• Latest News

    কক্সবাজার কারাগারে মোটা অংকের বাণিজ্য, হাসপাতালটি এখন ইয়াবার ঘাটি


    কক্সবার্তা ডেস্ক:
    নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও বাণিজ্যের বেড়াজালে আটকা পড়েছে কক্সবাজার কারাগারের সরকারি নিয়মনীতি। কারাগারে দৈনিক, সপ্তাহিক ও মাসিক মোটা অংকের বাণিজ্য করে যাচ্ছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। হাজতি ও কয়েদিদের চেহারা দেখতেই প্রতি জনের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১২শ টাকা করে। অভিযোগ রয়েছে, জেলার ও ডিপুটি জেলারের সহযোগিতায় কারাগারে রমরমা এই বাণিজ্য করছেন কারা সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কারাগারের হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দখলে। মোটা অংকে হাসপাতালের সিট কিনে ‘রাজার হালে’ কারাভোগ করছেন তারা। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চাহিদা পূরণ করতে না পেরে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালের মেঝেতে জায়গা হয়েছে।
    সদ্য কারা ফেরত শহরের টার্মিনাল এলাকারিএক ব্যক্তি জানান, নগদ অর্থ ছাড়া কারাগারে ভেতরে পানিও মিলে না। তবে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোনো কিছুর অভাব নেই। যার টাকা আছে, জেলখানায় তার জন্য সব কিছু সম্ভব।
    জেল ফেরত কামাল উদ্দিন ও নাছির উদ্দিন জানান, কারাগারের হাসপাতাল ও নিত্যদিনের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে চলছে হরিলুট। সরকারিভাবে একজন কয়েদি ও হাজতির যে পরিমাণ খাদ্য বরাদ্দ আছে তার অর্ধেকও পাচ্ছেন না তারা।
    কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৩৮২ জনের। কিন্তু কারাগারটিতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজারের বেশি হাজতি ও কয়েদি রয়েছে। পাশাপাশি কারাগারের অধীনে হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৩০ জনের। বর্তমানে সেখানে রয়েছে শতাধিক।
    কারাগার থেকে মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসা একাধিক কয়েদি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমান জেল সুপার হাসপাতাল ও কারাগারের সিট নিয়ে গরুর হাটের মত ব্যবসা করছেন। হাসপাতালে থাকা কয়েদিদের প্রতি মাসে দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। এছাড়া হাসপাতালে কোনো রোগী নাই বললেই চলে। সিটগুলো টেকনাফের বড় বড় ইয়াবা গডফাদাররা কিনে নিয়েছেন।
    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার জেলা কারাগারের প্রতিটি সেক্টরে গ্রাস করেছে নানা অনিয়ম দুর্নীতিসহ স্বেচ্ছাচারিতা। হাজতি ও কয়েদিদের দেখার ঘর, নিত্যদিনের খাবার, সাজাপ্রাপ্তদের কাজকর্ম বন্টন, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সিট ব্যবসা, কারাগারের ভেতরে পিসি নামের দোকান, গোসল ও খাবার পানির সরবরাহ ব্যবসাসহ আরও একাধিক সেক্টর নিয়ে প্রতিদিন ও প্রতিমাসে রমরমা নানা বাণিজ্য করে যাচ্ছে কারাকর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন সাক্ষাৎ বাণিজ্য দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। অন্যান্য সেক্টর থেকে প্রতিমাসে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মতো বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
    এ ব্যাপারে কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ আখন্দ সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। cd

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: কক্সবাজার কারাগারে মোটা অংকের বাণিজ্য, হাসপাতালটি এখন ইয়াবার ঘাটি Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান