কক্সবার্তা ডেস্ক:
কক্সবাজারে কোনোমতেই থামানো যাচ্ছে না পাহাড় কাটা। ফলে বৃষ্টি হলেই কোনো না কোনো এলাকায় ঘটছে পাহাড় ধস। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। বর্ষা, গ্রীষ্ম, পাহাড় ধস, কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছে না উক্ত শক্তিশালী চক্র। শহরের কলাতলি, লাইট হাউজ, ঘোনার পাড়া, টার্মিনাল এলাকা, রামুর ১১টি পয়েন্ট রাজারকুল, মিঠাছড়ি, কাইম্যারঘোনা, কচ্ছপিয়া কোনো পয়েন্ট বাদ যাচ্ছে না উক্ত পাহাড় খেকোদের কবল থেকে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা, পাহাড় কাটা বন্ধের নোটিশ, স্থানীয় প্রশাসনের সকল বাধা ডিঙ্গিয়ে দেদার পাহাড় কাটছে চক্রটি। সদর উপজেলা ও রামুর ১৭টি স্পটে ৪০টি পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে ওই চক্র। পাহাড়ের মাটি বিক্রি করে ডাম্পারের মালিক হয়েছে এ সিন্ডিকেটের ৬ জন। সম্প্রতি লাইট হাউজ ও কাইম্যার ঘোনার পাহাড় ধসের কারণে ৪ জনের মৃত্যুর আগে দুই স্পটেই পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করেছে এ চক্র। ফলে পাহাড় ধস ও ৪ জনের মৃত্যুর জন্য উক্ত চক্রকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিনই হরদম চলছে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি। সবচেয়ে বেশি পাহাড় কাটা হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ছনখোলা, পরানিয়াপাড়া, জুমছড়ি, কাঠালিয়ামুরায়। এছাড়া তোতকখালী, খুরুস্কুলের তেতৈয়া, তাহের মোহাম্মদের ঘোনা, মুহসিনিয়া পাড়া, ধাওনখালীর ঘোনার পাড়া, ছনখোলার মালি পাড়া, ডিগিরঘোনার বিট, তোতকখালী বিট, পিএমখালী সদর বিটের ১৭টি স্পটে বিনা বাধায় চলছে এ পাহাড় কাটা। রাত দিন হরদম পাহাড় কাটলেও অজ্ঞাত কারণে বন্ধ করা যাচ্ছে না পাহাড় কাটা। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও মাঠেই টাকার কাছে অসহায় আত্মসর্মপণ করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে। আবার বন বিভাগের নিচু সারির কয়েকজন কর্মকর্তা সিন্ডিকেট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের লোক দেখানো অভিযানের কারনে উল্টো পাহাড় কাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জগলুর রহমান এবং কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের তৎকালীন কর্মকর্তাসহ একটি টিম পিএমখালীর ভয়াবহ পাহাড় কাটা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সিন্ডিকেট প্রধানদের বিরুদ্ধে দু্রত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মোবাশ্বের-ওবাইদুল সিন্ডিকেট তাদের পাহাড় কাটা ১ মাস বন্ধ রেখে পুনরায় পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে। ফলে পুনরায় পাহাড় ধস হয়ে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের কোন বারণ নির্দেশনা তাদের থামাতে পারেনি ৩ বছরেও। মামলা, প্রশাসনের কড়াকড়ি যেন তাদের কাছে মামুলি ব্যাপার। পাহাড় কাটা বন্ধের বিষয়ে পিএমখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কান্তি মজুমদারের বক্তব্য হল, আমি বিজিবি, সদর ইউএনও, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে পাহাড় কাটা বন্ধের জন্য সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো সহযোগিতা পায়নি। পাহাড় কাটা বন্ধে সিন্ডিকেট প্রধান মোবাশ্বেরকে চিটি দিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি বলেও উক্ত কর্মকর্তা জানান। রেঞ্জ কর্মকর্তা আরো জানান, পিএমখালীর মানুষ ভালো না তারা সহযোগিতা করে না। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়া বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, বললেই তো হবে না, চেষ্টা করছি, তাছাড়া আমি টাকা খাই না, তাই পাহাড় কাটা বন্ধ করতে দেরি হচ্ছে। এদিকে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হলেও মাঝে মধ্যে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালালেও আসামি হয় ডাম্পারের শ্রমিকরা। তবে মোবাশ্বের-ওবাইদুল ডাম্পার মালিক সিন্ডিকেট প্রতি মাসে যৌথভাবে টাকা উত্তোলন করে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের ৩ জন কর্মকর্তাকে মাসোহারা দেওয়ার কারনে থামানো যাচ্ছে না তাদের। দীর্ঘ ৩ বছর যাবৎ ডাম্পার দিয়ে পাহাড় কাটায় আলোচিত সিন্ডিকেটের অন্যতম হলো পরানিয়াপাড়ার ওবাইদুল, নয়াপাড়ার নাসির, মোহাম্মদ আলম, কলাতলির সুমন, ডিকপাড়ার আমান, বাংলাবাজারের মনসুর, ঝিলংজা মৌলভীপাড়ার মোবাশ্বের, আমিন কোম্পানি, নয়াপাড়ার আবদুল্লাহ, হারুন, জানার ঘোনার সজল, জয়নালসহ ১৪-১৫ জনের বিশাল সিন্ডিকেট। পাহাড় কাটা বন্ধ বিষয়ে পিএমখালীর চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুর রহিম জানান, পাহাড় কাটা বন্ধে কমিটি করা হয়েছে এবং আমাকে সভাপতি করা হয়েছিল কিন্তু যারা পাহাড় কাটে তারা প্রভাবশালী কোনো বাধা মানে না, তাই আমি কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় সরে গেছি। তবে আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কারো কথা শুনে না। আমি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তা তুলেছিলাম। বনকর্মীদের সামনে থেকেই ডাম্পার নিয়ে মাটি ভর্তি করে প্রতিদিন নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তারা কিছুই করছে না। তার এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও জানান চেয়ারম্যান। উল্লেখ্য, সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা আকরাম আলীর দায়িত্বকালে পিএমখালীতে পাহাড় কাটা নিয়ে ১৯টি মামলা হয়েছে। মামলায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ৬০-৭০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পাহাড় কাটার ২২টি যন্ত্রপাতি এবং ৪টি ডাম্পার আটক করা হয়। jm
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: কক্সবাজারে কোনোমতেই থামছে না পাহাড় কাটা
Rating: 5
Reviewed By: Unknown