মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে পরপর একাধীক লাশ উদ্ধার ঘটনায় আতংকিত রয়েছে সাধারণ জনগণ। ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের স্বাদ প্রদানে প্রচেষ্টায় রয়েছে প্রশাসন মহল। জানা যায় গত ২৬ আগষ্ট শনিবার থেকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা আবুল কাশেম নিখোঁজ হয়ে যায়। পাওনা টাকা পাওয়ার আশ্বাসে খুটাখালী যাওয়ার পর তার কোন হদিস পাচ্ছেনা বলে জানায় তার পরিবারের লোকজন। এব্যাপারে নিখোঁজ যুবলীগ নেতা আবুল কাশেমের স্ত্রী বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানা যায়, খুটাখালী ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ড শান্তিবাজার এলাকার মৃত শফিউল আলমের পুত্র মাষ্টার এনামুল হক বিগত এক বছর পূর্বে চাকরি দেওয়ার সুবাদে আবুল কাশেমের শালিকা শারমিন আক্তারের কাছ থেকে ২,৬৪,০০০ টাকা নেয়। ওসময় উপস্থিতির সম্মুখে কথা ছিল চাকুরী দিতে না পারলে প্রদানকৃত সমস্ত টাকা ফিরিয়ে দিবে। পরে চাকরী দিতে ব্যর্থ হলে তার কথামতো টাকাগুলো ফেরত চাইলে আজ দেব কাল দেব বলে কালক্ষেপণ করে মাষ্টার এনামুল হক। এ বিষয়ে গত ৯ফেব্রুয়ারী পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষ্যে আবুল কাশেম চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনারদিন গত ২৬ আগস্ট শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দীকে মাষ্টার এনামুল হক তার মোবাইলের মাধ্যমে আবুল কাশেমকে ফোন দেয়। ফোনে বলেন টাকা সব দিতে না পারলেও কিছু অংশ টাকা হলেও দিয়ে দিবে। এবং আসার সময় তার জন্য এক কেজি বাগদা চিংড়ি সাথে নিয়ে যেতে বলেন। পরে পাওনা টাকা পাওয়ার উৎফুল্ল মনোভাবে পার্শ্ববর্তী একজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে এক কেজি বাগদা চিংড়ি কিনে মাষ্টার এনামের কাছে খুটাখালীতে যায়। কিন্তু ওইদিন আবুল কাশেম বাড়িতে আর ফিরে না আসায় তার মোবাইলে বারেবারে ফোন দিয়ে মোবাইল বন্ধ পায় স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মাষ্টার এনামুল হক ও তার সহযোগী ডুলাহাজারা রিংভং দক্ষিণ পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা বেগম আবুল কাশেমকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করে। এমনকি তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও সাফ জানিয়ে দেয়। গত তিনদিন ধরে আবুল কাশেম বাড়ি ফিরে না আসায় ও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পূর্ব পরিকল্পনা মতে উল্লেখিত টাকাগুলো হজম করতে স্বামীকে অপহরণ করেছে বলে দাবী করেন তার স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম। এদিকে আবুল কাশেমকে ওইদিন কোন প্রকার ফোন করেনি বলে অভিযোগ মিথ্যা দাবী করেন মাষ্টার এনামুল হক। তবে তিনি চাকুরী দেওয়ার সুবাদে হুমাইরা আজাদী নামক একজনের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু চাকুরীর ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করেও ব্যার্থ হয়েছে বলে জানায় মাষ্টার এনামুল হক। অপরদিকে এব্যাপারে চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর ঘটনার তদন্তে যায় এসআই আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান 'দীর্ঘদিন ধরে মাষ্টার এনাম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছে। এনামের ভাষ্য মতে তার স্ত্রীই জানে স্বামী কোথায় আছে।'
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: খুটাখালীতে যুবলীগ নেতা ৩দিন ধরে নিখোঁজ
Rating: 5
Reviewed By: Unknown