• Latest News

    সাবধান! মুড়িতে মিশ্রিত হচ্ছে বিষাক্ত ইউরিয়া


    কক্সবার্তা ডেস্ক:
    খোলায় মাত্র চার-পাঁচ মিনিট চাল গরম হওয়ার পর ছিটিয়ে দেওয়া হয় ইউরিয়া মিশ্রিত পানি। ১৫ মিনিট পর জ্বলন্ত চুলার খোলা থেকে চাল উঠিয়ে রাখা হয় ময়লা স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে। মেঝেতে সোডিয়াম কার্বনেট ও সালফার মিশিয়ে চাল উত্তপ্ত বালুর চুঙায় ঢেলে দিলেই মুহূর্তে মুড়মুড় করে ফুটে তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু ধবধবে সাদা মুড়ি। আর এই মুড়ি-ই প্রতিদিন রমজানের ইফতারের প্রধান খাবার হিসেবে আমরা গ্রহণ করি। এমন প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন গাজীপুরের শ্রীপুরে ডজনখানেক কারখানায় বিপুল পরিমাণ বিষের মুড়ি তৈরি হচ্ছে। মানুষ নিজের অজান্তেই মুখে তুলে নিচ্ছে বিষ! সরেজমিন মুড়ি তৈরির ছয়টি কারখানায় গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। এসব কারখানায় তৈরি নরম ধবধবে সাদা মুড়ি হাতবদল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে। আর মুড়ি খেয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় ডজনখানেক মুড়ি তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। সারা বছর মুুড়ির চাহিদা থাকলেও পবিত্র রমজানে এ চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে বিষাক্ত কেমিক্যালের পরিমাণও। মুড়ি তৈরির কারখানার শ্রমিকরা জানান, রাত-দিন চুলা জ্বলন্ত থাকায় কারখানায় কক্ষটিও উত্তপ্ত থাকে। ফলে শ্রমিকদের ঘামে কক্ষের পুরো মেঝে থাকে স্যাঁতসেঁতে অবস্থা। ময়লা-নোংরা খোলা মেঝে থেকেই প্যাকেটজাত মুড়ি গুদামজাত করা হয়। একটি কারখানার মালিক আবুল কালাম বলেন, তার কারখানায় তৈরি মুড়িতে কোনো বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আকলিমা ফুড প্রোডাক্টের এক শ্রমিক জানান, ‘সব কারখানায় একইভাবে মুড়ি তৈরি হচ্ছে। সার মেশাইন্যা পানি ছিডাইয়া চাইল গরম কইরা খোলাততে নামানোর পরে কারিগররা চাইল একটু ঠাণ্ডা কইরা সোডার লগে আরও একটা পাউডার মিশাইয়া চাল চুঙায় ঢালে। ’ তবে শ্রমিকরা মুড়ি উত্পাদনকালে চালে শুধু সোডা মেশানোর কথা স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুড়ি তৈরির এক কারিগর বলেন, মুড়ির চালে কেমিক্যাল মেশানো হলে মুড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। এতে ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ জন্য আমরা কেমিক্যাল মিশ্রণ করে তা মুড়িতে মিশাই। জানা গেছে, মুড়িতে দুই দফা বিষাক্ত কেমিক্যালের মিশ্রণ ঘটে। ধান থেকে চাল তৈরির পর চালকল মালিকরা তাতে সালফার মিশিয়ে মুড়ি তৈরির চাল কারখানা মালিকদের কাছে বিক্রি করে। দিনের পর দিন এ চাল কারখানার গুদামে পড়ে থাকে। কেমিক্যাল মিশ্রিত থাকায় মুড়ি উত্পাদনকালে চাল উপযোগী থাকে। ফের মুড়িকে আরও আকর্ষণীয় করতে কারখানা মালিকরা ইউরিয়া, সোডিয়াম কার্বনেট ও সালফার মেশান। মুড়ি তৈরির বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে অভিন্ন চিত্র। শ্রীপুর মিজানুর রহমান খান মহিলা ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহফুজুল হক বলেন, কারখানায় ইউরিয়া ছাড়াও চালে মেশানো হয় হাইড্রোজ। এটা সোডিয়াম কার্বনেট নামে পরিচিত, যা মূলত খাবার সোডা। বেশি পরিমাণ এটি ব্যবহারের কারণে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। গাজীপুরের সিভিল সার্জন সৈয়দ মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, কেমিক্যাল মিশ্রিত মুড়ি খেলে তাত্ক্ষণিক বদহজম, বমি বমি ভাব ও মাথাধরাসহ শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ইউরিয়াতো আমাদের খাবারের কোনো উপাদান নয়। এটি খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে স্টমাকের ক্ষতি করে। শুধু তাই নয়, এটি রক্তে মিশে গিয়ে কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। pb

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: সাবধান! মুড়িতে মিশ্রিত হচ্ছে বিষাক্ত ইউরিয়া Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান