• Latest News

    কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি


    আবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার :
    সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ করে মহাসড়কের মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম করছে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় ‘ওভারলে’ (আস্তরণ) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নামে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৯ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও সড়কের যে অংশের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ওই অংশে কোন খানা-খন্দকের চিহ্নও নেই। তারপরও ওই কাজে সরকারের এতো বিশাল অংকের টাকা বরাদ্দ দেয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি অক্ষত সড়ক উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ হরিলুট বন্ধ করতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তদন্ত করলে অনিয়মের সত্যতা খুঁজে পাবে।
    সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী,উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা চলমান উন্নয়ন কাজের দেখভালে নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে সড়ক বিভাগের একজন কার্যসহকারী সার্বক্ষণিক কাজের তদারকি করছেন। ফলে উর্ধতন কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমত যেনতেনভাবে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। চকরিয়া হারবাং ইনানী রিসোর্টের সামনে চলমান প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অক্ষত সড়কের উপরিভাগে সিডিউল বহির্ভূত নিম্নমানের বিটুমিন মিশিয়ে তার উপর প্রতিবর্গ ফুটে যে পরিমাণ খোয়ার মিশ্রনে ওভারলে’র কাজ করার কথা সেই নিয়মগুলো সড়কের উন্নয়ন কাজের কোথাও মানা হচ্ছে না। সড়কে স্থান ভেদে উপরের স্তরে গড়ে ৫০ মিলিমিটার পুরত্ব বজায় রাখার কথা থাকলেও এই ক্ষেত্রেও অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। ওভারলে কাজে চার ধরণের ইন্ডিয়ান পাকুয়া পাথরের সাথে মিশ্রন ঘটিয়ে প্রতি বর্গফুটে যে পরিমাণ বিটুমিন সংমিশ্রিত পাথর বসানোর কথা, সিডিউলের সেই নিয়ম কোথাও মানা হচ্ছে না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডিবিএস (ডাবল বিটুমিন ওয়্যারিং কোর্স সার্ফেসিং)’র কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো সড়কের বেশির ভাগ অংশ রক্ষিত আছে। তারপরও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা অক্ষত সড়কের উন্নয়নের নামে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের বরাদ্দ এনে বেশীরভাগ টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন। এলাকাবাসী জানান, সড়কের দু’পাশে হার্ড সোল্ডারের কাজগুলো আগেই করা ছিল। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হার্ড সোল্ডারের ৮শ’ মিটারের কাজ করেছেন বলে যে দাবি করেছেন তা সঠিক নয়। গত ডিসেম্বর মাসে কাজটি শুরু করে চলতি মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা এবং জুন মাসে সরকারি কোষাগার থেকে বিলের টাকা উত্তোলনের আয়োজন রয়েছে। মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকার সড়ক উন্নয়নের জন্য যে পরিমাণ সরকারি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার অর্ধেক টাকাও উন্নয়ন কাজে ব্যয় হবে না বলে ধারণা করছেন স্থানীয় অভিজ্ঞজনরা। একাধিক সংস্থার স্থানীয় বেশ ক’জন ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, ওভারলে প্রকল্পের আওতায় নিন্মমানের উন্নয়ন কাজের কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে এসবকাজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তারা মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজটি সিডিউল মোতাবেক টেকসইভাবে আদায় করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
    এব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়–য়া সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, উন্নয়ন কাজে কোন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। হার্ড সোল্ডার সড়কের সব জায়গায় দিতে হচ্ছে না, যেখানে দেয়া প্রয়োজন সেখানে দেয়া হচ্ছে। আজিজনগর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের ২৮ কিলোমিটার অংশ মেরামতের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সার্ভে রিপোর্টে পাশ হয়েছে চকরিয়ার ১৯ কিলোমিটার সড়ক। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বাজার থেকে উত্তরে হারবাং ইউনিয়নের আজিজগর জাহালিয়ার ঢালা পর্যন্ত ও দোহাজারী অংশে সড়কের বিভিন্ন অংশের ১৫ কিলোমিটার ও কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ উপ-বিভাগের ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটারসহ মোট ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে ওভারলে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিডেট ও হাতেম বিল্ডার্স লিমিটেড নামের একটি জয়েন্টভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান । তিনি আরো জানান, চলমান কাজের মধ্যে ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার ওভারলে, ১৮০ মিটার ড্রেইন, ৩৫টি সাইন সিগনাল, বিভিন্ন অংশে গাইড ওয়াল, হার্ড সোল্ডারের উপর কার্পেটিংয়ের কাজ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে এবং । বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের নতুন প্রযুক্তির আদলে সড়ক সংস্কার কাজ হচ্ছে। কোথাও উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দূর্ণীতি হলে আমি তা সরজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবো।c

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান