তামিরুল ইসলাম মিল্লাত।।
টেকনাফ থেকে ফিরে।।
দক্ষিনাঞ্চলে একটা কথা আছে,"শীতের জন্মমাস হল ভাদ্র" ! কেননা এই এলাকার মানুষের ধারণা বছরের ১ম শীত আসা শুরু হয় এই মাস থেকে। কিন্তু কালের বিবর্তনে এসব কথা এখন অতীত।
কেননা, ভাদ্রমাস শেষ হয়েও গেলেও গত শনিবার থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে একটানা বৃষ্টি। ফলে এখানে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমার থেকে সীমান্তপাড়ি দিয়ে আসা দশ লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য বৃষ্টি যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা'এ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে উখিয়া-টেকনাফে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা চরম দুর্দশায় মানবেতর দিন যাপন করছে। বৃষ্টি হলেও প্রায় ৯০ ভাগ রোহিঙ্গাকেই খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে দিন-রাত। প্রবল বৃষ্টির কারণে নতুন কোন রোহিঙ্গাদের কাছে খাবার না পৌঁছার কারণে তাদেরকে থাকতে হচ্ছে অভুক্ত।
টেকনাফের হ্নীলায় মংডু থেকে আসা নতুন রোহিঙ্গা আব্দুর রশিদ বলেন, " আরা জে গত হাইল্লা লতি আইয়্যু হন হানা ন পাই জে, আগর গুন চালাক জে। বেকিন ইতারা লই ফেলায়। পাদ্দে ইতারা ঘন পার।আরা ন পাই।"
অনুবাদ হল- আমরা গতকাল থেকে এসেও কোন খাবার পাইনি। আগের রোহিঙ্গারা চালাক। তারা সবকিছু নিয়ে নেয়। যারা পায় তারা বারবার পাচ্ছে।
বৃষ্টিতে থাকার অসুবিধার কথাই যেন বলতে চাইল তার মেয়ে হামিদা, " স্যারজি থাহার মাথা নেই!ভিজি-পুরি........"
অনুবাদ- স্যার থাকার জন্য উপরে কোন চালা নেই। ভিজে একাকার.......
একটুকু বলেই নিজের কাপড়ের দিকে দেখালেন। সাথে সাথে ঘুমটা দিয়ে ঢাকতে চাইলেন মুখ,যেন চোখের কোণায় বের হওয়া এক ফোটা জল আড়াল করতে চায়।
শুধু হামিদা নয় এইরকম হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের জন্য এই বৃষ্টি এখন বিষফোঁড়। প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা প্রায়ই এক কাপড়ে বাংলাদেশে এসেছে। এখানে এসে হয়ত নিজের প্রাণটা বেঁচেছে কিন্তু গোসল এবং কাপড় বদল কিছুই না হওয়ায় রোহিঙ্গারা এখন মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুকিতে। এছাড়া ঝড়ে ভিজে রোদে পোড়ায় এদের কাছে ঘেসলেই আসছে মারাত্নক গন্ধ যা সুস্থ্য মানুষকেই অসুস্থ করতে পারে।
অপরদিকে মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুকিতে আছে রোহিঙ্গা শিশুরা। বৃষ্টির পানিতে ভিজে প্রায় রোহিঙ্গা বিশেষতঃ শিশুদের বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। বৃষ্টিপাতে রোহিঙ্গা ঝুপড়ির সব কিছুই ভিজে এবং কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মেডিকেল টিম রোহিঙ্গাদের সেবায় আত্বনিয়োগ করলেও তা দশলাখ রোহিঙ্গাদের জন্য একেবারে পর্যাপ্ত নয়।
অন্যদিকে বৃষ্টিতেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্দ থাকেনি। টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। বিশেষ করে বেশী আসছে শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে।
ভিজে একাকার অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা জানান সহায়-সম্বল ফেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মৃত্যু, আতংক, গুলি, জবাই, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষন ইত্যাদি উপেক্ষা করে মাইলের পর মাইল হেঁটে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছতে পেরে আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি। কিন্ত দুর্গতি যেন আমাদের পিছু ছাড়ছেনা। এখনও মাথা গোঁজার ঠায় হয়নি। অর্ধাহারে অনাহারে সকলেরই কাহিল অবস্থা।
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, যারা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে তারাও শান্তিতে নেই। বৃষ্টিতে ঝুপড়ি ঘরের সব কিছু ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। পাহাড়ের আঠালো কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায় সব কিছু। ঘরে থাকা কাপড়-চোপড়, ঘুমানোর বিছানাসহ সব কিছু ভিজে এবং কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আহমদ বলেন-"বহু মানুষ মিয়ানমার থেকে ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত অবস্থায় এবং কোন খাদ্য বা পানি ছাড়াই এসে পৌঁছাচ্ছে। এত বেশি সংখ্যক আশ্রয় নিয়েছে সবার খাদ্য, আশ্রয়, খাবার পানি এবং মৌলিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে না পারলে দুর্ভোগ আরও অনেক বাড়বে এবং এতে প্রাণহানি ঘটারও আশংকা রয়েছে"।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ সুমন বড়ুয়া বলেন-"অস্থায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মেডিক্যাল কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু করা হয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষ ইপিআই কর্মসূচির অধীনে ইপিআই এবং মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া একদিন থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় আনাসহ শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা প্রদান এবং পোলিও টিকা দেওয়া হচ্ছে"।
কেননা, ভাদ্রমাস শেষ হয়েও গেলেও গত শনিবার থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে একটানা বৃষ্টি। ফলে এখানে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমার থেকে সীমান্তপাড়ি দিয়ে আসা দশ লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য বৃষ্টি যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা'এ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে উখিয়া-টেকনাফে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা চরম দুর্দশায় মানবেতর দিন যাপন করছে। বৃষ্টি হলেও প্রায় ৯০ ভাগ রোহিঙ্গাকেই খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে দিন-রাত। প্রবল বৃষ্টির কারণে নতুন কোন রোহিঙ্গাদের কাছে খাবার না পৌঁছার কারণে তাদেরকে থাকতে হচ্ছে অভুক্ত।
টেকনাফের হ্নীলায় মংডু থেকে আসা নতুন রোহিঙ্গা আব্দুর রশিদ বলেন, " আরা জে গত হাইল্লা লতি আইয়্যু হন হানা ন পাই জে, আগর গুন চালাক জে। বেকিন ইতারা লই ফেলায়। পাদ্দে ইতারা ঘন পার।আরা ন পাই।"
অনুবাদ হল- আমরা গতকাল থেকে এসেও কোন খাবার পাইনি। আগের রোহিঙ্গারা চালাক। তারা সবকিছু নিয়ে নেয়। যারা পায় তারা বারবার পাচ্ছে।
বৃষ্টিতে থাকার অসুবিধার কথাই যেন বলতে চাইল তার মেয়ে হামিদা, " স্যারজি থাহার মাথা নেই!ভিজি-পুরি........"
অনুবাদ- স্যার থাকার জন্য উপরে কোন চালা নেই। ভিজে একাকার.......
একটুকু বলেই নিজের কাপড়ের দিকে দেখালেন। সাথে সাথে ঘুমটা দিয়ে ঢাকতে চাইলেন মুখ,যেন চোখের কোণায় বের হওয়া এক ফোটা জল আড়াল করতে চায়।
শুধু হামিদা নয় এইরকম হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের জন্য এই বৃষ্টি এখন বিষফোঁড়। প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা প্রায়ই এক কাপড়ে বাংলাদেশে এসেছে। এখানে এসে হয়ত নিজের প্রাণটা বেঁচেছে কিন্তু গোসল এবং কাপড় বদল কিছুই না হওয়ায় রোহিঙ্গারা এখন মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুকিতে। এছাড়া ঝড়ে ভিজে রোদে পোড়ায় এদের কাছে ঘেসলেই আসছে মারাত্নক গন্ধ যা সুস্থ্য মানুষকেই অসুস্থ করতে পারে।
অপরদিকে মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুকিতে আছে রোহিঙ্গা শিশুরা। বৃষ্টির পানিতে ভিজে প্রায় রোহিঙ্গা বিশেষতঃ শিশুদের বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। বৃষ্টিপাতে রোহিঙ্গা ঝুপড়ির সব কিছুই ভিজে এবং কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মেডিকেল টিম রোহিঙ্গাদের সেবায় আত্বনিয়োগ করলেও তা দশলাখ রোহিঙ্গাদের জন্য একেবারে পর্যাপ্ত নয়।
অন্যদিকে বৃষ্টিতেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্দ থাকেনি। টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। বিশেষ করে বেশী আসছে শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে।
ভিজে একাকার অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা জানান সহায়-সম্বল ফেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মৃত্যু, আতংক, গুলি, জবাই, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষন ইত্যাদি উপেক্ষা করে মাইলের পর মাইল হেঁটে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছতে পেরে আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি। কিন্ত দুর্গতি যেন আমাদের পিছু ছাড়ছেনা। এখনও মাথা গোঁজার ঠায় হয়নি। অর্ধাহারে অনাহারে সকলেরই কাহিল অবস্থা।
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, যারা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে তারাও শান্তিতে নেই। বৃষ্টিতে ঝুপড়ি ঘরের সব কিছু ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। পাহাড়ের আঠালো কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায় সব কিছু। ঘরে থাকা কাপড়-চোপড়, ঘুমানোর বিছানাসহ সব কিছু ভিজে এবং কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আহমদ বলেন-"বহু মানুষ মিয়ানমার থেকে ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত অবস্থায় এবং কোন খাদ্য বা পানি ছাড়াই এসে পৌঁছাচ্ছে। এত বেশি সংখ্যক আশ্রয় নিয়েছে সবার খাদ্য, আশ্রয়, খাবার পানি এবং মৌলিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে না পারলে দুর্ভোগ আরও অনেক বাড়বে এবং এতে প্রাণহানি ঘটারও আশংকা রয়েছে"।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ সুমন বড়ুয়া বলেন-"অস্থায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মেডিক্যাল কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু করা হয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষ ইপিআই কর্মসূচির অধীনে ইপিআই এবং মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া একদিন থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় আনাসহ শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা প্রদান এবং পোলিও টিকা দেওয়া হচ্ছে"।
