এ.এম হোবাইব সজীব:
‘আইজিপির নির্দেশ তোয়াক্কা না করে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে চকরিয়া উপজেলার প্রধান সড়কসহ কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদের আগেই ঈদ বকশিসের নামে পুলিশের ঈদ বাণিজ্যের মহোৎসব চলছে। জানা গেছে, সন্ধ্যা হলেই এক প্রকার এই সব সড়কে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের বাড়িবাড়ির মাত্রা বেড়ে চলছে। তবে এখন কুরবান উপলক্ষে গুরুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা নিচ্ছে পুলিশ। এই সব সড়কের প্রায় ২০ টি স্পটে যানবাহন আটকিয়ে চাঁদাবাজি, যাত্রী হয়রানি চরমে পৌছেছে। এই সব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মাত্রা অতিরিক্ত হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে চকরিয়ায় কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২০ টি স্পটে পুলিশের বাড়িবাড়ি শুরু হয়। তবে এখন কুরবানের ঈদ উপলক্ষে দিনদুপুরে চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে পুলিশ। মহাসড়কে দায়িত্ব পালনের নামে টহলরত পুলিশ পন্যবাহি গাড়ি থামিয়ে চাঁদবাজি, ঢাকা ও চট্টগ্রামগামি বিভিন্ন যাত্রীবাহি যানবাহন আটকিয়ে তল্লাসীর নামে হয়রানি করে আসছে।
বিশেষ করে টেকনাফ সড়কের টেকনাফ থানার টহলদল, হোয়াইক্ষ্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির টহলদল, থাইংখালি হাইওয়ে টহলদল, উখিয়া থানার টহলদল, তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির টহলদল, খাটিমাথা এলাকায় রামু থানা পুলিশের টহলদল।
চট্টগ্রাম মহাসড়কে খরুলিয়া এলাকায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার টহলদল, রামু থানার টহলদল, ঈদগাও পুলিশ ফাঁড়ির টহলদল, মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির টহলদল, চিরিঙ্গা বানিয়ারছড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির টহলদল। এইসব টহলদল সুযোগ বুঝে ভালো একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে উভয় দিকে থাকা আসা যানবাহন আটক করে চাঁদাবাজি করে থাকে।
পরিবহন শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ হোয়াইক্ষ্যং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা রাত ১০টার পর থেকে টেকনাফ- কক্সবাজার মহাসড়কে দূর পাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক থামিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করছেন নগদ টাকা। মোঃ আলম নামে এক ট্রাক চালক জানান, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার সময় হোয়াইক্যং ফাঁড়ি এলাকায় আমার মালবাহী ট্রাকটি থামাতে ইশারা দেন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা। প্রথমে আমার নিকট জানতে চান ট্রাকে কি মাল রয়েছে। কাঁচা মালের কথা শুনে পুলিশ অভিযোগ করে বলেন, ট্রাকে কাঁচা মালের ভেতর ফেনসিডিল ও হিরোইন রয়েছে। পুলিশের মুখে এমন কথা শুনে আমি আঁতকে ওঠি। এরপর আমার নিকট থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেন এবং মালের মালিকের সন্ধান করেন। আমি পুলিশের নিকট কাঁচা মালের মালিক টেকনাফ উপরের বাজারের ব্যবসায়ীর মোবাইল নাম্বার দিলে তিনি মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে আদায় করেন ২ হাজার টাকা । এভাবে ভোর পর্যন্ত চলে তাদের চাঁদাবাজি।
এছাড়াও টেকনাফে বাইরের ট্রাক, লরি, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা,গামী বাস এবং পিকআপ ভ্যান, কুরবানের গুরুবাহী গাড়ি থেকে এই চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়োগ দেয়া ট্রাফিক পুলিশ কাজ বাদ রেখে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশের মহা-পরির্দশক (আইজিপি) শহিদুল হক কুরবানির ঈদে নানা ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষনা দিলেও তার নির্দেশ তোয়াক্কা না করে এই সব চাঁদাবাজি করে আসছে খোদ পুলিশ বিভাগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, চাঁদা না দিলে চলে নানা হয়রানি। পুলিশের এ হয়রানির শিকার হচ্ছেন পরিবহন মালিক, চালক, সাধারণ যাত্রী, এমনকি চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল যাত্রাপথের রোগীরাও। এসব হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের জেলা পর্যাযের কর্তাদের অনুরোধ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছেনা বলেও অভিযোগ উঠেছে।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: কক্সবাজার মহাসড়কে কুরবানির ঈদ বকশিস নামে পুলিশের বাণিজ্য
Rating: 5
Reviewed By: Unknown