• Latest News

    কক্সবাজারে কোচিং নির্ভর হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা, বেড়েছে ফিস


    ডেইলি কক্সবাজার:
    সরকারের বিধি নিষেধেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না কোচিং বাণিজ্য। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ কোচিং সেন্টারগুলো আগের চেয়ে ফি বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান উন্নত না হওয়ায় বাধ্য হয়ে কোচিং করতে হচ্ছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের রোসানল থেকেও বাঁচতে কোচিং করতে হয়। অভিবাবকদের দাবি, কোচিং বাণিজ্য একটি চক্র। যা থেকে ছেলে-মেয়েদের বের হতে দিচ্ছেন না শিক্ষকরা। ছেলে-মেয়েদের কোচিং ফি দিতেই তাদের আয়ের বেশি টাকা চলে যায়।
    কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমার এক মেয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, আরেক ছেলে কেজি অ্যান্ড মডেল হাইস্কুলে পড়ে। তাদের কোচিং বা প্রাইভেট ফি দিতে হয় প্রতি মাসে তিন হাজার টাকার মতো। এছাড়া মেয়ের জন্য দৈনিক রিকশা ভাড়া বা দুজনের জন্য পকেট খরচ তো আছেই। পরিবারের জন্য ভালো বাজারও করতে পানি না ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ দিতে গিয়ে। এখন নাকি কোচিং ফি ৬০০ টাকা। মেয়ে আগে দুজনের কাছে প্রাইভেট পড়তো। এখন ক্লাসে নাকি আরেক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে সমস্যা হচ্ছে।’
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহজাহান কুতুবী ৩০০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ান এবং কোচিং ফি ৬০০ টাকা। আরেক শিক্ষক মোহাম্মদ আমিন (ইংরেজি) ৪০-৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ান। ফি নেন জনপ্রতি ৫০০ টাকা, আব্বাস আহামদের ফি ৫০০ টাকা, মিন্টু শর্মার ৫০০ টাকা, আরিফুল ইসলামও নেন ৫০০ টাকা। এছাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদুল হোসাইন, আনসারুল করিম, মো. ইকবাল যৌথভাবে কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়ান এবং সর্বোচ্চ ফি নেন ১২০০ টাকা। কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু তৈয়ব (হিসাব বিজ্ঞান) নিজে দুটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। দৈনিক ৫০০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ান এবং জনপ্রতি ১০০০ টাকা ফি নেন। এছাড়া শহরের বায়তুশ শরফ উচ্চ বিদ্যালয়ে অন্তত ৪০ জনের বেশি শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য জমিয়ে রেখেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন শওকত আলম (ইংরেজি), রেজাউল করিম (ইংরেজি), আলাউদ্দিন (ইংরেজি), গিয়াস উদ্দিন (বাণিজ্য বিভাগ), জাহেদ (বাণিজ্য বিভাগ) ও আঞ্জুমান আরা ( গণিত)।
    এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদ প্রফেসর জাফর আহমদ বলেন, ‘প্রাইভেট এখন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এটা দুঃখজনক। স্কুলে লেখাপড়ার মান উন্নত নয় বলেই শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট নির্ভর হয়ে পড়ছে। আবার অভিভাবকদের মাঝে একটি অসম প্রতিযোগিতা কাজ করে, যার ফলে তারাও প্রাইভেট ব্যবসাকে উৎসাহিত করছে। সরকার অনেক চেষ্টা করছে তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখছি না।’
    কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছালেহ আহাম্মদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর সুফল সাধারণ মানুষের হাতে অবশ্যই কোনো না কোনো সময় পৌঁছাবে। যারা প্রাইভেট পড়ায় তারা স্কুলে আসে বিশ্রামের জন্য। তারা শ্রেণিকক্ষে পড়া আদায় করে না বরং অনেক সময় অভিযোগ আসে প্রাইভেটে আসার জন্য প্রস্তাব দেন।’ শিক্ষা অধিদপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
    দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘কোচিং নিয়ে এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা আসেনি। ঢাকাতে অভিযান শুরু হয়েছে, আমাদের কাছে নির্দেশনা আসলে অভিযান শুরু হবে।’
    সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকরা সম্মানিত মানুষ। তারা যদি নিজের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে না বোঝে তাহলে কেউ তাদের বোঝাতে পারবে না। শিক্ষকদের বোঝা উচিত বর্তমান সময়ে যে বেতন ভাতা তারা ভোগ করছেন তা পৃথীবির অনেক দেশের শিক্ষকরা পান না। আমাদের দেশের অনেক মানুষ তিন মাসে যা আয় করে শিক্ষকরা তা এক মাসে বেতন পান। তবুও যদি শুধুমাত্র টাকার জন্য পাইভেট বা কোচিং করতে হয় তাহলে দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: কক্সবাজারে কোচিং নির্ভর হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা, বেড়েছে ফিস Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান