• Latest News

    কক্সবাজারে পাহাড় ধসের ঝুঁকি জেনেও সরছে না মানুষ, আবারো বন্যার আশঙ্কা!


    কক্সবার্তা ডেস্ক:
    অবিরাম ভারি বর্ষণের কারণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব পাহাড়ে বসবাস করছে প্রায় ৩ লাখ মানুষ। ঝুঁকি জেনেও তারা নিজ গৃহ ছেড়ে যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন মাইকিং করে সচেতনা সৃষ্টিসহ ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোয় অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করার পরও তারা ফিরে গিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর কবলে পড়ছে। বুধবারও ভোর রাত ৪টার দিকে শহরের কলাতলীর লাইট হাউস এলাকা ও রামু উপজেলার মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা এলাকায় দুই শিশুসহ মারা গেছে চার জন। এসময় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন।
    এছাড়াও গত চার দিনের ভারি বর্ষণে জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকেছে। এ কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার নিম্নাঞ্চলের লাখো মানুষ। অব্যাহত ভারি বর্ষণের কারণে সোমবার (২৪ জুলাই) থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ কারণে কক্সবাজার শহরে সঙ্গে উখিয়া ও টেকনাফের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
    জানা গেছে, প্রায় দুই হাজার পাঁচশ কিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার জেলার একটি বড় অংশ জুড়েই রয়েছে ছোট বড় কয়েক হাজার পাহাড়। এসব পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৩ লাখ মানুষ। পাহাড় ধসে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু ঘর-বাড়ি ভেঙে বিলিন হলেও এখনো একটি বিরাট অংশ ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাস করছে। গত ৭ বছরে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মারা গেছে ২২০ জন।
    কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সমুহকে ৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এসব উপকুলীয় এলাকার মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে উপকুলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে কক্সবাজারে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘটনায় শুধুমাত্র কক্সবাজারে ২০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আরো বৃষ্টিপাত হবে এবং ভয়াবহ পাহাড় ধসের আশংকা রয়েছে।
    কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন,‘সরে আসতে প্রতিদিন মাইকিংসহ নানাভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। বেশ কয়েকবার উচ্ছেদও করা হয়েছে। অভিযান শেষে আমরা অফিসে চলে আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা পাহাড়ে ফিরে যাচ্ছে। সতর্ক বার্তা না মানার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।
    এদিকে, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারি পরিচালক আব্দুল মালেক জানান, বুধবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলী লাইট হাউজ এলাকা এবং রামু উপজেলার মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। রামুর চেইন্দা এলাকায় পাহাড় ধসের কারণে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের সায়মা (৫) ও জিহান (৭) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মাটি চাপা পড়া অবস্থায় তাদের বাবা জিয়াউর রহমান (৩৫) ও মা আনার কলি (২৯) কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা দম্পতিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইভাবে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় অপর পাহাড় ধসের ঘটনায় মোহাম্মদ শাহেদ (১৮) ও সাদ্দাম হোসেন (২৮) এর মৃত্যু হয়। এ সময় দেলোয়ার হোসেন (২৫) ও আরফাত হোসেনকে (৩০) আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও শহরের পাহাড়তলী, উখিয়া, টেকনাফে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আরও ছয় জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
    পাহাড় ধসের পাশাপাশি টানা চার দিনের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার মাতামুহুরী, বাঁকখালী ও রেজু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৩ নদীর পার্শ্ববর্তী শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, উখিয়া ও কক্সবাজার সদরের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঢলের পানিতে ডুবে আছে আভ্যন্তরীণ সড়ক, কালভার্ট, ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য ঘের ও শস্যক্ষেত। বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দী মানুষ।
    চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারি বর্ষণে কক্সবাজার জেলায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্টসহ বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসময় পাহাড় ধস ও পানিতে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে শিশু ও নারীসহ ১২ জনের। tb

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: কক্সবাজারে পাহাড় ধসের ঝুঁকি জেনেও সরছে না মানুষ, আবারো বন্যার আশঙ্কা! Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান