মোঃ নাজমুল সাঈদ সোহেল, চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট ষ্টেশন চত্বরে দিনদুপুরে অনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ জোয়াটি গ্রুপ লিডার আব্দুলহামিদ লেদু পিতাঃ আব্দুল খালেক দুখু কতৃক দিনমজুর কৃষক সিরাজুল ইসলাম পিতাঃ মৃত বদিউল আলম সাং লক্ষ্যারচর,মন্ডলপাড়া নিবাসীকে৩/৭/১৭ইং তারিখ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বেঁধে রেখে উপর্যপুরি মারধর করে জিন্মি পূর্বক নগদ টাকা আদায় করার ঘটনা ঘটে।জনগনের একটাই প্রশ্ন এই লেদুর খুটির জোর কোথায়।
উক্ত বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন,আমি যে জমি চাষ করি তার মালিক রওশন আক্তার,দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত জমিটি চাষাবাদ করে আসছি।লেদু সম্পর্কে রওশন আক্তারের ফুফাত ভাই হয়।প্রতিনিয়ত লেদু নিজেকে উক্ত জমির মালিক দাবি করে আসছিল,জমির দাবি অজুহাত ধরে আমাকে টাকা দিবি নয়তো জানে বাঁচতে পারবি না বলে প্রায় সময় বাজারে আসলে নানা ধরনের হুমকি দমকি দিয়ে থাকে এ ব্যাপার আমার মালিক রওশন আক্তারকে বিষয়টি অবহিত করি।ইতিপূর্বে আমার মালিক রওশন আক্তার নিকটস্থ থানা পুলিশের কাছে বেশ কয়েকবার অভিযোগ দাখিল করেন কিন্তু থানা পুলিশ লেদুকে নোটিশ প্রদান করলে বরাবরের মত লুকিয়ে যাই।তারই রেশ ধরে সংঘবদ্ধ জোয়াটি গ্রুপ নিয়ে ওৎপেতে থাকা লেদু আমি সকালে বাজারে আসলে জোরপূর্বক টেনে হেঁছড়ে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে মারধর করে বেঁধে রাখে মুক্তিপণা হিসেবে চাঁদা দাবী করে।এখবর ছড়িয়ে পড়লে আমার স্ত্রী ও সন্তান আমার জমির মালিক রওশর আক্তারকে অবহিত করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান,লেদু প্রকৃতপক্ষে একজন মদদী ও পেশাদার জুয়াটি এলাকার সবাই এক নামে জানেন তার নৈতিকতা সম্ভন্দে।সারারাত জুয়ার আসরে টাকা পয়সা হারিয়ে ফেলে দেওলিযা হয়ে রাস্তায় ঘুরেবেড়াই পাগলা কুকুরের মত।এমতবস্থায় অভিযুক্ত সিরাজকে বাজারে পেয়ে বসে লেদু উপর্যপুরি মারধর করে একপর্যায়ে একাধিক লোকের সমাগম ঘটে।সবাই তাকে থামানোর চেষ্টা করলে আরো চড়াও হয়ে অশালীন গালিগালাজ করে প্রত্যক্ষদর্শীর উপর ক্ষীপ্ত হয়ে দা লোহার রড দিয়ে দৌড়ায়ে নিয়ে যাই।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন তার হাতে দেশীয় তৈরি কাটা বন্দুক ছিলেন।স্থানীয়রা বিষয়টি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইচারকে অবহিত করলে সে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, একেবারে নিরোত্তর বল্লে চলে।
জমির মালিক রওশন আক্তার এই প্রতিবেদককে জানান,বিষয়টি আমাকে সিরাজের স্ত্রী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাকে জানানোর পর সাথে সাথে চেয়ারম্যানকে অবহিত করি। চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয় আমি কি করব আপনি থানায় ফোন করেন,প্রতিউত্তরে আমি মেয়ে মানুষ তাছাড়া কক্সবাজার সদরে বসবাস করি। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে আপনার করার কিছুই নেই,আমি মেয়ে মানুষ হিসেব কি করতে পারি।অবশেষ আবারো ফোন বাজতে থাকে,রিসিভ করার পর অভিযোক্ত সিরাজের ছেলে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে উঠে খালা আমার বাবাকে বাচাও।আমি উপায় অন্তর না দেখে কয়েকজন সাংবাদিকের সরনাপন্ন হই।তিনি আরো বলেন লেদু হল আমার বাবার বোনের ছেলে।সে আমার ভাগিদার ও না,হকদার ও না।প্রায়সময় আমার চাষাদের মারধর ও আমাকেসহ গালিগালাজ করে থাকে। ইতিপূর্বে আমি বেশ কয়েকবার লেদুর বিরুদ্ধে থানা ও আদালতের আশ্রয় নিয়েছি, তখন সে চুরের মত পালিয়ে বেড়ায়।
বিষয়টি এই প্রতিবেদককে জানানোর পর থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর অবহিত করলে তাৎক্ষণিক মোবাল ডিউটিতে থাকা এস আই অরুণ কুমার চাকমাকে নির্দেশ প্রদান করেন।ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাই লেদু গং। এমতাবস্থায় অভিযুক্ত সিরাজকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করেন।
উপরোক্ত বিষয়ে রওশন আক্তার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দাখিল করেন বলে যানাই।এ বিষয়ে ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী সত্যতা স্বীকার করেন। (প্রতীকী ছবি)
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: চকরিয়ায় দিন দুপুরে রাখাল দিনমজুকে বেঁধে নির্যাতন, চেয়ারম্যানের নিরোত্তর!
Rating: 5
Reviewed By: Unknown