• Latest News

    পুলিশের অভিযোগ বাক্স হয়ে গেল ‘দানবাক্স’


    কক্সবার্তা ডেস্ক: নগরীর চকবাজার থানার গুলজার মোড়। মতি টাওয়ারের সামনে লাগানো চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) অভিযোগ বাক্স। সেই বাক্সে থাকার কথা খামভর্তি কিংবা কাগজে লেখা অভিযোগ। কিন্তু না। সেই বাক্সে পড়ে আছে কয়েন আর টাকার নোট।
    রোববার দুপুরে দৃশ্যটি দেখে জানতে চাওয়া হয় চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নূরুল হুদার কাছে। হেসে ওসি বলেন, আসলে মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারছে না। এটা কি মার্কেটের কোন বিষয়ে অভিযোগ করতে হবে না কি যে কোন ধরনের অভিযোগ করা যাবে, সেটা বুঝতে পারছে না। আর ‍অভিযোগ বাক্সটাও দেখতে অনেকটা দানবাক্সের মতো। সেজন্য সাধারণ মানুষ ভুল ভাবছে।
    এই ‍অবস্থা শুধু চকবাজারে নয়।  নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা অভিযোগ বাক্সই এখনও পড়ে আছে খালি। তবে মতি টাওয়ারের সামনের বাক্সের মতো অন্য কোথাও টাকা জমা পড়েছে কি না সেটি জানা যায়নি।
    সূত্রমতে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে দ্রুত সমাধানের জন্য বন্দরনগরীতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছে নগর পুলিশ। গত ২২ মে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোখলেছুর রহমান অভিযোগ বাক্সের উদ্বোধন করেন।
    নগরীর ১৪২টি বিট পয়েন্টের প্রতিটিতে একটি করে সিএমপির পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে মোটা প্লাস্টিকের তৈরি স্বচ্ছ এই অভিযোগ বাক্স। সিএমপির অপরাধ বিভাগের চারটি জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চারজন উপ-কমিশনার (ডিসি) এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের এসব অভিযোগ বাক্স নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।
    নগরীর দক্ষিণ জোনের অধীনে কোতয়ালি থানা এলাকায় ১৫টি, বাকলিয়ায় ৮টি, চকবাজার ও সদরঘাট থানায় ৭টি করে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
    উত্তর জোনের অধীনে খুলশীতে ৮টি, পাঁচলাইশে ৬টি, চান্দগাঁওয়ে ১২টি এবং বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় ৭টি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
    পশ্চিম জোনের ডবলমুরিংয়ে ১২টি, পাহাড়তলীতে ৫টি, আকবর শাহ থানা এলাকায় ৬টি এবং হালিশহরে ১৫টি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
    এছাড়া বন্দর জোনের উপ-কমিশনার থানা হিসেব না করে ৩২টি বিট পয়েন্টে ৩২টি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছেন।
    নগরীর জামালখানে প্রেসক্লাবের সামনে লাগানো হয়েছে একটি অভিযোগ বাক্স। রোববার সকালে সেই বাক্সে দুটি খাম দেখা গেছে।
    নগরীর কোতয়ালি মোড়, সদরঘাট কালিবাড়ি মোড়, চক সুপার মার্কেটের সামনে স্থাপন করা অভিযোগ বাক্সগুলো খালি দেখা গেছে। তবে কোতয়ালি থানা সবার শেষে গত সপ্তাহে অভিযোগ বাক্সগুলো স্থাপন করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
    এদিকে বাক্স স্থাপনের প্রায় দুই মাস হতে চললেও এখনও পর্যন্ত সেখানে জমা পড়া কোন অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পাননি বলে জানিয়েছেন চার উপ পুলিশ কমিশনার।
    জানতে চাইলে উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আব্দুল ওয়ারিশ খান বলেন, অভিযোগ বাক্সটা নিয়ে আসলে সেভাবে প্রচার হয়নি। মানুষ এখনও জানতেই পারেনি। মানুষের অভিযোগ জানানোর পদ্ধতিটাকে সহজ করার জন্য যে এটা লাগানো হয়েছে সেটা মানুষকে বোঝাতে হবে।
    উপ পুলিশ কমিশনার (বন্দর) হারুনুর রশিদ হাজারী বাংলানিউজকে বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে চান না। আবার অনেকে নাম-পরিচয় গোপন করে তথ্য দিতে চান। তাদের জন্য বাক্সগুলো লাগানো হয়েছিল। তবে কোন অভিযোগ এখনও আমি পাইনি।
    উপ পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) ফারুকুর রহমান বলেন, অভিযোগ বাক্সে সেভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে।
    উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগ বাক্সই যে অভিযোগ জানানোর একমাত্র পদ্ধতি সেটা নয়। এটা হচ্ছে অনেক অপশনের একটা। অভিযোগ জানানোর জন্য অনেক পদ্ধতিই খোলা আছে। অ্যাপস, ফেসবুক, ই-মেইল, হেল্পলাইনের মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাচ্ছে। তবে সবাই তো আর সেগুলো ব্যবহার করবে না। যারা পারবে না তাদের জন্য একটা পথ হচ্ছে অভিযোগ বাক্স।
    ‘মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। রোজার সময় একজন আমাদের কমিশনার স্যারের মোবাইলে ফোন দিয়েছেন। অভিযোগ কি ? টিকেট কাউন্টারে ১০ টাকা বেশি নিচ্ছে। সুতরাং বাক্সে অভিযোগ না পড়লেই যে সব শেষ এটা ভাবা উচিৎ হবে না। ’ বলেন মোস্তাইন হোসেন

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: পুলিশের অভিযোগ বাক্স হয়ে গেল ‘দানবাক্স’ Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান