপর জঙ্গিবিরোধী সমাবেশ হয় সিটি করপোরেশনের ২৭ ওয়ার্ডেই। প্রায় মাসখানেক ধরে চলা ওই সমাবেশে আনোয়ার হোসেন ও তার অনুগামী নেতাকর্মীরা জঙ্গিবিরোধী বক্তব্যের চেয়ে মেয়র নির্বাচনে আনোয়ার হোসেনের পক্ষে সমর্থন কামনা ও আইভীর প্রতি বিষোদাগারকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে হঠাৎ করেই আনোয়ার হোসেনের সেই উদ্যমে ভাটা পড়ে যায়। তিনিও এ ব্যাপারে কথা বলা কমিয়ে দেন। যার প্রতিচ্ছবি মেলে নেতাকর্মীদেরও আচরণেও।
    গত ২৫ আগস্ট বন্দরে ২৪ নং ওয়ার্ডে শোক দিবসের সভায় আনোয়ার হোসেন বলেন,‘‘গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র আইভীকে নির্বাচিত করার জন্য রাতভর ম্যাকানিজম করেছি। সেই মেয়র আইভী আমাকে ‘বেঈমান’ বলেছে। আমিও জনগণের রায় নিয়ে তাকে এর জবাব দিতে চাই।’’
    গত ২২ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিক ১নং ওয়ার্ডে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মতিন মাস্টর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমানসহ অনেক নেতাই বক্তব্য দেন। তারা একসুরে অভিযোগ করেন,  ‘নারায়ণগঞ্জে যে পরিমান উন্নয়নের কথা ছিল আইভী দায়িত্ব পালনের সময়ে সেই পরিমাণ উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে নামমাত্র। আইভী নিজে উন্নয়ন করেন না, শামীম ওসমানকেও করতে দেন না। তাই আপনারা শামীম ওসমানের হাতকে শক্তিশালী করুন।’
    গত ২৮ জুলাই সিটি করপোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী কর্মীসভায় চন্দন শীল বলেন, ‘আর কোনোদিন আইভী আর মেয়র নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবেন না। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আনোয়ার ভাইকে নৌকা প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যাত্রা শুরু করবো।’
    এ ব্যাপারে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছি। কর্মীরা সভায় হয়তো কেউ কেউ তাদের ক্ষোভ মেটায় কারও ওপর। তারাও সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বের পরিবর্তন চায়। তাই হয়তো আমার পক্ষে বলে থাকতে পারে। আর ইতোমধ্যে তৃণমূল আমাকে সমর্থন দিয়েছে।’
    তবে  সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক সভা ও বিভিন্ন সংগঠনের সভায় আনোয়ার হোসেন উপস্থিতি থাকলেও নির্বাচনি উদ্যম কম দেখা গেছে। যদিও ঈদুল আযহার সময়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে আনোয়ার হোসেনের পক্ষে ব্যানার ফেস্টুন দেখা গেছে।
    এদিকে এর মধ্যে সরকার আইভীকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য ১৯১ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ায় এবং সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে আইভীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের সভার পর থেকেই আইভীর পক্ষে নৌকার ইঙ্গিতের রব উঠে যায় নেতাকর্মীদের ভেতরে। যদিও গত ডিসেম্বরে ঘোষিত মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই হয়নি আওয়ামী লীগ পরিবারের এ মেয়রের।
    কমিটি গঠনের পর প্রথম সভায় এমপি শামীম ওসমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী যাদের যোগ্য মনে করেছেন তাদেরই পদায়ন করেছেন।’
    তবে এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের প্রচারণাতেই দেখা মিলছে না মেয়র আইভীর। শহরে নেই কোনও ব্যানার ফেস্টুন। যদিও তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাচ্ছেন উন্নয়ন কাজের তদাকরিতে। আইভী বলেন, ‘আমি এখন উন্নয়ন কাজগুলো শেষ করতে চাই। সে কারণেই নির্বাচন নিয়ে এখনই কিছু ভাবছি না। আমি কাজ করলে আমার কাজের মূল্যায়ন করবে জনগণ। আর নৌকার মালিক হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সময়মত তিনিই নৌকার মাঝি ঠিক করবেন। তাই নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামিয়ে উন্নয়ন কাজের ব্যাঘাত ঘটাতে চাই না।’
    এদিকে সম্প্রতি জাতীয় পার্টি সভা করে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার কথা বলেছে। সে কারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে আনোয়ার হোসেন নৌকা প্রতীক না পেলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেবেন কিনা। কারণ শহরবাসী মনে করছেন, কোনোভাবেই ওসমান পরিবার সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ এবার ছাড়তে নারাজ। আইভীকে ঠেকাতে পরোক্ষভাবে পর্দার আড়ালে সবকিছুই করা হবে।
    এ ব্যাপারে আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,‘আমি কেন জাতীয় পার্টিতে যাবো। আমি নৌকা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবো আশা করছি। আমি দলের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। নেত্রী অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ণ করবেন। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে চাচ্ছেন।’
    আওয়ামী লীগের মধ্যে যখন দুই প্রার্থী নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ তখন বিএনপির ভেতরেও দুই প্রার্থীর মধ্যে চলছে অঘোষিত মনস্তাত্বিক লড়াই। জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হবে সে অজুহাতে নির্বাচনকে সামনে রেখেই জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও সাবেক এমপি আবুল কালাম নিজেদের বলয় শক্তিশালী করার কাজ করে যাচ্ছেন।
    তৈমূর আলম খন্দকার এক মাস আগেও আগামীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করবেন না বলে সাফ জানালেও গত সপ্তাহে তিনি সুর বদলে ফেলেছেন। এখন তিনি বলছেন, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মেয়র প্রার্থী নির্বাচন করবেন। আর আমার নির্বাচনের কোনও ইচ্ছে নেই। তবে গত নির্বাচনে বিএনপির এক লাখ ভোট থাকার পরও কেন আমাকে মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল সে প্রশ্নের উত্তর জানার পর সিদ্ধান্ত নেবো কী করবো।’ তবে তৈমূরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, তিনি নির্বাচনের জন্য ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
    একই অবস্থা আবুল কালামের ক্ষেত্রেও। এ দুইজনের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুইজনই এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ নৌকা যদি আইভীকে দেওয়া হয় তাহলে তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাছাড়া তারা চাচ্ছেন দলের চেয়ারপারসন যেন ডেকে নিয়ে তাদের কারও একজনকে নির্বাচন করতে বলেন। কারণ, তারা নিজেরা অতি আগ্রহী হয়ে জয়-পরাজয়ের দায় নিতে নারাজ।
    এদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইলের পক্ষে শহরে প্রচুর ব্যানার ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। চলছে তার প্রচারণা।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: তোড়জোড় নেই নারায়নগজ্ঞ সিটি নির্বাচনে Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান