কক্সবার্তা ডেস্ক :
রাজশাহীর তানোরে গ্রাম্য সালিশে জুতাপেটা করায় আকতার হোসেন ঘড়া (৩০) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের সিঁধাইড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আকতার উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের ভাগনা গ্রামের মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে।
পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী সিধাইড় গ্রামের শমসের আলীর ছেলে তোতা মিয়ার সঙ্গে আকতারের মারধরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তোতা বাদী হয়ে সরনজাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেকের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের দুদিন পর ২৯ অক্টোবর রাতে সিধাইড় গ্রামের জনকল্যাণ সমিতির কার্যালয়ের সামনে সালিশ বৈঠক বসে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সরনজাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক। এতে এলাকার গ্রাম্য মাতব্বররাও উপস্থিত ছিলেন।
সালিশে উভয়পক্ষের কথা শোনার পর আকতার হোসেন ঘড়ার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সেইসঙ্গে ১০ ঘা জুতা, ১০ বার কান ধরে ওঠবস ও নিজের থুথু মাটিতে ফেলে তা জিহ্বা দিয়ে চেটে খাওয়ার রায় দেন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক। বাধ্য হয়ে চেয়ারম্যানের এমন রায় মেনে নেন আকতার।
নিহতের পরিবারের দাবি, সালিশে প্রকাশ্যে এমন শাস্তির পর নিজেকে মেনে নিতে পারছিলেন না ঘড়া। এ অবস্থায় গ্রামের লোকজন ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলা ও চলাফেরা একেবারেই কমে যায়। এক পর্যায়ে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় ৩০ অক্টোবর আকতার গ্রামের এক চায়ের দোকানে চা খেতে গেলে 'চেয়ারম্যানের ইন্ধনে' তোতা ও তার ভাই শামিমসহ ৮/১০ জন ব্যক্তি ঘড়াকে মারধর করে।
এতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়।
নিহতের স্ত্রী হিরা বিবি জানান, মামলার পর প্রতিপক্ষের লোকজন প্রতিনিয়ত আকতারকে মেরে ফেলার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। সেইসঙ্গে সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্যে শাস্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে লাঞ্ছিত করত। আকতার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি।
হিরা বিবি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজনের প্রতিনিয়ত হুমকির ভয়ে ও সালিশ বৈঠকে লাঞ্ছনার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তার স্বামী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আবদুল মালেক বলেন, শালিস বৈঠকে বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বিচারকরা রায় দেন। সালিশের রায় মোতাবেক তাকে শাস্তি দেয়া হয়।
ওই ঘটনার পর কয়েক মাস অতিবাহিত হয়েছে। কাজেই ওই সালিশের কারণে আকতার আত্মহত্যা করেননি বলে দাবি করেন এই জনপ্রতিনিধি।
কিন্তু সালিশ বৈঠকে এ ধরনের রায় দেয়া যায় কিনা- এমন প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যান চেয়ারম্যান।
এ ব্যাপারে তানোর থানার ওসি মির্জা আবদুস সালাম জানান, আকতার হোসেন ঘড়ার আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে, তদন্ত চলছে।
গ্রাম্য সালিশে এ ধরনের রায় দিয়ে শাস্তি দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। jo
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: সালিশে জুতাপেটা করায় যুবকের আত্মহত্যা!
Rating: 5
Reviewed By: Unknown