• Latest News

    ভাতের মাড় দিয়ে মোবাইল চার্জ, লাইট-ফ্যানও চলবে


    তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : ভাতের মাড়ে রয়েছে প্রচুর শর্করা। যেখানে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। তবে আমরা চাল থেকে ভাত সেদ্ধ হয়ে গেলে সেই উপকারী মাড় ফেলে দেই।
    এমনকি গৃহপালিত প্রাণী গরুকে খাওয়াই, তাও নিজেরা খাই না। তবে ভাতের মাড় যে কতোটা উপকারী আর তা থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও সম্ভব, সেটি দেখালেন নরসিংদী বিজ্ঞান কলেজের ছাত্র মেহেদী মিয়া।
    ঢাকার আগাঁরগাওয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে চলছে জাতীয় বিজ্ঞান মেলা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। দেশের ৬৪ জেলা খেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন এ উদ্ভাবনী মেলায়।
    নরসিংদী থেকে জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়ে ঢাকায় এসেছেন মোর্শেদ মিয়া। তার প্রজেক্টের নাম- ‘ভাতের মাড় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন’।
    মোর্শেদ বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভাতের মাড়কে ইলেক্ট্রোলাইসিস করে কপার এবং জিংকের পাত ব্যবহার করে স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
    ভাতের মাড় ব্যবহার করে ১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন তিনি।
    এজন্যে ৮টি গ্লাস, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঢ় ভাতের মাড়, ৮টি কপার ও ৮টি জিংকের পাত এবং কপারের তার লাগবে। ৮টি গ্লাসে ৮টি জিংক ও কপারের পাত বসাতে হবে। পরের গ্লাসের জিংকের পাতের সঙ্গে আগের গ্লাসের কপারের তারের সংযোগ দিতে হবে। এভাবে শেষ গ্লাসের কপারের পাত থেকে আসা তার আর প্রথম গ্লাসের জিংকের পাতের সঙ্গে চার্জার বা ফ্যানের পয়েন্ট সংযোগ করলেই বর্তনি ঘুরতে শুরু করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
    এভাবে একটি মোবাইল চার্জ দেওয়া ছাড়াও একটি লাইট জ্বালানো যাবে এবং মাঝারি সাইজের ফ্যান ফুল স্পিডে চলবে।
    মোর্শেদ বলেন, গ্লাসগুলো যেন ২০০ গ্রাম ভাতের মাড় ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন হয়। এ ১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ দিয়ে ০.০৩ কিলোওয়াট পার আওয়ার বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। যা দিয়ে ১টি ডিসি ১২ ভোল্ট পাখা ও ১টি ডিসি ১২ ভোল্ট এলইডি বাল্ব ব্যবহার ছাড়াও ১টি চার্জার দিয়ে আনুমাণিক ২ ঘণ্টা মোবাইল চার্জ করা যাবে।
    যদি গ্লাস চেম্বার বাড়ানো হয়, তবে বিদ্যুতের ভোল্টেজ বেশি পাওয়া যাবে। তখন ফ্রিজ-টিভিও চালানো যাবে বলেও জানান  এই ক্ষুদে উদ্ভাবক।
    মোর্শেদ আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাট আমাদের একটি সাধারণ সমস্যা। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে ‘ভাতের মাড় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন’ প্রকল্পটি একটি আদর্শ সমাধান হতে পারে’।
    তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পটির মাধ্যমে আমরা ভাতের মাড় ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যুৎ পেতে পারি। যা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে’।
    ‘যে ভাতের মাড় সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়, তা এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহারের পর ভাতের মাড়ের অবশিষ্ট অংশ জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারি’।
    এছাড়া একই বর্তনি বার বার ব্যবহার করা যায় বলেও জানান মোর্শেদ।
    সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভাতের মাড়ের অপচয় না করে ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করার ইচ্ছে রয়েছে মোর্শেদ মিয়ার।nb

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ভাতের মাড় দিয়ে মোবাইল চার্জ, লাইট-ফ্যানও চলবে Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান